এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া:
চকরিয়ায় আলোচিত কাউন্সিলর রেজাউল করিম ও তার ভাইপো সাইদুল হকের উপর হামলা ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে কাউন্সিলর রেজাউলের বড় ভাই কামাল উদ্দিন বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ ও বেশ ক’জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এজাহারনামীয় দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন হামলাকারী চকরিয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে ও ওয়ার্ড বিএনপি’র যুব-বিষয়ক সম্পাদক কফিল উদ্দিন বাহাদুর (৩২) ও তার বড় ভাই মো.সাহাবউদ্দিন (৪০)।

কাউন্সিলর রেজাউল করিমের পরিবার সুত্রে জানা গেছে, চকরিয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে গত কয়েক মাস ধরে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। এসব উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল করিম স্থানীয় সন্ত্রাসী বিএনপি নেতা কফিল উদ্দিন কর্তৃক বেশ কয়েকবার বাধা প্রাপ্ত হন। কাজ বন্ধ করে দেয়া হবে বলে কফিল উদ্দিন নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন। কিন্তু তারপরও কাজ চালিয়ে যান কাউন্সিলর রেজাউল করিম।

সর্বশেষ কয়েকদিন আগে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখার জন্য হুমকি দেয় কফিল উদ্দিন। এসময় দু’জনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে শুক্রবার জুমার পরপরই কিরিচ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় কফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী। এতে কিরিচের আঘাতে কাউন্সিলর রেজাউল করিমের ডান হাতের কব্জি কেটে যায় ও তার ভাইপো সাইদুল হকের হাতের দুটি আঙ্গুল কেটে যায়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়।

চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত)মো.মিজানুর রহমান বলেন, পৌরসভার কাউন্সিলর মো.রেজাউল করিম ও তার ভাইপো সাউদুল হকের উপর হামলার ঘটনায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়। রেজাউলের বড় ভাই মো.কামাল উদ্দিনের দেয়া এজাহারটি মামলা হিসেবে এন্ট্রি করা হয়েছে। এতে এজাহারনামীয় চারজনসহ আরো বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। থানার এসআই প্রিয়লাল ঘোষকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.হাবিবুর রহমান বলেন, কাউন্সিলর রেজাউল করিম ও তার ভাইপো সাউদুল হকের উপর হামলার ঘটনায় জড়িত দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কফিল উদ্দিনকে জনতার সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বড় ভাই সাহাবউদ্দিনকে শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরো বলেন, তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •