এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া :

একটানা বারদিন হোম আইসোলেশনে থাকার পর অবশেষে করোনা যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মোহাম্মদ শাহবাজ। গত ৩০ জুন স্যাম্পল টেস্ট্রে তাঁর করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে।

এরপর তিনি হাসপাতালের সরকারি কোয়াটারে হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সর্বশেষ ১২ জুলাই ফলোআপ নমুনা টেস্ট পাঠালে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাব থেকে ওনার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে তিনি করোনায় আক্রান্ত হন।

চকরিয়া উপজেলা হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আমির হামজা বলেন, করোনা সংক্রমণের প্রথম থেকে ফ্রন্টলাইনে থেকে রোগিদের সেবা দিচ্ছিলেন ডা.মোহাম্মদ শাহবাজ। এক পর্যায়ে তিনি গত ৩০ জুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। এরপর তিনি হাসপাতালের কোয়ার্টারে থেকে চিকিৎসা নেন। পরে ১২ জুলাই ওনার রিপোর্ট নেগেটিভ আসলে তিনি কাজে যোগ দেন।

তিনি বলেন, মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে চকরিয়ায় করোনা সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সর্বশেষ ১২ জুলাই পর্যন্তউপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা মোট ৩৪৫ জন নারী-পুরুষ আক্রান্ত হয়েছেন। উল্লেখিত সময়ে সুস্থ হয়েছেন ২৮৫ জন। এরমধ্যে বেশির ভাগই বাড়িতে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। তবে যাদের অবস্থা একটু ক্রিটিকাল ছিলো তাদের হাসপাতালের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

করোনাযুদ্ধে বিজয়ী চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মোহাম্মদ শাহবাজ বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমত ও সবার দোয়ায় আমি সুস্থ হয়েছি। আমার সিনিয়র চিকিৎসকরা প্রতিনিয়ত আমার খোঁজ নিয়েছেন। তাদের পরামর্শ মতো ওষুধ সেবন করেছি। গতকাল ১২ জুলাই আমার নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। ইতোমধ্যে আমি কাজে যোগ দিয়েছি।

তিনি বলেন, যারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের অবশ্যই প্রতি ঘন্টা অন্তর শরীরের অক্সিজেনের পরিমাপ করা জরুরী। কারণে যেকোন সময় অক্সিজেন সেচ্যুরেশন কমে যেতে পারে। অবশ্যই আমাদের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। তাছাড়া এই রোগের এখনও কোন ওষুধ আবিস্কার হয়নি। তাই আমাদের প্রতি ঘন্টা পর হাত ধুতে হবে। যদি সঠিক নিয়মে মাস্ক ব্যবহার করি তাহলে করোনা সংক্রমণের হার শূণ্যের কোঠায় নেমে আসবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •