-সিরাজুল কাদের

বৈশ্বিক মহামারীর করাল থাবাতে সর্বৈব যেন এক হাহাকার, অনিশ্চয়তার ঘোর অন্ধকারে বনী আদম নিপতিত, কোথাও এক চিলতে আশার বাণীর কপোত বাহি কোন বার্তা নেই! মৃত্যুর মিছিলে কার আগে কার সলিল সমাধি ঘটে সেই কপাল ভাঁজ করা দু:শ্চিন্তার বলি রেখাগুলো কেমন জানি অতি মাত্রায় উত্তেজিত। আজকের দিন পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ১৮৮ দেশে ১কোটি ২৮ লক্ষ ৫৬ হাজারের উপর শনাক্ত এবং ৫ লক্ষ ৬৮ হাজারের মত এই ধরতীর সন্তান-সন্ততিদের প্রাণহানি ঘটেছে..যা চলমান অছে এবং এই বিশ্ব কাঁপানো বিভীষিকাময় যন্ত্রনার মৃত্যুপুরী কখন তার কাল ছায়া তুলে নেবে এবং মৃত্যুর মিছিল কোথায় গিয়ে ঠেকে উপরে মহান সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কেউ জানেনা..!
বৈশ্বিক অর্থনীতি হঠাৎ ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে আই সি ইউ তে জীবন চক্রের লাল গ্রাফে এ্যালার্মিং সংকেতে উঠানামা করছে। চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত পরম সম্মানীত স্বাস্হ্য কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহামারী COVID-19 মোকাবিলাতে ফ্রন্টলাইনে মরণ সমরে অহর্নিশ যুদ্ধের ময়দানে বুক চেতিয়ে নিজেকে সঁপে দিচ্ছে সংসার এবং রংগিন জীবনের মায়াকে রীতিমত পদদলিত করে..!! মানুষ বাঁচাও, মানবতা বাঁচাও এবং দেশ বাঁচাও নামক অলিখিত এক নৈতিকতার দলিলে ভর করে আমার দেশের স্বাস্থ্যকর্মী, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিভিন্ন ফোর্সের সোনার সন্তানেরা, বিভিন্ন নেতা কর্মী উদীয়মান যুবক এবং ছাত্র সমাজ আপনজনদের আদর-ভালবাসা ছেড়ে এবং তাদের কাছ থেকে দুরে অনেক দুরে অবস্থান করে জীবন বিপন্নতার ঝুঁকি থাকা স্বত্ত্বেও বিধ্বস্ত সময়ের চ্যালেন্জকে বরণ করে নিয়েছে আপন মহিমায়; লকডাউনে সংশ্লিষ্ট আপনাদের সকলের কর্মকান্ডে এবং গ্লোব বায়ো-টেকের ডক্টর আসিফদের করোনা ভ্যাকসিন আবিস্কার করার অভিযাত্রিক মিশনে বিশ্ব জয় করার দৃপ্ত প্রত্যয় আর সৃষ্টির সেরা মানবজাতির মৃত্যুর ডেমোগ্রফিক ফিগারের উর্ধ্বগামী সূচক আর না দেখার জন্য হৃদয়ের ক্ষত এবং যন্ত্রণার যে অশ্রুধারা তাতে আজ জননী জন্মভূমি নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে। সেই সাথে নিরবে এক রব উঠছে “ আমরা পারব আমাদের কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছতে” আসলে কি!আমরা সবকিছুতে নেতিবাচক দিকটা বেশী খোঁজার চেষ্টা করি,কিন্তু আড়ালে ইতিবাচক দিকগুলোও যে আমাদেরকে একটি জরাজীর্ণ সময় উত্তীর্ণ করে বৈশ্বিকভাবে উন্নয়নের বিভিন্ন ইনডিকেটরে সমসাময়িক এবং পার্শ্ববর্তী দেশকে ছাডিয়ে যেতে ভূমিকা পালন করছে; এগুলো তো কারো করুনা বা দয়ার ফোঁয়ারা থেকে ঢেলে দেয়া কোন পানি পড়া বা তেল পড়া নয় যে সেবন করা মাত্র মূহুর্তের মধ্যে সর্বৈব উন্নয়নের ফকফকা আঁতশবাজি;বরং এই গাঙ্গীয় বদ্বীপের পলি বিধৌত কাঁদা মাটিতে জন্ম নেয়া বিভিন্ন পেশার ভূমিপুত্রদের সমন্বিত এবং কঠিন প্রচেষ্টার ফসল।আত্ম সচেতনতা এবং কিছু মৌলিক বিহ্যাবেরিয়্যাল চেইন্জের ক্ষেত্রে যদি আরেকটু মনোনিবেশ করতে পারি তাহলে তো আমরা আমাদের দেশের স্বাপ্নিক গন্তব্যে পৌঁছতে পারব বলে দৃঢ বিশ্বাস..!
কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসগত পরিবর্তন আজকের বৈশ্বিক করোনা মহামারীর দুর্দিনে এক টনিক হিসেবে কাছ করছে যা আমি এখানে জাপানে প্রত্যক্ষ করেছি এবং যে সব কারনে জাপান ধরতে গেলে করোনা মহামারীর প্রথম ওয়েব সফলতার সাথে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে তা নিম্নে আলোচনা করার চেষ্টা করব:-
# মাস্ক পরিধান এবং পরিচিতি রীতি:
মাস্ক পরিধান করা হচ্ছে জাপানীজদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ “The Diplomat” জাপান পত্রিকার তথ্যানুযায়ী এখানে প্রতি বছর ৫.৫ বিলিয়ন মত মাস্ক বিক্রি হয় যার মধ্যে প্রতিজন বছরে ৪৩ টি মাস্ক ব্যবহার করে। এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ না করলে নই তা হল জাপানীজরা কোন আপনজন এবং অতিথিদের সাথে সাক্ষাতের সময় হ্যান্ডশেক, কুলাকুলি, গালে বা গলায় চুম্বনের পরিবর্তে নির্দিষ্ট দুরত্ব বজায় রেখে মাথা নত করে অভিবাদন জানাই ফলশ্রুতিতে একজন আরেকজনের মধ্যে ক্লোজড কন্টাক্ট হয়না যা এই করোনা মহামারীতে স্বাস্হ্যবিধির এক অন্যতম শর্ত আর এইটাও মহামারী প্রশমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। উল্লেখ্য ,আমি বলছিনা যে নিজস্ব পরিচিতি বা কুশল বিনিময়ের ক্ষেত্রে জাপানীজদের রীতি চর্চা করতে হবে..!

# স্নান এবং ডিসইনফেক্টর ইউজ: যারা জাপানে বসবাস করেন তাদের অধিকাংশই জানেন জাপানীজরা প্রতি রাত্রে ৩৭ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস গরম পানিতে গোসল করেন, আর Listerin বা অন্যান্য ডিসইনফেক্টর দিয়ে গার্গলিং করেন যা তাদেরকে জীবানুর সংক্রমন থেকে রক্ষা করে এই করোনাকালে এই অভ্যাস এই জাতিকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করেছে।
# ক্লাস্টার বেইসড এ্যাপ্রোচ: এই এ্যাপ্রোচের ধারনাটি মূলত আসে ২০২০ ইংরেজী ৩রা ফেব্রুয়ারি যখন ডায়মন্ড ক্রুজ নামক একটি প্রমোদ তরী চীন হয়ে জাপানের ইয়োকাহামা পোর্টে নোংগর করে তখন ঐ শিপকে করোনা সংক্রমনের অন্যতম আধার হিসেবে পরিগণিত করা হয়। কেননা ঐ শিপে থাকা যাত্রীদের প্রায় ৭০০শতের উপর করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত করা হয়। উল্লেখ্য এখানে অর্ধেকের ও বেশী যাত্রী পজিটিভ রোগীদের সংস্পর্শে থাকার পরও তাদের রেজাল্ট নেগেটিভ হয়। আর এই শিপে থাকা পজিটিভ নেগেটিভ রোগীদের নিয়ে বিশ্বব্যাপী হৈচৈ পড়ে যায় কারন এই শিপে উন্নত বিশ্বের ৫৪ টি দেশের যাত্রী ছিল। এরপরে জাপানীরা এই শিপের সকল যাত্রীদের নিয়ে লেগে যায় বিভিন্ন গবেষণামূলক কর্মকান্ডে আর এই গবেষণা থেকে বের হয় ক্লাস্টার বেইজড এ্যাপ্রোচ। এখানে সবচেয়ে সংক্রমনকারী পজিটিভ রোগীর সাইন, সিম্পটম, ধরণ এবং প্রকৃতির উপর বিশদ পর্যালোচনা এবং এ্যাসেসমেন্ট করে কিছু বেসিক ক্রাইটেরিয়া সৃষ্টি করা হয় এবং এই ক্রাইটেরিয়াকে বেইস করে প্রত্যেকটি সিটি ভিত্তিক হাসপাতালে করোনা রোগী যাচাইকরণের কাউন্টার সেটআপ করন; আর এখানে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাসপাতালে আগত নাগরিকদের প্রাইমারীভাবে চেকআপ করার পরে যারা সেটআপ ক্রাইটেরিয়া মিট করে শুধুমাত্র তাদেরকে টেস্ট এবং করোনার চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ডায়োগনিসিসের ভিত্তিতে সংক্রমনের রেট যাদের হাই তাদেরকে আইসোলেশন, অন্যান্যদেরকে কোয়ারেন্টেন এবং মেডিকেশন দেওয়া হয় এবং এতে ইতিবাচক ফল আসে। এরপর জাপানেরই একটি প্রদেশ হুক্কাইডোতে যখন করোনার প্রথম প্রকোপ দেখা দেয় তখন ক্লাস্টার এ্যাপ্রোচের ভিত্তিতে এখানকার প্রাদেশিক সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের টেকনিক্যাল সহযোগিতায় করোনা নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। ফলশ্রুতিতে জাপানে লকডাউন এর পরিবর্তে স্টেট অফ ইমারজেন্সী ঘোষনা করা হয় যেখানে অধিকাংশ লোক অনলাইনে এবং ফিজিক্যালি নিজেদের কাজ কর্ম করতে পেরেছে। স্টেট অফ ইমারজেন্সীতে শুধুমাত্র অধিক লোকের জমায়েতের ক্ষেত্রগুলো যেমন: স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়, থিয়েটার, সিনেমা, এ্যামিউজম্যান্ট পার্ক, বড় বড় সুপার মার্কেট, ক্লাব, বার সহ অধিক লোক সমাগমের ক্ষেত্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য শিক্ষা প্রতিষ্টান ওঅন্যান্য ব্যবসা ও দাপ্তরিক কাজ ঘরে বসে অনলাইনে বসে চালানো হয়েছে। প্রথম দিকে পশ্চিমা বিশ্ব জাপানের এই এ্যাপ্রোচের সমালোচনা করে এবং বলে যে জাপানীরা কম টেস্ট করেছে যার কারনে তাদের ইন্ফেকশনের রেট কম। পরবর্তীতে যখন জাপান করোনার প্রথম ওয়েব সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয় তখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জাপানীজ মডেলের প্রশংসা করে এবং তা ফলো করে।
#এন্ট্রি ব্যান: যখন করোনার প্রকোপ দু্র্দমনীয় গতিতে ছুটছে তখন জাপান সরকার প্রায় বিশ্বের ১০০ টি দেশের নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। ফলে মাইগ্রেটেড করোনা জায়গা নিতে পারেনি। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য আমার প্রিয় মাতৃভূমি এই জায়গাটাতে কন্ট্রোল রাখতে পারেনি বা অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। যখন ইতালীর মহামারী অধ্যুষিত এলাকা থেকে বাংলাদেশী প্রবাসীরা আসতে শুরু করল তাদেরকে নিয়ণ্ত্রনের বা কার্যকরী পদক্ষেপের অভাবের কারনে আজ আমার দেশে এই অবস্থা..!

তিনটি চুম্বক বাক্য যা জাপানে করোনা এড়াতে সক্ষম হয়েছে তা হল:
– সামাজিক দুরত্বের ক্ষেত্রে নিম্ন মানের ভেন্টিলেশনে সংকীর্ণ জায়গা এডিয়ে চলা,
– গণ জমায়েত এডিয়ে চলা
– কাছাকাছি অবস্থান বা কথোপকথন এডিয়ে চলা।
# সরকারী নিদের্শনা পালন: করোনা সংক্রান্ত যে কোন সরকারী নিদের্শনাগুলো আবশ্যিক এবং ধর্মজ্ঞান মনে করে মেনে চলার মানসিকতা!
# প্রমোশনাল এ্যাকটিভিটিজ: সরকারী-বেসরকারি সব সেক্টর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাণিজ্য ক্ষেত্রগুলোতে মাস্ক পরিধান করা, স্যানিটাইজার ইউজ করা এবং সোশ্যাল ডিসটেন্সিং মেইনটেইন করা এক অপরিহার্য নাগরিক দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। ইন্টারেস্টিংলি সবাই স্বত:স্ফুর্তভাবে এগুলো মেনে চলছে। এছাড়াও করোনা সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অগণিত প্রমোশনাল এ্যাকটিভিটি জাপানে করোনা নিয়ণ্ত্রনের ক্ষেত্রে অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
উপরোক্ত তথ্যের আলোকে আমরা যদি আমাদের এই করোনাকালীন সময় মোকাবিলা করি তাহলে সফলকাম হব। তবে মনে রাখতে হবে জাপানের সংস্কৃতি ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি এক নই এরপরও সুস্থতা এবং আমাদের অস্তিত্বের লডাইয়ে জেতার জন্য উপরোল্লেখিত বিষয় আবশ্যিকভাবে বিবেচনায় আনলে আমাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণ বয়ে আনবে।
একটি গল্প দিয়ে ইতি টানব, এক গ্রামে একজন ঘাড় ত্যাডা টাইপের লোক ছিল তিনি সবসময় সমাজের প্রায় সকল ইতিবাচক বিষয়গুলোকে তুচ্ছ জ্ঞান করত এবং ভাল উদ্যোগগুলোর সমালোচনাতে মূখর থাকত। এতে করে সে সমাজের সকলের চক্ষুশূল ছিল এবং তা সে জানত। যখন সমাজের লোকেরা এইসবের জন্য তাকে ভৎসনা করত তখন সে ঝগড়ায় লিপ্ত হত তখন সে বলত আমার মৃত্যুর পরেও আমি তোমাদেরকে সুখে থাকতে দেবনা,এইভাবে তার ভিতর একধরনের পশু মনোবৃত্তি সৃষ্টি হয়েছিল। সে তার সন্তানদের অছিয়ত করেছে আমি মারা যাওয়ার পর রাতের আঁধারে কেউ না দেখে মত আমার লাশটা সমাজের চৌরাস্তার ধারে প্রকাণ্ড বৃক্ষের উপর ঝুলিয়ে রাখবে এরপরে তোমরা নিরদ্দেশ হয়ে যাবে;সন্তানরা কেন এই রকম করব জিজ্ঞেস করলে বলে যে এটা আমার একান্ত মনের ইচ্ছা এবং বাসনা, আমার সন্তান হিসেবে তোমাদেরকে তা অবশ্যই পালন করতে হবে। একদিন যখন এই লোক মারা যায় তখন তার সন্তানেরা পূর্বে দেওয়া অছিয়ত অনুযায়ী তার লাশ তার সমাজের চৌরাস্তার প্রকাণ্ড বৃক্ষে ঝুলিয়ে রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এরপর যখন সকাল হয় সমাজের লোকজন দেখে যে এই ব্যক্তির লাশ গাছে ঝুলে আছে তখন পুলিশ প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।পুলিশ যথারীতি আসে এবং পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে মামলা করে দেই ফলে সেই সময়ের জন্য নিজেদের আত্মরক্ষার স্বার্থে প্রায় গ্রামবাসী গ্রাম ছাড়া হয়ে যায় এবং একধরনের অনিশ্চয়তায় পড়ে তখন সমাজের মানুষের মনে এই বদ প্রকৃতির লোকের আগের বলা উক্তি মনে পড়তে লাগল, “ আমি মরলেও তোমাদের শান্তিতে থাকতে দেবনা” তেমনিভাবে আজ হাল আমলের দুর্নীতির আবরণে পশুত্বের মোড়কে জন্ম নেওয়া রিজেন্টের শাহেদরা আমাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদাকে এবং বিশ্বজুডে বসবাসরত রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অশান্তিতে থাকার মিশনে নেমেছে। করোনা নেগেটিভের জাল সার্টিফিকেটে কিছুদিন আগে জাপানে এরপরে ইতালীতে প্রবাসীদেরকে পাঠিয়েছে এরপর যা ঘটেছে তাতো এক বিকৃত এবং বিধ্বস্ত ইতিহাস জাতি হিসেবে আমাদের কপালে কূলুপের লাল তিলক এঁটে দিয়েছে…!! হায়রে লোভাতুর শ্রেণী.! কিছু অর্থ কড়ির লোভে জন্মভূমির একটি প্রতিশ্রুতিশীল অর্থনৈতিক খাতকে ধ্বংস করার এই কেমন পশুত্ব এবং আত্মহনন..! এগুলো উন্নত দেশ, এখানে সবাই দৈনন্দিন খাবার রুটিনের মত করে নিউজ দেখে এবং পড়ে। যখন সকালে কোন জাপানিজ আমাকে বলে জাল করোনা সার্টিফিকেটের কারনে তোমার দেশের নাগরিকদের ফিরতি ফ্লাইটে ফেরত পাঠিয়েছ। তখন প্রিয়বাসী, আমরা আমাদের মধ্যে থাকিনা লজ্জায় মাথা হেঁট করে নিজের প্রতি নিজের ঘৃনা চলে আসে আর তখন ইমেজ সংকটের বৃত্ততে অন্যান্য বিদেশীদের তুলনায় আমরা হয়ে যায় প্রতারণার খোলস থেকে জন্ম নেয়া এক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের আবর্জনার ন্যয়। তাই রাষ্ট্রযন্ত্রের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরুধ শাহেদদের প্রেতাত্মাতে ভর করে লুকিয়ে থাকা এই পশুদেরকে খুঁজে বের করে তাদের মূলোৎপাটনে সচেষ্ট হউন অন্যথায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আমাদের তিলে তিলে গড়া অর্জন নিমিষে ধূলায় মিশে যাবে এবং আমাদের দীপ্ত পথচলা বিঘ্নতার চোরাবালিতে হাবুডুবু খাবে..!

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •