ওসমান আবির:
আর কিছু দিন পরেই পবিত্র ঈদ-উল-আজহা। তবে, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গবাদিপশু বিক্রি নিয়ে চিন্তিত টেকনাফের স্থানীয় খামারী ও ব্যবসায়ীরা।এবারের কোরবানির জন্য প্রান্তিক চাষীদের দেশীয় গবাদিপশুর উৎপাদন ও চাহিদার পর্যাপ্ত লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা বিক্রি নিয়ে রয়েছে সংশয়।

কোরবানীতে দেশী জাতের ও শংকর জাতের গরু চাহিদা বেশি থাকায় খামারীরা এ ধরনের গরু স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মোটা তাজাকরণ করেছেন বছর জুড়ে।উপজেলার বড় পশুর হাট পৌরসভার পাইলট স্কুল মাঠের হাট, সাবরাং হাট, হ্নীলার হাট, শাহ পরীর দ্বীপ হাট।এ বছর এসব হাট গুলোতে এখনও পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের কারনে হাট পরিচালনার জন্য কোন অনুমতি দেননি প্রশাসন। অনলাইনের মাধ্যমে গরু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য জেলা প্রশাসন অনলাইন ভিত্তিক হাট চালু করেছেন।কিন্তু, খামারীদের অনেকের অভিযোগ, অনলাইনের মাধ্যমে কিভাবে পশু ক্রয়-বিক্রয় করে তা তারা জানেনা।ফলে গবাদিপশুর ন্যায্য দাম নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন খামারীরা।

কক্সবাজার জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলায় এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে চাহিদার লক্ষ্য মাত্রা ছিল ৯৫ হাজার ১৯২ টি গবাদিপশুর।তারমধ্যে ৭১ হাজার ৩৭৭ টি গরু মহিষ এবং ২৩ হাজার ৮১৫ টি ছাগল বেড়া।তবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১ লক্ষ ৫৫০ টি গবাদিপশু।তারমধ্যে ৭৪ হাজার ১৯৭ টি গরু-মহিষ এবং ২৬ হাজার ৩৫৩ টি ছাগল বেড়া।যা চাহিদার লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ৫ হাজার ৩৫৮ টি পশু বেশি রয়েছে।ফলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে আরও উদ্ধৃত থাকবে।গত বছর কোরবানিতে জেলার চাহিদা মিটানোর জন্য পশু জবাই করা হয়েছিল ১ লাখ ৩১ হাজার।যা এ বছরের লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি ছিল বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর।

স্থানীয় খামারীরা জানান, দেশী ও শংকর জাতের অনেক গরু, মহিষ খামারীরা সারা বছর লালন পালন করে বড় করেছেন এই ঈদে বিক্রির জন্য।কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে পশু ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তারা।করোনা ভাইরাসের জন্য প্রশাসন পশুর হাট বন্ধ রাখায় নায্য মূল্য নিয়েও রয়েছেন দুঃশ্চিন্তায়।অনলাইন পশুর হাট সম্পর্কেও ধারনা নেই অনেকের।করোনা পরিস্থিতিতে অনেক স্বাবলম্বী মানুষ আর্থিক সংকতে পড়ায় এ বছর করোবানীর চাহিদাও কমে গেছে।ফলে গবাদিপশু ক্রয়-বিক্রয়ের নির্দিষ্ট চাহিদার লক্ষ্য মাত্রা অর্জন করতে না পড়লে পুরু বছরের শ্রমিকের বেতন ও গো-খাদ্যের খরচ মিলাতে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে বলে জানান স্থানীয় খামারীরা।

ঈদ আসতে আরও বাকি রয়েছে ১৯/২০ দিন।বর্তমান এই করোনা পরিস্থিতির কারনে ঈদের আগ পর্যন্ত অল্প কয়েকদিন পশু ব্যবসায়ী ও খামারীরা যাতে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন সেজন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কক্সবাজার জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুল আলম জানান, আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে জেলায় ১ লক্ষ ৫৫০টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৫ হাজার ৩৫৮টি উদ্বৃত্ত থাকবে।এবার করোনা ভাইরাস সংক্রমনের কারনে মানুষ যাতে ঘরে বসে গরু ক্রয় করতে পারেন সেজন্য জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে “অনলাইন ক্যাটল মার্কেট” নামে একটি অনলাইন ভিত্তিক পশুর হাট খোলা হয়েছে। সেখানে গরুর ছবি ও মালিকের মোবাইল নাম্বার থাকবে ক্রেতা সাধারন ছবি দেখে গরু মালিকের সাথে কথা বলে দাম ঠিক করে তা ক্রয় করতে পারবেন।এছাড়া জেলা প্রশাসনের সাথে স্বমন্বয় করে জেলার ৫৬টি স্থায়ী-অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে প্রায় ৪৩/৪৫ টি হাট চালু করার জন্য চিন্তা ভাবনা রয়েছে।যা খুব শিগ্রই স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটগুলো চালু করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •