আহমদ গিয়াস :

‘বঙ্গোপসাগরে এখন মাছের চেয়ে বর্জ্য বেশি। দেশের অভ্যন্তরীন নদনদী ছাড়াও ৫৪টি অভিন্ন নদী দিয়ে নানা অপচনশীল বর্জ্য মিশছে বঙ্গোপসাগরে। পাশপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর বর্জ্যও মিশছে বঙ্গোপসাগরে। একারণে বঙ্গোপসাগরে মাছের চেয়ে বর্জ্যের হার এখন অনেক বেশি। তাই আমাদের বঙ্গোপসাগর ও এর মৎস্য সম্পদকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই প্লাস্টিক সামগ্রী নিষিদ্ধ করতে হবে।’
প্লাস্টিক পণ্য নিষিদ্ধের দাবীতে শুক্রবার বিকালে স্থানীয় চারটি পরিবেশবাদী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এ কথা বলেন। শহরতলীর দরিয়ানগর সৈকত সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে সম্প্রতি কক্সবাজারের দরিয়ানগর সৈকতে যে বর্জ্যের পাহাড় ভেসে এসেছে, তা নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।
বক্তারা কক্সবাজারকে বাঁচাতে হলে, বঙ্গোপসাগরে বাঁচাতে হলে সময় থাকতেই প্লাস্টিক বর্জ্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবী তুলেন।
বক্তারা পচনশীল দ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধি ও নবায়নযোগ্য পণ্যের ব্যবহারের উপর জোর দেন। এছাড়া নদনদী ও সমুদ্রে বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ করার দাবী জানান।
বক্তারা বলেন, আমরা সমুদ্রে যে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলি, সেটা ভাঙতে ভাঙতে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়। আর সাগরের মাছ খাদ্য মনে করে সেই প্লাস্টিক গ্রহণ করে। আবার খাদ্য লবণের মধ্যেও পাওয়া যাচ্ছে প্লাস্টিক। এতে আমাদের জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকীর মুখে পড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই ওয়ানটাইম প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করতে হবে।
কক্সবাজারের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘দরিয়ানগর গ্রীণ ভয়েস’, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট এন্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিইএইচআরডিএফ), ইয়ুথ নেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস ও বাংলাদেশ প্লাস্টিক ব্যাংক উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।
সিইএইচআরডিএফ এর প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়ার সভাপতিত্বে ও সমন্বয়ক আবদুল মান্নান রানার সঞ্চালনায় শুক্রবার বিকাল চারটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এ মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী আহমদ গিয়াস। আরো বক্তব্য দেন ইয়ুথ নেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস এর সমন্বয়ক শান্ত নূর, বাংলাদেশ প্লাস্টিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাকির আলম, সিইএইচআরডিএফ এর পরিচালক (কর্মসূচি) রুহুল আমিন, উপ-পরিচালক (রিচার্স ও এডভোকেসি) ইয়াসির আরাফাত, দরিয়ানগর গ্রীণ ভয়েস সভাপতি পারভেজ মোশাররফ ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান সায়েম প্রমূখ। মানববন্ধনে চার সংগঠনের শতাধিক পরিবেশকর্মী অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে তারা কক্সবাজারের দরিয়ানগর সৈকতের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় পরিবেশবাদীরা মতামত দেন যে, পলিথিন বা প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে সৈকতের প্রধান ‘বায়ো টার্বেটর’ বা জৈব রাসায়নিক পরিবর্তনকারী লাল কাঁকড়ার কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে সাগরলতাও আশানুরূপভাবে বেড়ে ওঠছে না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •