আবদুল্লাহ আল মামুন :

অনিন্দ্য সুন্দর প্রাকৃতিক ঝর্ণা পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি বরইতলী ঝর্ণা। প্রকৃতি প্রেমীদের অন্যতম তীর্থস্থান। কিন্তু এ সুন্দর জায়গাটি ভ্রমণ করতে গিয়ে কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখিন হতে পারেন ভেবে আমার এ লেখা ।

আমাকে  ভ্রমণের একজন বলল,মামুন ভাই এখানে অনেক উপজাতীয় ছেলেরা প্রকাশ্য ছুরি নিয়ে চলাফেরা করছে। আমি তার কথাটি মুটেও বিশ্বাস করিনি। হাস্যকর ভাবে উড়িয়ে দিয়েছিলাম। কারণ অনেক উপজাতী ভাই  আমাদের  হেল্প করেছে। কিন্তু পরে গিয়ে আমার ভুল ভাঙ্গল।

একটা ঝর্ণাতে  গিয়ে দেখি ২-৩টা উপজাতী ছেলের হাতে ছুরি । ভ্রমণকারীদের আশে পাশে ছুরি দেখিয়ে খেলা করছে। তাদের ভাষায় একে অপরের সাথে কথা বলছে। আনন্দ করতে এসে মনে কিছুটা  ভীতি  ভর করল।  তখন আমি ঝর্ণার ছবি তোলার মত করে আমাদের ভ্রমণ টিমের একজনকে ছবি তুলতে ইশারা করি। আমার পাশেই সে ছুরি নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গ ভঙ্গি করছিল। তার অজান্তে ছবি তুলেছিলাম। এখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা খুবই জরুরী।

যারা যাবেন তাদের জন্য কিছু পরামশ :
১.গুটি কয়েকজন বরইতলী লেবু বাগান ঝর্ণায় যাবেন না।
২.কমপক্ষে আপনারা ১০জনের অধিক যাওয়ার জন্য চেষ্টা করবেন। তাও দলবেধে।
৩.অনেকে (সবাই না) পথে পথে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় ঘুরাফেরা করে। বিভিন্ন উস্কানীর মাধ্যমে তারা আপনাকে তর্কে জড়াতে চাইবে। কখনো তাদের সাথে তর্কে যাবেন না।
৪.এখানকার প্রধান সমস্যা হলো,নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন একটা জায়গা। যাতায়াতের সমস্যা।
৫.এখানে কোনো প্রশাসনের নজরদারী নেই।তাই নিজের সতর্কতা বেশি দরকার।
৬.যারা যাবেন তারা নারীদের সঙ্গে না নেয়া ভাল।  তাদেরকে উপজাতীয় ছেলেরা খারাপ আচরণ করার চেষ্টা করতে পারে।
৭.ঝর্ণা পাহাড়ে বেশি উপরের উঠার চেষ্টা করবেন না। উঠলে মারাত্বক আহত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
৮.যথা সম্ভব পিপি নেওয়ার চেষ্টা করবেন।বৃষ্টি হলে আপনার প্রয়োজনী জিনিসগুলো ঢেকে রাখতে পারেন।
৯.হাতে লাঠি রাখবেন । যাতে হাঁটতে সমস্যা না হয়।
১০.বৃষ্টিভেজা মাঠিতে হাঁটতে পারবেন এমন জুতা পায়ে দিবেন।
১১.অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে ঝর্ণায় যাবেন না । প্রচুর বৃষ্টিতে ঝর্ণা বিপদজনক।
১২.সাথে ছোট বাচ্চাদের সাথে নেবেন না ।

আবার এটাও বলে রাখি উপজাতীয় সবাই এমন নয় । অনেক উপজাতী আপনাকে বিভিন্ন ভাবে হেল্প করবে। কৃতজ্ঞতার ভাষা হারিয়ে ফেলবেন।
যেমন-
★ যেমন গাড়ি থেকে নামার পর সর্বপ্রথম হেল্প পাবেন উপজাতীয়দের কাছ থেকে।
তারা আপনাকে কিভাবে যাবেন,কিভাবে গেলে আপনার অসুবিধা হবে না।তা নিয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।যা একটা ভালো দিক।
★হাঁটতে হাঁটতে পথে পথে বিভিন্ন ছোট-বড় ছড়া পাবেন। এসব ছড়াতে যাতায়াতে অনেকের সমস্যা হয়।তারা আপনাকে হেল্প  করবে।
★অনেকে সৌন্দর্যের মায়ায় পড়ে ঝর্ণার পাহাড়ের উপর উঠে পড়ে। ওখান থেকে নামতে  সমস্যা হয় । তারা সেখান থেকে অনেকজনকে নামাতে জীবন বাজি রেখে চেষ্টা করে। তা এদের কাছ থেকে বড় পাওয়া।
★ওরা আপনাকে বারবার অনুরোধ করবে যেখানে গেলে আপনি বিপদে পড়েন এমন জায়গায় না যেতে।
★খাবার প্যাকেট যেখানে-সেখানে না ফেলতে অনুরোধ করবে।যাতে ময়লা জমা হয়ে ঝর্ণার পরিবেশ নষ্ট না হয়।

পরিশেষে সকল উপজাতী ভাইদের প্রতি ভালোবাসা । ভালো-খারাপ সবদিকে বিদ্যমান থাকে।
তবে তাদের কারণে এমন ঝর্ণায় গিয়ে অনেকে আনন্দ পায়। ভালো থেকো ঝর্ণা বেষ্টিত ঘেরা উপজাতী ভাইয়েরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •