মুহাম্মদ সেলিম হক


চট্টগ্রামে রাজনীতির দুঃসময়ের পরিচিত মুখ, সাবেক ছাত্রনেতা, স্বৈরচারবিরোধী আন্দোলন ও ১/১১ আন্দোলনের সামনের সারির সৈনিক, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ৪ বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের একনিষ্ঠ কর্মী, সর্বোপরি চট্টগ্রামে দেশরত্ন শেখ হাসিনার বিশ্বস্থ ভ্যানগার্ড তারেক সোলেমান সেলিম আজ অসুস্থ। হসপিটালের বিছানায় শুয়ে রয়েছেন।

বিকেল থেকে খবরটি শোনে খুবই ব্যথিত আমি। ২৬ বছর আগের কথা। ১৯৯৪ সাল। তখন আমি নবম শ্রেণীর ছাত্র। চরপাথরঘাটা মুক্তবিহঙ্গ ক্লাবের বয়স মাত্র ৪ বছর। একটা অফিস কার্য্যালয় দাঁড় করালাম মাত্র।

প্রথম প্রোগ্রাম। সেই সাদাকালো যুগে একটা প্রোগাম করা অনেক কষ্ট ছিলো। তারেক সোলায়মান সেলিম চট্টগ্রাম নগরীর আলকরণ এলাকার ওয়ার্ড কমিশনার। তরুণ নেতা।সিটি কলেজের ছাত্রনেতা। অমায়িক ব্যবহার উনার। সৃজনশীল সংগঠনের প্রবক্তা বলা যায়। একটা প্রোগ্রাম সাঁজাতে বা করা যে কত কষ্ট সেটা সেলিম ভাই বুঝতেন।

এসময়ে একজন সিটিকর্পোরেশনের কাউন্সিলরকে এনে প্রোগাম করা মামুলী হলেও সেসময় এতই সহজ ছিলো না। সেলিম ভাই এর প্রথম সফর চরপাথরঘাটায় এটা। আমরা সবাই ছোট। একজন কমিশনার আমাদের ক্লাবে। কি রকম খুশি?

উনি আমাদের কতক্ষণ সময় দিবেন এটাই ভাবছি। উনি এসেই বললেন, আমি সময় দিবো। তোমরা সবাই বক্তব্য রাখো। একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা অনেক কঠিন। অতিথির তাড়াহুড়া বড়ই খারাপ।আমি জানি কত শ্রমের বিনিময়ে এ আয়োজন।

এ কথা ছিলো আমাদের হৃদয়ের। ৪ ঘন্টা সময় দিলো। সবাই বক্তব্য রাখলো। আমাকে তিনি স্মরণ রেখেছে সব সময়।
রাস্তায় দেখলে থামিয়ে কথা বলতো। ২৬ বছর পর। তাহার কঠিন অসুখের কথা শুনেছি। খোজঁ নিতাম। হে আল্লাহ এরকম ভালো মানুষকে আপনি রহমত করুন। সুস্থ্যতা কামনা করছি। সবার পরিবর্তন হলেও সেলিম ভাই সেরকম ছিলো।
মাঝে মাঝে পরামর্শ এর জন্য ছুটে যেতাম।

গত ইউপি নিবার্চনের আগে তাহার বাসায় যাই, একটু পরামর্শ এর জন্য। সেই ভাঙ্গাঘর এখনো রয়ে গেলো। জানালো একবছর কেন তিনি নিবার্চন বিরতি দিলো। সে কী অসাধারণ গল্প। কোনদিন হারেনি। তবে শেষ কস্ট ছিলো মনোনয়ন না পাওয়াটা।

হয়তো সেই টেনশনে শরীরের বাঁধলো কঠিন রোগের বাসা।।
একজন শিশু সংগঠক। একজন সৎ রাজনীতিবিদের
প্রতিচ্ছবি সেলিম ভাই। জীবনের শেষ সময়ে সাহায্য নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার একটাই ফোনই বুকের জমানো কষ্ট কিছুটা হালকা হবে।

কারণ সেলিম ভাইদের শ্রমের ফসল আজকের আওয়ামী লীগের ক্ষমতা। কত মানুষ কত পেলো এ সুসময়ে। এদের চাহিদা বেশী নয়, নেত্রীর একটু হ্যালো। এতেই জাগরণ ঘটবে তৃণমূলে। অন্যরা ও খেয়হারানো নেতারা সাহস পাবে…।

শেষের দিকে ম্যানেজ করা চলার রাজনীতির অপ্রিয় কথা বলেছে। তাহার কিছু উপদেশ আমার চলার পথে পাথেয় ছিলো। হে আল্লাহ তোমার বান্দাকে সুস্থ্যতা দান করুন।
কেন কেউ কখনো তোমার কাছে কৈফিয়ত চাইবে না।


মুহাম্মদ সেলিম হক ,সাধারণ সম্পাদক ,কর্ণফুলী যুবলীগ
প্রতিষ্ঠাতা, চরপাথরঘাটা মুক্ত বিহঙ্গ ক্লাব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •