সিবিএন ডেস্ক:

দেশে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ ভাইরাসকে হারিয়ে ঘরে ফিরেছেন চার হাজার ৯১০ জন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ তিন হাজার ২২৭ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ১৬৩ এবং আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ৩৩ জন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৯৮৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৩ হাজার ৪৫৩টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট ৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হলো। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ১৬৩ জনের মধ্যে। ফলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৯০ হাজার ৫৭ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৩৩ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৪২৪ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও চার হাজার ৯১০ জন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ তিন হাজার ২২৭ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের ২৩ জন পুরুষ এবং ১০ জন নারী। এদের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব দুজন, চল্লিশোর্ধ্ব চারজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ছয়জন, ষাটোর্ধ্ব নয়জন, সত্তরোর্ধ্ব ১১ জন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী একজন ছিলেন। ১৩ জন ছিলেন ঢাকা বিভাগের, তিনজন চট্টগ্রাম বিভাগের, চারজন রাজশাহী বিভাগের, পাঁচজন সিলেট বিভাগের, পাঁচজন খুলনা বিভাগের, দুজন রংপুর বিভাগের এবং একজন বরিশাল বিভাগের। হাসপাতালে মারা গেছেন ২৯ জন এবং বাসায় মৃত্যু হয়েছে চারজনের।

গতকালের পরিস্থিতি
গতকাল সোমবারের (১৩ জুলাই) বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন ৩৯ জন। ১২ হাজার ৪২৩টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ৯৯ জনের মধ্যে। সে হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ৬৪ জনের। সে তথ্য জানানো হয়, ৩০ জুনের বুলেটিনে। সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড চার হাজার ১৯ জনের, যা জানানো হয় ২ জুলাইয়ের বুলেটিনে।

শনাক্ত, সুস্থতা ও মৃত্যুর হার
মঙ্গলবারের বুলেটিনে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগী বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৪ দশমিক ৩১ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

বুলেটিনে বরাবরের মতোই ডা. নাসিমা করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি
গোটা বিশ্বকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে করোনাভাইরাস। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানোর পর বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন এক কোটি ৩২ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি। মৃতের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার প্রায়। তবে ৭৭ লাখের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •