আমি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, পিতা- গুরা মিয়া, উত্তর হাজীপাড়া ঝিলংজা এবং আহ্বায়ক, কক্সবাজার সদর উপজেলা শ্রমিকলীগ। গত ১৪ ও ২৪ জুলাই-২০২০ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক, প্রিন্ট মিডিয়ায় আমাকে ও আমার পরিবারকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদগুলো আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদগুলো ডাহা মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক ও মানহানিকর। আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে প্রকাশিত এসব সংবাদের তথ্য সম্পর্কে আমি চ্যালেঞ্জ করে আমার বক্তব্য পেশ করছি।

প্রথমে জানিয়ে রাখি, আমি শ্রমিক লীগের সদর উপজেলা আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন ছাড়াও সামাজিক, শিক্ষাঙ্গনভিত্তিক আরো কয়েকটি দায়িত্ব পালন করছি। এতে এলাকায় আমার রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে একটা শক্ত অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে। সে কারণে একটি প্রতিহিংসাপরায়ণ চক্র আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র লিপ্ত রয়েছে।

ঘটনা ১- আমাদের বিরোধীয় ওই চক্রের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে আমার ভাই ফোরকান। সে একজন দোকানদার। ১৫টি বছর ধরে সে ওই দোকানটি পরিচালনা করছে। গত ১৪ জুলাই এলাকার ওই প্রতিপক্ষের ইন্ধনে পরিকল্পিতভাবে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার মুর্হূতেই তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে গ্রেফতার করার বিষয়টি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক। সে সম্পর্কিত প্রকাশিত সংবাদে আমাকেও জড়ানো হয়েছে। আমার ভাই ফোরকান বা আমাদের পবিরারের কেউ কোনোভাবেই ইয়াবার সাথে জড়িত নই। সে বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করার জন্য আমি পুলিশ প্রশাসনের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।

ঘটনা ২- ২৪ জুলাই গ্রেফতার হওয়া শাহনাজ বেগম সানু আমার বোন নয়। সে আমার চাচাতো বোন। তবে ২০১৩ সাল থেকে শাহনাজ বেগম ও তার পরিবারের সাথে আমাদের পরিবারের চরম বিরোধ চলে আসছে, যা এখনো চরম আকারে রয়েছে। শাহনাজ বেগম, তার স্বামী ও অন্যরা দীর্ঘ দিন ধরে মাদকসহ সমাজ ও রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত। এই কারণে আমরা বাধা দেয়ায় বিগত ২০১৩ সালের ৫ জুলাই আমাদের উপর শাহনাজ বেগম, তার স্বামী ও অন্যরা সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে আমি নিজে আহত হয়েছিলাম। পরবর্তীতে ১৪ নভেম্বর ২০১৩ এই শাহনাজ বেগম ও তার লালিত সাঙ্গ-পাঙ্গদের নামে আমি কক্সবাজার মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করি। শাহনাজ বেগম বাদী হয়ে আমাকে এক নম্বর আসামী করে আমার পরিবারের সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। বর্তমানে মামলাটি আদালতে শুনানী পর্যায়ে রয়েছে। সেই থেকে তাদের আমাদের কোনো বনিবনা হয়নি এবং বিরোধ সমানভাবে চলে আসছে- যা এলাকা জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের লোকজন। এসব কারণে আমাদের সমাজ থেকে শাহনাজ বেগম সানুর পরিবাকে বের করে দেয়া হয়েছে।

এখানে একটি বিষয় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ্য যে, শাহনাজ বেগম শানু ও তার স্বামী চিহ্নিত মাদক কারবারি টেকনাফের বাসিন্দা মুহাম্মদ ইউনুছ দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এতে ২০১২ সাল থেকে ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ে শাহনাজ বেগম সানু, তার স্বামী ও অন্যান্যরা। তারা একাধিকবার জেলে যায়। সর্বশেষ ১৮০০০ ইয়াবাসহ আটক হয়ে মুহাম্মদ ইউনুছ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। ছেলে শামসু ৫০০০ ইয়াবাসহ আটক হয়ে জেলা কারাগারে বন্দি। আরেক ছেলে আয়াস সদর থানার মামলা নং-৬৮, জিআর- ৭৩৩/১২ এর আসামী।

শাহনাজ বেগম শানুর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। একটি চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানা, জিআর-৩২৬/১৬। অপরটি ডিএমপি মীরপুর মডেল থানা, জিআর-৮২/১৯। এসব মামলায় বা শাহনাজ বেগম সানুর ইয়াবা ব্যবসার সাথে অতীতে আমাদের কোনো ধরণের নাম জড়ায়নি। কারণ হলো- তাদের সাথে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে শাহনাজ বেগম সানু ও তার সিন্ডিকেটের সাথে আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে অনলাইন পত্রিকাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার শুরু হয়েছে। এই অপপ্রচার করছে আমাদের বিরোধী ওই চক্র। তারা এতে থেমে নেই, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আমার ভাই ফোরকানকে ধরিয়ে দিয়েছে এবং শাহনাজ বেগমের আমাদের সম্পৃক্ততার অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিককেও নানা কায়দায় প্ররোচিত করে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে শাহনাজ ও ইয়াবার সম্পৃক্ততার মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করছে।

আমার প্রশ্ন- শাহনাজ বেগম সানু ও তার পরিবার দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি ইয়াবা ব্যবসা করলেও কোনোদিন কোথাও আমাদের আমাদের নাম আসেনি? এখন আসার কারণ হলো ওই বিরোধী চক্রের ষড়যন্ত্র। তবুও অধিকতর তদন্ত করার জন্য আমি প্রশাসন বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।

পরিশেষে আমি আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর প্রতি বিনীত অনুরোধ সুষ্ঠু ও অধিকতর তদন্তে মাধ্যমে যদি ইয়াবা সাথে আমার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পান তাহলে তা শাস্তি পেতে হয় তা আমি মাথা পেতে নেবো। যদি আমি নির্দোষ প্রমাণ হই তাহলে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আকুল আহ্বান জানাচ্ছি।

মোহাম্মদ আবদুল্লাহ
আহ্বায়ক
সদর উপজেলা শ্রমিক লীগ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •