নুরুল আমিন হেলালী :

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও কক্সবাজারের বৃহত্তম ঈদগাঁও কোরবানির পশুর হাটে করোনা মহামারিতে অনলাইনে গরু-মহিষ ক্রয়-বিক্রয়সহ বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে বাজার ইজারাদার প্রতিষ্টান মেসার্স আর.এন এন্টারপ্রাইজ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাড়তি সতর্কতায় ইতোমধ্যে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বাজার এলাকা সম্পূর্ণ সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ সহ একাধিক সু-নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েই শুরু হয়েছে কক্সবাজারের বৃহত্তম এই কোরবানির পশুর হাট।

জানা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতাদের মুখে মাস্ক পরা, হাত ধোঁয়া ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখাসহ সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বসবে এই পশুর হাট। এছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় সামলানো, বাজারে ঢুকা ও বের হওয়া মনিটরিং, তাপমাত্রা পরিমাপ করা, দুর-দুরান্ত থেকে আগত পশু বেপারীদের থাকার ব্যবস্থা, সার্বক্ষনিক মেডিকেল টিম সহ একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েই পশুর হাট শুরু হয়েছে বলে জানান, ইজারা প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান মেসার্স আর.এন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমজানুল আলম কোম্পানী।

এছাড়া করোনায় বাড়তি সতর্কতা হিসেবে ঈদগাঁও বাসষ্টেশন সংলগ্ন পুরাতন গরু বাজারের উন্মুক্ত জায়গায় পশু ক্রয়-বিক্রয়ের পাশাপাশি ঈদগাঁও বঙ্গবন্ধু ষ্টেডিয়ামে এবং মাইজপাড়া বশিরার দোকান সংলগ্ন খালি জায়গায় সেড তৈরী করে বাজার বসার ব্যবস্থা করেছে বলেও তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।

অন্যদিকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা ও অসুস্থ ব্যক্তি হাটে না আসা, ভিড় সামলানোসহ কয়েকটি বিধি নিষেধ কয়েকদিন যাবৎ মাইকে প্রচার করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। করোনা মহামারির এই দুঃসময়ে সকল জল্পনা-কল্পনা শেষে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে সর্বসাধারণের সেবা করার মানসিকতা নিয়ে সরকারি বিধি মোতাবেক ঈদগাঁও বাজারটি ইজারা নিয়েছেন বলে জানান, মেসার্স আর.এন এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান শহিদুল হক সোহেল।

অপরদিকে বিনামূল্যে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাস্ক বিতরণ, বিভিন্ন পয়েন্টে জীবানু প্রতিরোধক হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও পশু কেনাকাটায় দিন-রাত ২৪ ঘন্টা পর্যাপ্ত লাইটিং এর ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া জালটাকা শনাক্তের মেশিন বসানো, পশু গাড়ীতে উঠা-নামানোর ক্ষেত্রে উচু স্তুপের ব্যবস্থাসহ অনলাইনের মাধ্যমে টাকা লেনদেনের সুবিধা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কোরবানকে সামনে রেখে ঈদগাঁওতে বটতলী পাড়া ও মধ্যম মাইজপাড়ার মত জনবসতি এলাকায় মৌসুমি গরু বাজার বসানোর কানা-ঘুঁষা চলছে। করোনা মহামারিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যেখানে সীমিত সংখ্যক পশুর হাট বসানোর পরামর্শ দিচ্ছে, সেখানে জনবহুল এলাকা ঈদগাঁওতে একাধিক পশুর হাট বসা কতটুকু যৌক্তিক? এই প্রশ্ন স্থানীয়দের। এছাড়া জনবসতি এলাকায় একাধিক পশুর হাট বসলে আইন শৃঙ্খলার অবনতিসহ করোনা মহামারি ছড়ানোর সম্ভাবনাও অমুলক নই।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •