মোঃ আকিব বিন জাকের :

মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক দায়িত্বরত ভোলান্টিয়ার জাহেদুল ইসলাম শফি’র বিরুদ্ধে সরকারি হাস, মুরগি,ভেড়া, ঔষধ এবং সংশ্লিষ্ট সামগ্রী বিতরণে অনিয়ম এবং এবং টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

২০১৯ সালে ‘বিলুপ্ত ছিটমহল ও নদীবিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায়
১২২ কোটি টাকা ব‍্যায়ে দেশের ৮৬ টি বিলুপ্ত ছিটমহল ও ৪০ উপজেলায় অসহায় ৩৫ হাজার ২৮৮ টি পরিবারের মধ্যে বিনামূল্যে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার।

এরই ধারাবাহিকতায় উপকূলীয় চরাঞ্চল মহেশখালীর পাচঁটি ইউনিয়ন তথা কুতুবজুম, বড় মহেশখালী, ধলঘাটা, মাতারবাড়ি এবং হোয়ানকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে কয়েকমাস আগে শুরু হয় হাস মুরগি এবং হাস মুরগির ঘর বিতরণের কার্যক্রম। এপর্যন্ত পাচঁটি ইউনিয়নের প্রতিটি ইউনিয়নে ১২৫ জনকে ২০ টি করে হাস মুরগি এবং হাস মুরগির ঘর ও ৫০ জনকে ৩ টি করে ভেড়া বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে হোয়ানক ইউনিয়নে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত ভোলান্টিয়ার ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের জামালপাড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের সন্তান জাহেদুল ইসলাম শফি’র বিরুদ্ধে উঠেছে অনিয়মের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জাহেদুল ইসলাম হাস মুরগি বিতরণে প্রতিজন থেকে সরকারি ভর্তি ফি বলে ১০০০ টাকা, হাস মুরগি বাবদ ১০০০ টাকা এবং হাসমুরগির ঘর বাবদ ৫০০ টাকা সর্বমোট ২৫০০ টাকা করে এবং ভেড়া বিতরণে জনপ্রতি ৩০০০ থেকে ৫০০০ টাকা তথা প্রায় ৫ লক্ষ ৬২ হাজার ৫ শত টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও প্রতিনিয়ত হাস মুরগি এবং গবাদিপশুর জন‍্য সরকার কর্তৃক ফ্রি বন্টনকৃত খাবার,ভ‍্যাকসিন এবং ঔষধ সামগ্রী বিতরণে মোটা অংকের টাকা নিচ্ছে বলেও জানা যায়। এর প্রমাণ সহকারে ভুক্তভোগীদের ১৫ থেকে ২০ টি ভিডিও ফুটেজও সংগ্রহ করেছে এলাকার সচেতন মহল। যেখানে শফি’র সম্পূর্ণ অনিয়মের স্পষ্ট উল্লেখ্য রয়েছে। এসব কথা জানতে পেরে সাক্ষ্যদাতা এবং ফুটেজ সংগ্রহ কারী সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগকারীদের বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন শফি। জানা যায়, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র এবং উপজেলা প্রাণিজ সম্পদ অধিদপ্তরের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তাকে ম‍্যানেজ করে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে শফি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিতরণকৃত হাস, মুরগি, গরু-ছাগল এবং এদের ঘর ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সম্পূর্ণ সরকারি। এজন‍্য সরকার কিংবা আমাদেরকে কোনো টাকা পয়সা দিতে হয়না। অভিযোগটি সত্য হলে আমরা তদন্তপূর্বক ব‍্যবস্থা নেব।

জানা যায়, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগী এবং এলাকার সচেতন মহল।

অসহায় মানুষের দুর্ভোগ এড়াতে দ্রুত উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •