মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের নতুন সুপার হিসাবে নিয়োগ পাওয়া ডা. মোঃ জাকির হোসেন খান যোগদান করলেই তাকে প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করা হবে। কক্সবাজারের মাটি ও মানুষের সংগঠন “আমরা কক্সবাজারবাসী” এ ঘোষণা দিয়েছেন।

কক্সবাজারবাসীর ন্যায্য, মৌলিক, যৌক্তিক দাবি ও অধিকার আদায়ে নিরন্তর পথচলা এই অরাজনৈতিক সংগঠনটির সমন্বয়কারী মহসিন শেখ তার সংগঠনের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

গণমাধ্যম কর্মী মহসিন শেখ আরো বলেন, ডা. মোঃ জাকির হোসেন খান এন-৯৫ মাস্ক কেলেংকারী সহ সরকারি কেন্দ্রীয় ঔষাধাগারের বিভিন্ন অনিয়ম ও লুটপাটের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনে জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে মামলা মোকদ্দমায় ঢাকায় হাজিরা দিতে দিতেই সময় চলে যাবে। তিনি কক্সবাজার জেলার সর্ববৃহৎ স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে খুব একটা সময় দিতে পারবেননা। সাংবাদিক মহসিন শেখ আরো বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালিক মানিকগঞ্জের বাসিন্দা। ডা. মোঃ জাকির হোসেন খানও একই জেলার বাসিন্দা। তাঁকে লুটপাটের জন্য সরকারি কেন্দ্রীয় ঔষাধাগারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো বলে ইতিমধ্যে তারা অবহিত হয়েছেন।

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গত ৩ মাসে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সহ জেলাবাসীর চিকিৎসার জন্য একটা আস্থার জায়গা তৈরী হয়েছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা সংকটে ডা. মোঃ জাকির হোসেন খানের মতো দুর্নীতিতে জড়ানো একজন কর্মকর্তা জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়কের দায়িত্ব নিলে হাসপাতালটির চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা কক্সবাজারবাসী’র পক্ষে গণমাধ্যম কর্মী মহসিন শেখ ডা. মোঃ জাকির হোসেন খানের নিয়োগ প্রত্যাহার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে একজন সৎ ও উদ্যমী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।

গত ২০ জুলাই কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের সাথে আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনটির মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দ অন্যান্য দাবির সাথে এই দাবিটিও জানিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের নতুন সুপার হিসাবে নিয়োগ পাওয়া ডা. মোঃ জাকির হোসেন খান’কে এন-৯৫ মাস্ক কেলেংকারী সহ সরকারি কেন্দ্রীয় ঔষাধাগারের বিভিন্ন অনিয়ম ও লুটপাটের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন এর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ প্রধান কার্যালয়ে গত ২০ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এন-৯৫ মাস্ক, পিপিই কেলেংকারী সহ সরকারি কেন্দ্রীয় ঔষাধাগারের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মূল হোতা ডা. মোঃ জাকির হোসেন খান’কে গত ৫ জুলাই কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে উপ পরিচালকের মর্যাদায় তত্বাবধায়ক (সুপার) হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর ডিপার্টমেন্ট (সিএমএসডি) -এ (সিএমএসডি) অনিয়ম ও লুটপাটের চরম অভিযোগ উঠার প্রাক্কালে ডা. মোঃ জাকির হোসেন খান (৩৯৮১৩) কে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের প্রধান হিসাবে এ নিয়োগ দেওয়া হয়। ডা. মোঃ জাকির হোসেন খানের এসব কেলেংকারী নিয়ে সারদেশে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠে। এনিয়ে চরমভাবে বিব্রত হয় সরকার।

দুদকের তলবে দুর্নীতির জবাবদিহিতা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় কক্সবাজারে নিয়োগ পাওয়ার ১৮ দিনেও ডা. মোঃ জাকির হোসেন খান তার নতুন কর্মস্থল কক্সবাজারে যোগদান করতে পারেননি। অন্যদিকে, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুস সালেহীনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে সাবেক সুপার ডা. মো. মহিউদ্দিন কক্সবাজার থেকে তখনই বিদায় নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদও বিভিন্ন কারণে তুমুল সমালোচনার মুখে গত ২১ জুলাই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •