মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান

আর মাত্র কয়েক দিন পরেই কুরবানির ঈদ। কুরবানির ঈদ মুসলমানদের একটি বড় দ্বীনি উৎসব। একটি আনন্দমুখর ইবাদত। যার সাথে মিশে আছে মুসলিমদের আত্মত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও নিজকে উৎসর্গ করার মন মানসিকতা। কুরবানির মাধ্যমে মহান আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে থাকে প্রেম, ভালোবাসা, আল্লাহভীরুতা এবং নেক উদ্দেশ্য। কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
ইবাদতের মূলকথা হল আল্লাহ তাআলার আনুগত্য এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করা। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য কুরবানি দেওয়া ওয়াজিব।

কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় কিছু সতর্কতা না মানলে এক দিকে যেমন স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়বে , তেমনি ঈদের খুশিও নষ্ট করে দিবে।

কোরবানির পশু জবাইয়ে যে সকল ঝুঁকি হতে পারেঃ

√ হাড়,মাংস কাটার সময় শরীরের কোন অংশ বা আঙ্গুল কেটে যেতে পারে।

√ দীর্ঘ সময় মাংস কাটাকাটি করলে হাতে ফোসকা পড়তে পারে।

√ হঠাৎ করে গরু,মহিষ, জবেহ কারার জন্য টানাটানি, চামড়া আলাদা করা, মাংস, হাড় কাটাকাটি করলে হাত-পা বা পুরো শরীর ব্যথা হতে পারে।

√ কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় চোখে রক্ত গিয়ে ইনফেকশন হতে পারে।

√ পশু সঠিকভাবে জবাই না করলে বা অর্ধ জবাই হলে পশু ওঠে দৌড় দিতে পারে এবং কেউ আহত হতে পারে।

√ মাংস,হাড় কাটার সময় হাত ফসকে চাপাতি, দা, কুড়ালের কোপ শরীরে লেগে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

√ পশু জবাইয়ের পর রক্ত ক্ষরণের সময় না দিয়ে চামড়া ও মাংস কাটলে রক্ত মিশ্রিত মাংস খেলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে ।

√ মাংস কাটার জায়গা ও ছুরি, চাপাতিসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

√ পশু মরার আগেই চামড়া আলাদা করলে পশু হাত,পা ছুড়াছুঁড়ি করে কাউকে আহত করতে পারে।

√ কুরবানির মাঠে ছোট ছোট বাচ্চা ছেলে মেয়ে নিয়ে যাবেন না তারা ভয় পেতে পারে বা আহত হতে পারে

কোরবানির পশু জবাইয়ে সতর্কতা

√ পশু জবহের আগে ও পরে এবং মাংস কাটার আগে পরে অবশ্যই সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে

√ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক পরতে হবে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

√ জবেহ করতে দক্ষ, এমন কাউকে দিয়ে কুরবানির পশু জবেহ করাতে হবে।

√ চামড়া আলাদা, মাংস, হাড় কাটাকাটিতে দক্ষ এমন কাউকে কাজে লাগাতে হবে।

√ হাতে যেন ফোসকা না পড়ে সে জন্য সুতি কাপড় দিয়ে হাত পেঁচিয়ে কাটাকাটি করতে হবে।

√ শরীরের কোন অংশ যদি কেটে যায়, তবে প্রথমে রক্ত বন্ধ করে ক্ষতস্থানের আশেপাশে ভালোভাবে হেক্সিসল দিয়ে পরিষ্কার করে নিবেন। আর ক্ষতস্থানে এন্টিসেপ্টিক মলম লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে নিতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

√ চামড়া আলাদা ও হাড় মাংস কাটার সময় তাড়াহুড়া করা যাবে না এতে যে কোন ধরনের দূর্ঘটনা হতে পারে।

√ পশু জবাইয়ের পর রক্তক্ষরণের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে এবং মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে চামড়া আলাদা করতে হবে।

√ হাড় মাংস কাটার ফাঁকে ফাঁকে একটু একটু বিশ্রাম নিয়ে কাজ করতে হবে।

√ হাড় মাংস কাটার সময় সতর্কতার সাথে চাপাতি, কুড়ালের ব্যবহার করতে হবে।

√ চাপাতি দিয়ে হাড় কাটার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে আশেপাশে কেউ থাকলে নির্দিষ্ট পরিমাণ দূরত্বে থাকতে বলতে হবে।

কুরবানি করতে গিয়ে বিভিন্ন ভাবে আহত হয়ে অনেক মানুষ হাসপাতালে আসেন।
দেখা যায় অনেকের অবস্থা আশংকা জনক। করো কারো মেজর অপারেশন করতে হয়। তখন তাদের খুশির ঈদ দুঃখ বেদনার হয়ে যায়।
আমরা যদি কুরবানির পশু জবেহ, কাটাকাটি নিয়ে একটু সতর্কতা অবলম্বন করি তাহলে এই সকল সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে যাবে।

যেকোন ধরনের সমস্যার জন্য দেরি না করে নিকটস্থ ক্লিনিক, হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কুরবানির পশু জবহে সর্তকতা মেনে চলি নিজেকে নিরাপদ রাখি।
সেবা নিন সুস্থ থাকুন।
সবার সুস্থতাই আমাদের কাম্য।

লেখক – ডিপ্লোমা ইন নার্সিং,বিএসসি ইন নার্সিং
নার্সিং কর্মকর্তা, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •