• ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দীন

আমরা সাধারণত যেকোন ব্যকটেরিয়াল ইনফেকশন যেমনঃ কলেরা,ডায়রিয়া,ফুট আলসার,ফোঁড়া, ইত্যাদির জন্য এন্টিবায়োটিক সেবন করে থাকি।

সম্প্রতি ভাইরাল ফিভারে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার বেড়েছে।
যেটি অপ্রয়োজনীয় কারন ভাইরাস নির্মুলে এন্টিবায়োটিকের কোন ভুমিকা নাই। বরং শরীরের কিছু উপকারী ব্যকটেরিয়া মেরে ফেলে।
গ্রামের কিছু পল্লী চিকিৎসক দ্রুত রোগ সারাতে অযাচিতভাবে এন্টিবায়োটিক প্রদান করেন।
অনেক সময় দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষরা যখন কোন এন্টিবায়োটিক সেবন করে ভাল হলে আরেকজনকে সেটা সেবনের পরামর্শ দেন যেটি মোটেই উচিত নয় এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত এবং নির্দিষ্ট মাত্রায় এন্টিবায়োটিক সেবন না করলে রোগ ভাল হয় না উল্টো দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতি করে।
আবার আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিকের কোর্স সম্পন্ন করিনা অর্থাৎ চিকিৎসক যতদিন পর্যন্ত এন্টিবায়োটিক সেবন করতে বলেন ততদিন আমরা সেবন করিনা ৷
এন্টিবায়োটিক সেবন করার পর যেসব অবশিষ্ট এন্টিবায়োটিক (যেমনঃ সিরাপের বোতল,কাঁচের ভায়াল,ক্যাপসুল বা ট্যাবলেটের স্ট্রীপ) আমরা হয়ত খোলা ডাস্টবিন কিংবা উন্মুক্ত স্থানে ফেলে দিই।অনেক জায়গায় মেয়াদহীন এন্টিবায়োটিক ফেলে দেওয়া হয় ডাস্টবিন বা খোলা স্থানে।কখনো ভেবে দেখেছেন আপনার ফেলে দেওয়া এসব এন্টিবায়োটিক কারো ক্ষতির কারন হচ্ছে নাতো!
পরিবেশে ভেসে বেড়ানো ব্যকটেরিয়া এসব এন্টিবায়েটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরী করে।
যেটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এভাবে চলতে থাকলে আমরা দুর ভবিষ্যতে বা নিকট ভবিষ্যতে এন্টিবায়োটিক সংকটে পড়ব।বিজ্ঞানের ভাষায় এ সংকটকে সুপারবাগ বলা হয়।সুপারবাগ হল, বর্তমানে প্রচলিত সকল এন্টিবায়োটিক অকার্যকর হওয়া।তখন যেকোন ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমনে আমরা গভীর চিকিৎসা সংকটে পড়ব।
এখন পরামর্শ হলঃ
১.রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক সেবন ও বিক্রয় করবেন।
২.নির্দিষ্ট মাত্রায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এন্টিবায়োটিক সেবন করবেন।
৩.ব্যবহৃত,মেয়াদোত্তীর্ন এন্টিবায়োটিক গুলো সঠিকভাবে সিলগালা করে মাটির নিচে ফেলে দিন না হয় আপনার নিকটস্থ বর্জ্য ব্যবস্থপনা সমৃদ্ধ হাসপাতালে জমা দিন।
৪.নিজে সেবনকৃত এন্টিবায়োটিক আরেকজনকে সেবনের পরামর্শ দিবেন না।
আসুন এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে সচেতন হই
আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বাঁচাই।


লেখকঃ নার্সিং কর্মকর্তা
ইমেইল [email protected]

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •