মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

ইয়াবা ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ৫০ রোহিঙ্গা শরনার্থী এ পর্যন্ত পুলিশেরে সাথে এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এ পর্যন্ত ২৮০টিরও বেশি মামলা হয়েছে। কক্সবাজার জেলার স্থানীয় বাসিন্দারা এখন আর আগের মতো ইয়াবা ব্যবসার সাথে বেশি জড়িত নাই। ইয়াবা ব্যবসার সাথে স্থানীয় লোকজনের সম্পৃক্ততা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। মিয়ানমার থেকে আগে আসা বেশির ভাগ পুরাতন রোহিঙ্গা শরনার্থীই এখন ইয়াবা কারবারের সাথে জড়িত হয়েছে। রোহিঙ্গা শরনার্থীরা বড় বড় শরনার্থী ক্যাম্পে থেকে দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত এলাকা পাড়ি দিয়ে ইয়াবা বহন করে এদেশে এনে ব্যবসা করছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) ইয়াবা কারবার নিয়ন্ত্রণ সহ জেলায় মাদক কারবার নির্মুলের বিষয়ে সোমবার ২০ জুলাই এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, কক্সবাজার জেলা পুলিশ আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণে স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। কিন্তু মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে মাদক ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে সাড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সিরিয়াস থাকার কারণে পুরাতন রোহিঙ্গা শরনার্থীরা এখন আর আগের মতো ডাকাতি করার সুযোগ পায়না। তারা এখন ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। এরকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত ৪০ জন রোহিঙ্গা শরনার্থীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) আরো বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে টাকা না দিয়ে ইয়াবা এনে থাকে। বাংলাদেশ আনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা না পড়লে সেগুলো বিক্রি করে হুন্ডির মাধ্যমে বিক্রিত অর্থ মিয়ানমারে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠায়। ইয়াবা ব্যবসায় যারা বিনিয়োগ করে, ইয়াবা কারবারীদের আশ্রয় দেয় তাদেরকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদেরকেও শীঘ্রই কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। যত শক্তিশালী হোক কাউকে রেহাই দেওয়া হবেনা।

এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) বলেন, একসময় টেকনাফ মাদকের অদৃশ্য হাট ছিলো। টেকনাফের প্রায় ৯০% মানুষ ইয়াবা ব্যবসার সাথে বিভিন্নভাবে জড়িত ছিলো। টেকনাফের নাগরিকেরা ইয়াবা ব্যবসাকে একটা বৈধ ব্যবসা মনে করতো। তখন ইয়াবা ব্যবসায়ীরা খুব একটা ধরা পড়তো না। এখন অধিকাংশ ইয়াবা ব্যবসায়ী ধরা পড়ে। তখন লবণ চাষী, রিক্সাওয়ালা, বাসের হেলপার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন নিন্মবিত্তের মানুষ ইয়াবা ব্যবসা করে রাতারাতি কোটিপতি হয়েছে। আলিশান বাড়িঘর করেছে। স্থানীয় লোকজন ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় তারা এখন এলাকা ছাড়া হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •