চকরিয়া সংবাদদাতা:
চকরিয়ার সাহারবিল ইউনিয়নের মাইজঘোনা পুরাতন জামে মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব, নতুন কমিটি গঠন, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে খতিব, ইমাম, মোয়াজ্জিন ও মুসল্লীদের নিরাপত্তা বিধানের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
মসজিদের ইমাম সাহারবিল ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মাইজঘোনা গ্রামের বাসিন্দা মরহুম আলহাজ্ব মাওলানা মোজাহের আহমদের পুত্র মৌলানা মোঃ ছরওয়ার আলম বাদী হয়ে ১৩ জুলাই এ অভিযোগটি করেন।
এতে বিবাদী করা হয়েছে সাহারবিল ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মাইজঘোনা গ্রামের মৃত আবদুল হাকিমের পুত্র আবদুল হাকিম (সাবেক চেয়ারম্যান), মৃত ফকির মোহাম্মদের পুত্র আনোয়ার হোছাইন,মৃত মোজাহের আহমদের পুত্র আবদুর রহিম, মৃত হাবিবুর রহমানের পুত্র আবদুল মন্নান, আবুল ফজলের পুত্র সাকের উল্লাহ, মৃত মোঃ কালুর পুত্র আবুল কালাম, মৃত আবদুল মতলবের পুত্র নুর খান, মৃত সফর মুল্লুকের পুত্র সেলিমসহ অজ্ঞাত আরো ৫/৬জন।
২০১৭ সাল হতে প্রতি জুমার নামাজে মুসল্লীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় ৩লাখ টাকা, ২০১৯ সালে বার্ষিক সভার আয় ৫লাখ টাকা, ২০১৯ সালের সভার সীমেন্ট ৩০০ ব্যাগ ১লাখ ৩৫ হাজার টাকা, বিভিন্ন খাতে অনুদান আয় ৩লাখ টাকাসহ সর্বমোট ১২লাখ ৩৫ হাজার টাকার হিসাব নিয়ে আপত্তি দেখা দিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে ও অভিযোগে জানাযায়, ১৯২০ সালে মরহুম আজিম উদ্দিন গং মাইজঘোনা পুরাতন জামে মসজিদটি প্রতিষ্টা করেন। প্রতিষ্টার পর হইতে তার ওয়ারিশগন, পাড়া-প্রতিবেশী ও মুসল্লীরা সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে মসজিদটি পরিচালনা করে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় মসজিদের বর্তমান খতিব/ইমাম মৌলানা মোঃ ছরওয়ার আলমের পিতা সাহারবিল কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা মোজাহের আহমদ মতোয়াল্লী হিসেবে জীবদ্দশায় মসজিদে বিনাবেতনে আমৃত্যু পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মতোয়াল্লী থাকাকালে জীবদ্দশায় বিগত ২০১৭ সনে সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাকিমকে কমিটির সভাপতি করেন এবং আবদুর রহিমকে কোষাধ্যক্ষ করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করে দেন। পরবর্তীতে ২০১৮সনের ২৩ ফেব্রুয়ারী মসজিদের মতোয়াল্লী অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা মোজাহের আহমদ ইন্তেকাল করেন। পিতা জীবিত থাকাকালীন ২০১৫সন হতে একইভাবে বিনা বেতনে মসজিদের খতিব ও ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন মতোয়াল্লী পক্ষের মৌলানা মোঃ ছরওয়ার আলম। পিতার ৫৭বছর ধরে দায়িত্ব পালনের ন্যায় পুত্রও ৫বছর ধরে সততা ও নিষ্টার সহীত বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ইত্যবশরে কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এবং মসজিদের কোন উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত না হওয়ায় ও মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিকাশ করায় ইমাম সাহেবসহ মুসল্লীরা সভাপতিকে বলেন। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১০ জুলাই শুক্রবার দুপুর ১টায় জুমার নামাজের খুৎবা দিতে যাওয়ার সময় আকর্ষ্মিকভাবে নামাজ না পড়াইতে বলে ও নানাভাবে উচ্চবাক্য বিনিময় করে। ওই সময় মুসল্লীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে তৎক্ষনাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। মসজিদের ইমামসহ মুসল্লীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ পূর্বক শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহবান জানান।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। ঘটনার সংঘঠিত হওয়ার খবরে তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশ পাঠিয়ে নিয়ন্ত্রন আনা হয়েছে। যেহেতু মসজিদের বিষয়, তাই পরবর্তী সমাধাকল্পে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় সমাধান দেবেন বলে জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •