মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুস্কুল আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে উপকারভোগীদের হাতে ফ্ল্যাটের চাবি তুলে দিয়েছেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল। উপকারভোগীরা তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাটের চাবি হাতে পেয়ে তারা যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছেন। উপকারভোগীরা এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি’র মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানান।

কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুস্কুলে নির্মিত জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম আশ্রয়ণ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই সকাল সাড়ে ১০ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

কক্সবাজার প্রান্ত থেকে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য যথাক্রমে সাইমুম সরওয়ার কমল, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা আহমদ, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আযাদ (এনডিসি), প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মাহবুব হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আযাদ (এনডিসি), প্রকল্পের নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর দশম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং এরিয়া কমান্ডার মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার) পিপএম, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল ফোরকান আহমদ, কক্সবাজার বিমান ঘাঁটির জিওসি, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার), কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান প্রমুখ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন কক্সবাজার প্রান্ত থেকে এই অনুষ্ঠানের সঞ্চলনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস গণভবন থেকে বর্ণাঢ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

২৫৩ একর জমির উপর ১৩৯ টি বহুতল ভবন নির্মিত হবে। প্রকল্পে পুনর্বাসন করা হবে মোট ৪ হাজার ৪ শত ৯ টি পরিবারকে। প্রথম পর্যায়ে সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে ১৯ টি বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করেছে। আর একটি ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে।

উদ্বোধনের মাধ্যমে ৬শত জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারকে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
প্রতিটি পাঁচতলা ভবনে থাকছে ৪৫৬ বর্গফুট আয়তনের ৩২টি করে ফ্ল্যাট।

কক্সবাজার শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে খুরুশকুলে বাঁকখালী নদীর তীরে ২৫৩ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে এই ‘বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প’। পুরো এলাকাকে চারটি জোনে ভাগ করে ক্রমান্বয়ে ১৩৯টি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হবে সেখানে।

সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ১৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হলে এসব ভবনে বসবাসের সুযোগ পাবে ৪ হাজার ৪০৯টি জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবার। যারা কক্সবাজার বিমানবন্দরের নিকটে ফদনার ডেইল, কুতুবদিয়া পাড়া, চরপাড়া ও সমিতি পাড়ায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বহু বছর ধরে। ১০০১ টাকার নামমাত্র মূল্যে এসব ফ্ল্যাট পাবে উদ্বাস্তুর জীবন কাটানো পরিবারগুলো। পাকা দালানে থাকার চাবি হাতে পেয়ে উপকারভোগীরা তাদের সংসদীয় আসনের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল কে ধন্যবাদ জানান।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ জলবায়ু উদ্বাস্তু আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০ টি ভবনের নামকরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে। নির্মাণাধীন ভবনটি সহ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নামকরণকৃত ২০টি ভবনের নাম হলো : (১) সাম্পান (২) কেওড়া (৩) রজনীগন্ধা (৪) গন্ধরাজ (৫) হাসনাহেনা (৬) কামিনী (৭) গুলমোহর (৮) গোলাপ (৯) সোনালী (১০) নীলাম্বরী (১১) ঝিনুক (১২) কোরাল (১৩) মুক্তা (১৪) প্রবাল (১৫) সোপান (১৬) মনখালী (১৭) শনখালী (১৮) দোলনচাঁপা (১৯) ইনানী ও (২০) বাঁকখালী। প্রকল্পের আবাসিক ভবনগুলো সব ৫ তলা হলেও একটি ভবন হবে দশ তলা। যার নাম হবে “শেখ হাসিনা টাওয়ার”। এই ভবনের অবস্থান হবে পর্যটন জোনে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •