বিশেষ প্রতিবেদক:

সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে গাবাদি পশু আমদানী নিয়ে লংকাকান্ড চলছে। এ করিডোর দিয়ে পশু আমদানীর ক্ষেত্রে বৈধ লাইন্সেসধারী বিট খাটানো প্রতিষ্ঠান কোন প্রকার টোল আদায় করতে পাচ্ছে না। বরং একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে যাচ্ছে। এতে সরকার বিপুল অংকের টাকা রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে দীর্ঘদিন থেকে গাবাদি পশু আমদানী হয়ে আসছে। কিন্তু দেশের অন্যান্য পশু আমদানী করিডোরে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ শুল্ক আদায়ের স্বার্থে বিট আদায়ের লাইন্সেস প্রদান করে থাকলেও শাহপরীরদ্বীপে তা ছিল না। পরবর্তী বিষয় সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজরে আসলে শাহপরীরদ্বীপের করিডোরের জন্য বিট খাটানোর লাইন্সেস প্রদান করেন আবদুস সামাদ এন্ড গংদের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ ২০১৯ সালে ৪ বছরের জন্য এ লাইন্সেসটি প্রদান করেন। কিন্তু কোরবানের ঈদকে সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানী অব্যাহত থাকলেও পশু আমদানীর ক্ষেত্রে বৈধ লাইন্সেসধারী বিট খাটানো প্রতিষ্ঠান কোন টোল আদায় করতে পাচ্ছেন না।

প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রশাসনিক জটিলতা তৈরী করে তাদের টোল আদায় করতে দেয়া হচ্ছে না। অথচ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অবৈধভাবে ওখানে চাঁদা আদায় শুরু করেছে। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ৪ বছরের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স পাওয়া আবদুস সামাদ এন্ড গং এর অনুমতি গত মাসখানেক আগে বাতিল করা হয়েছে এবং এ সম্পর্কিত নথিপত্র প্রশাসনের কাছে জমা রয়েছে দাবি করে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও ) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রভাবশালী একটি মহল কর্তৃক অবৈধভাবে টোল আদায়ের বিষয়টি সত্য নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক আবদুস সামাদ এন্ড গং এর লাইসেন্স বাতিল করার পর শাহপরীরদ্বীপ বাজারের ইজারাদারই অস্থায়ীভাবে পশু আমদানির টোল আদায় করছে। এতে আদায়কৃত টাকা থেকে নির্ধারিত অংশই সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হচ্ছে।

এতে কোন ধরণের অবৈধ পন্থা অবলম্বনের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইউএনও।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমতি পাওয়া লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টি সত্য নয় দাবি করে আবদুস সামাদ এন্ড গং এর স্বত্তাধিকারি আবদুস সামাদ বলেন, মন্ত্রণালয় কর্তৃক দেয়া লাইসেন্সটি বাতিল করা হয়নি; এখনো বহাল রয়েছে। প্রভাবশালী মহলকে অবৈধ সুবিধা দিতে প্রশাসন এখন মিথ্যাচার করছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •