আবদুল কাদের:
কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। করোনা মহামারীতে দীর্ঘ টানা লক ডাউনে জন মানব শুন্য সমুদ্র সৈকতের প্রকৃতি সেজেছে তার আপন মহিমায়। সাগর যেন ফিরে পেয়েছে তার চির চেনারুপ।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সম্প্রতি সমুদ্রের বালিয়াড়িতে একের পর এক ভেসে আসছে সামুদ্রিক কাছিম।এদের বেশিরভাগ পূর্নবয়স্ক জীববিজ্ঞানে Olive ridley(Lepidochelys olivacea) নামে পরিচিত এই প্রজাতির কাছিমগুলো সামুদ্রিক মাছের বংশবিস্তারে সহায়তা করে। সমুদ্রের ক্ষতিকারক জেলীফিশ গুলিকে কাছিম খেয়ে ফেলে এরা মাছের প্রজননে উপকারী ভুমিকা পালন করে। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এমনি একটি উপকারী নিরহ প্রানী সামুদ্রিক কাছিমগুলো আহত অবস্থায় তীরে ভেসে আসতেছে অধিকাংশ হাত পা কাটাঁ,আঘাত প্রাপ্ত,দূর্বল হয়ে চলাচলে ও সাঁতার কাটতে অক্ষম হয়ে গেছে।

সরেজমিনে পাওয়া তথ্য মতে, কক্সবাজার লাবনী পয়েন্ট থেকে দরিয়ানগর পর্যন্ত এলাকায় বিগত এক সপ্তাহের ব্যবধানে,ভেসে আসে প্রায় ৩৫ টির ও বেশি কাছিম কিছু আঘাতপ্রাপ্ত আর কিছু মৃত।মৃত কাছিম গুলিকে স্থানীয় লাইফগার্ড কর্মীরা বালি চাপা দিয়ে মাঠিতে পুথে ফেলে আর হাত পা ছাড়া আহত অবস্থায় ভেসে আসা কাছিম গুলিকে সংরক্ষণের বা চিকিৎসার অভাবে আবার পানিতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কিছু মৃত কাছিমকে আবার বেওয়ারিশ কুকুরগুলো টেনে হিছড়ে খাচ্ছে।

কক্সবাজার সৈকতের সার্ফার জয়নাল আবেদীন ভুট্টো বলেন, বিগত ৩ দিন ধরে সমুদ্র তীরে অনেক কাছিম পেয়েছি। এদের বেশিরভাগ এর শরীরে আঘাতের চিহ্ন, হাত পা কাটা এসব কাছিম গুলিকে পানিতে ছাড়তে মন না চাইলে ও সংরক্ষণের লোকের অভাবে আমরা এদের আবার পানিতে ছেড়ে দিচ্ছি।ফলে ঢেউএর আঘাতে অনেক কাছিম মারা যাচ্ছে। এমতাবস্থায় তীরে আসা এসব কাছিমের সংরক্ষণ অতীব জরুরী,তাই পরিবেশ সংরক্ষনকারী সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ইকোফিশ ২ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. আরিফুর রহমান বলেন, সামুদ্রিক কাছিম সহ সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করছে ইকোফিশ বাংলাদেশ প্রকল্প। কাছিমদের নিরাপত্তায় জেলেদের সচেতনতা জরুরী। সম্ভবত, মাছ ধরার সময় জালে আটকে পড়া কাছিমগুলো ছাড়াতে না পেরে আটকে যাওয়া কাছিম গুলির পা কেটে দেওয়া হয়। কিছুদিন পর কাছিমগুলো মারা যায়। গত কয়েকদিন সৈকতে ভেসে আসা বেশিরভাগ কাছিমের সামনের একটি পা নেই। দূর্বল এবং আহত এসব কাছিমদের চিকিৎসা দেয়ার মতো কোন ব্যবস্থা না থাকায় কাছিমগুলোকে দেখে আবার পানিতে ছেড়ে দেই।’

সামুদ্রিক জীব বৈচিত্র রক্ষায় সামুদ্রিক কাছিম, ডলফিন এসব প্রানী সংরক্ষণে খুব শিগ্রই পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে এমনটায় আশংকা স্থানীয় সচেতন মহলের।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •