নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহ তা’আলা সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্য্যকে ভালবাসেন। তিনি সুন্দর চরিত্রকে পছন্দ করেন এবং নির্বোধকে ঘৃণা করেন।” (বায়হাকী)

আজ আমি আল্লাহর দুটি নাম সম্পর্কে আলোচনা করব। একটি হচ্ছে আল-জাওয়াদ এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে আল-মান্নান।

আল-জাওয়াদ শব্দের অর্থ পরিমাণে প্রচুর বা বিশাল। নবীজী আমাদেরকে বলেছেন, “আল্লাহর হাত পরিপূর্ণ, এবং এই পূর্ণতা দিনরাত দান করার পরও হ্রাস পায় না …” (মুসলিম)

যেমন ভারী বর্ষণে কোনো স্থান পানি ছাড়া ফাঁকা থাকে না তেমনি আল্লাহর নেয়ামত থেকেও কোনো স্থান ফাঁকা নেই। তিনি হলেন আল-জাওয়াদ, যিনি প্রচুর পরিমাণে নির্দ্বিধায় দান করেন, যেমনটি আমাদেরকে কুরআনে বলা হয়েছেঃ

“আল্লাহর উভয় হাত প্রসারিত, যেভাবে ইচ্ছা করেন তিনি দান করেন” (আল কুরআন-৫:৬৪)

সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত

আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

“আর নিশ্চয় তোমার জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।” (আল কুরআন-৬৮:৩)

তিনি আরও বলেনঃ

“আল্লাহ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও কাজের কথা শিক্ষা দেন। বস্তুতঃ তারা ছিল পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট।” (আল কুরআন-৩:১৬৪)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নবীর মর্যাদা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন – “মান্ন” শব্দটি ব্যবহার করে। আমরা যখন আমাদের চারপাশের জগতের দিকে তাকাই তখন বুঝতে পারি যে বস্তুগত দিক থেকে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষকে অনেক জিনিস দিয়েছেন। বেশিরভাগ দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যক্তি অত্যন্ত ধনী, আবার কিছু উদার সমাজপতিও। মূলত এই বস্তুগত সম্পদ দ্বারা আল্লাহর কাছে কার কেমন মর্যাদা তা প্রতিফলিত হয় না।

বরং তিনি আমাদেরকে বলেছেন যে, তিনি আমাদের মধ্য থেকে একজন রাসূলকে প্রেরণ করে আমাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন, যিনি আমাদেরকে পবিত্র করেন এবং আমাদেরকে কুরআন শিক্ষা দেন। অন্য একটি আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

“এই লোকেরা মনে করে যে, তারা ইসলাম কবূল করে আপনার প্রতি অনুগ্রহ করেছে। তাদেরকে বলে দিন, ‘তোমরা তোমাদের ইসলাম কবূলের দ্বারা আমার প্রতি কোন অনুগ্রহ করনি বরং আল্লাহ্ই তোমাদেরকে ঈমানের পথে পরিচালিত করে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, তোমরা যদি সত্যবাদী হয়েই থাক” (আল কুরআন-৪৯:১৭)

আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন মানুষের অবস্থা সম্পর্কে বলেছেন:

“তারা বলবে, ‘পূর্বে আমরা আমাদের পরিবারে (দুনিয়াবী নানা কারণে ও আখিরাতের ‘আযাবের আশংকায়) ভয় ভীতির মধ্যে ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন।” (আল কুরআন-৫২:২৬-২৭)

আল্লাহ তায়ালার সবচেয়ে বড় ‘মান্ন’ ই  হচ্ছে শেষ পর্যন্ত জান্নাত। আমরা এর জন্য যা করি তা খুবই সামান্য, তবে আমাদেরকে যা দেওয়া হবে তা কখনও ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলকে জান্নাতবাসী করুক।

আল-জাওয়াদ এবং আল-মান্নানের সাথে সংযোগ স্থাপন

১। মহানুভব হন

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলা হয়েছিল যে, “যখন কোনো ভাল কাজ করার কথা আসে তখন তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উদার (জওয়াদ), এবং রমজান মাসে তাঁর উদারতা আরও বেড়ে যেত।” (বুখারী)। একারণে উদারচিত্তের অধিকারী হন এবং দান করার ক্ষেত্রে উদার হন। আপনি যা দান করবেন তা কখনই হারিয়ে যাবে না।

২। আধ্যাত্মিক উপহারের জন্য কৃতজ্ঞ হন

আমাদের দেওয়া সবচেয়ে বড় উপহার হল আধ্যাত্মিক উপহার। সম্পদ এই পৃথিবীতে মানসিক শান্তি দিতেও পারে আবার নাও পারে এবং শেষ পর্যন্ত আমরা কিভাবে সম্পদ ব্যয় করেছি সে সম্পর্কে আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে। তবে আল্লাহ তা’আলার নিকটবর্তী হওয়ার উপহারগুলি অন্যরকম। আল্লাহ তা’আলার প্রতি আমাদের ভালবাসা বৃদ্ধির অন্যতম উপায় এই নিয়ামতের প্রতিফলন।

৩। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্পর্কে চিন্তা করুন

আল্লাহ আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর কাছ থেকে প্রাপ্ত উপহারগুলির মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি হল নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্র থেকে শিখুন এবং তাকে পরিপূর্ণরূপে বুঝতে তাঁর সীরাত (জীবনী) অধ্যয়ন করুন।

৪। মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করে খোঁটা দিবেন না

আল্লাহ বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করে এবং কষ্ট দিয়ে নিজেদের দান খয়রাত বরবাদ করো না সে ব্যক্তির মত যে নিজের ধন-সম্পদ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যয় করে এবং আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে না” (আল কুরয়ান-২:২৬৪)

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •