ওসমান আবির :

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যংয়ের ঝিমংখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের ছবি তুলে প্রতারণার অভিযোগ ওঠেছে রিজেন্ট হাসপাতালের করোনার ভূঁয়া রিপোর্টে অভিযুক্ত প্রতারক সাহেদের বিরুদ্ধে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত হোয়াইক্যংয়ের ঝিমংখালীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মানাধীন ভবনের কাজ পায় রাজধানী ঢাকার ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেই নির্মানাধীন ভবনের ঠিকাদার গ্রুপের মালিক শাহেদ বলে স্থানীয়দের সাথে প্রতারণা করে ছবি তুলেন সাহেদ।

সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর আগে ২০১৮ সালের কোন এক শুক্রবারে হোয়াইক্যংয়ের মাটিতে পা ফেলেন সাহেদ।ঐ দিন জুমার নামাজ শেষে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমেদ আনোয়ারী, ইউপি সদস্য শাহ আলম মেম্বার ও স্থানীয় প্রশাসন সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সাহেদ ঝিমংখালী বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য ভিত্তি প্রস্থর স্থাপনের উদ্বোধন করেন।ঐ সময় সাহেদ উপস্থিত সকলকে নির্মানাধীন ভবনের ঠিকাদার গ্রুপের মালিক তিনি বলে জানান।এরপর উপস্থিত সকলের সাথে বেশকিছু ছবি তুলে চলে যান সাহেদ।এরপর গত দুই বছরে ভবনের চলমান কাজে আর দেখা যায়নি সাহেদকে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য শাহ আলম মেম্বার বলেন, গত দুই বছর আগে ২০১৮ সালে ঝিমংখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপনের উদ্বোধনী অনুষ্টানে সাহেদ নামে ব্যক্তির সাথে দেখা হয়।তখন সকলের সামনে সাহেদ নির্মাণধীন ভবনের ঠিকাদার নিজেই বলে জানান।এরপর বেশকিছু ছবি তোলে সেই ব্যক্তি চলে যান।

ঝিমংখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকারিয়া মাহমুদ বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে এমডি,এসপি’ প্রকল্পের মাধ্যমে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ভবনের কাজ পায় ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান।যে ভবন নির্মাণের কাজ এখনও চলমান রয়েছে। যেদিন সাহেদ নামের ব্যক্তিটি ভবনের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপনের নামে ছবি তুলে সেদিন আমি ছিলাম না।পাশাপাশি ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীও ছিল না । তার সাথে কোনদিন আমার দেখাও হয় নাই। তবে তিনি কেন হুট করে এসে নিজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলে সবার সামনে ছবি তুলে চলে গেলেন তা আমি জ্ঞাত নই।

গত ১১ বছর আগে ২০০৯ সালে কক্সবাজারে সাহেদের মালিকানাধীন নিসর্গ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাকরীর ফাঁদে ফেলে স্থানীয়দের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ভুক্তভোগী স্থানীয় কিছু যুবকের।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •