cbn  

#চার মাস ধরে আয় বন্ধ কিটকিট ব্যবসায়ী ও ফটোগ্রাফারদের

বলরাম দাশ অনুপম :
করোনায় যেন স্থবির হয়ে গেছে সব কিছুই। বেকার হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ। বিশেষ করে প্রায় ৪ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প নির্ভর সকল হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস, পর্যটন কেন্দ্রগুলো। আর সমুদ্র সৈকত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে এখনো। এতে করে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের পর্যটনকে ঘিরে ব্যবসা করার ব্যবসায়ীদের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে।

শুধু পর্যটন শিল্প নির্ভর বড় ব্যবসায়ীরা নয়, চরম ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন এখানকার কিটকট (সৈকতের ছাতা) ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ফটোগ্রাফার ও নানা প্রকারের খাবার বিক্রেতারা। ফলে বেকার হয়ে চরম দুর্দিন কাটছে পর্যটক নির্ভর শতাধিক ব্যবসায়ী, ২ শতাধিক কিটকিট শ্রমিক ও ৫ শতাধিক ফটোগ্রাফারের।

তাদের মতে করোনা সংকটের ৪ মাস পার হলেও কেউ তাদের খবর নেয়নি। তবে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে করোনায় বিপর্যস্ত পর্যটন সংশ্লিষ্ট ৪৩৩ জন দুঃস্থ ব্যবসায়ীর মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। পর্যটকদের ঘিরে যে কিটকিট ব্যবসা জমজমাট ভাবে চলতো, দীর্ঘদিন ধরে পর্যটক না আসায় সেখানে এখন বিরাজ করছে সুনশান নিরবতা।

সরেজমিনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, ডায়াবেটিক পয়েন্ট, কলাতলী পয়েন্টে গিয়ে এই দৃশ্য দেখা গেছে। শুধু তাই নয় দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকার কারণে নষ্ট হতে চলেছে কিটকটগুলো (ছাতা-চেয়ার)। নষ্ট হয়ে গেছে। ৩৪ বছর ধরে সৈকতে কিটকট দেখাশুনা করে আসছিলেন বাহারছড়ার আবুল কাশেম। তিনি জানান-এই কিটকটকে ঘিরেই ছিল তার আয়ের প্রধান উৎস। বর্তমানে করোনা সংকটের কারণে পর্যটক আগমন না হওয়ায় আয়ের উৎসও থেমে গেছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে কস্টে দিন কাটছে তার। অনেকটা একই সুরে বললেন সৈকতের কিটকিট নির্ভর জীবিকা উপার্জন করা কলাতলী বড়ছড়ার নাজমুল হক। তিনি জানান-যখন পর্যটক ভরপুর ছিল তখন প্রতিদিন কিটকট দেখাশুনায় তার দৈনিক আয় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে করোনার কারণে তার জীবন চাকা যেন থেমে গেছে। তাই বাধ্য হয়েই বিকল্প কিছু চিন্তা করছেন তিনি।

কক্সবাজার কিটকট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান জানান-সমুদ্র সৈকতে প্রায় ১২’শর মত কিটকট চেয়ার অনুমোদন আছে। এরমধ্যে ১ হাজার চেয়ার নিয়মিত বসানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে পর্যটক না আসায় তাদের ব্যবসা বন্ধ। ফলে চেয়ার ও ছাতাগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

শুধূ পর্যটক নির্ভর কিটকট ব্যবসায়ী কিংবা শ্রমিকেরা নয় করোনার কারণে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন এখানকার ফটোগ্রাফাররাও। করোনা আসার পর থেকে যেমন বন্ধ এখানকার পর্যটন কেন্দ্রগুলো তেমনি বন্ধ ৫ শতাধিক ফটোগ্রাফারের আয়। এতে করে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন এর সাথে জড়িতরা।

তবে এদের মধ্যে কিছু কিছু ফটোগ্রাফার সরকারী ভাবে নানা সহায়তা পেয়েছে। সৈকতে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে পর্যটক ও স্থানীয়দের ছবি তুলে সংসার চালাচ্ছেন কলাতলী মোঃ রাসেল। তিনি জানান, মা-বাবাসহ ৪ ভাই ও ২ বোনকে নিয়ে তার সংসার। তার বাবা চাষাবাদ করে কোনমতে সংসার চালান। সৈকতে পর্যটকদের ছবি তুলে যা আয় হয় সেই টাকা দিয়ে সংসারে হাত বাড়ায় সে। কিন্তু পর্যটনের সংকটময় মুহুর্তে তার পরিবারে নেমে এসেছে অন্ধকার।

আর দীর্ঘায়িত হচ্ছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের অনটন ও হাহাকার ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •