মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার জেলায় কোভিড-১৯ মোকাবেলা সংক্রান্ত সার্বিক দিক পর্যালোচনার লক্ষ্যে এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে এক সভা শনিবার ১১ জুলাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সিএসপি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংসদ-সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সংসদ সদস্য জাফর আলম, সংসদ-সদস্য কানিজ ফাতেমা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ মাহবুব আলম তালুকদার, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার), কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, সেনা ও নৌবাহিনীর প্রতিনিধি, সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. অনুপম বড়ুয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, মহেশখালী পৌরসভার মেয়র মকসুদ মিয়া,

জেলার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানবৃন্দ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান, কক্সবাজার পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ নজিবুল ইসলাম, সাংবাদিক এবং জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।

সভায় বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘ ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনা হয়। সভায় সংসদ-সদস্যগণসহ সুধীজনেরা কক্সবাজার জেলায় কোভিড-১৯ মোকাবেলায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আইসিইউ ও এইচডিইউ স্থাপন, হাইফ্লো নেজাল ক্যানুলা সরবরাহসহ গৃহীত নানা পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁরা এসব ব্যবস্থা গ্রহণে অবদান রাখায় কক্সবাজারের কৃতি সন্তান ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, কক্সবাজার শ্রীম্প ও হ্যাচারি মালিক সমিতি, ঢাকাস্থ কক্সবাজার জেলা সমিতিসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সভায় মত প্রকাশ করা হয় যে, সরকারি নির্দেশনার পাশাপাশি কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে স্থানীয়ভাবে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে কক্সবাজার জেলায় করোনা সংক্রমণের হার কিছুটা নিম্নগামী হয়েছে। এধারা অব্যাহত রাখতে আংশিক নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা আরও কিছু দিন বহাল রাখা দরকার। আবার অন্যদিকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড যাতে চালু হতে পারে যেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরী। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতিতে নিম্নরুপ সিদ্ধান্ত সমুহ গৃহীত হয়ঃ

১) রোগ সংক্রমণের ব্যপকতা বিবেচনায় সিভিল সার্জন, কক্সবাজারের সুপারিশের ভিত্তিতে কোন এলাকার এক বা একাধিক অংশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হবে।

২) যেকোন পরিস্থিতিতে সকল প্রকাশ্য স্থানে জনসাধারণকে আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে। মাস্কবিহীন কোন নাগরিককে প্রকাশ্যে চলাচল বা অবস্থান করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩) পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে আগ্রহী ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনলাইন মার্কেট হতে কোরবানির পশু ক্রয়ের অনুরোধ জানানো হয়;

৪) রাস্তার ধারে কোন প্রকার পশুর হাট বসানো যাবেনা। যেসব স্থানে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসবে সেখানে ক্রেতা-বিক্রেতাকে স্বাস্থ্য-বিধি ও সামাজিক দুরত্ব মেনে চলতে হবে। প্রতিটি হাটে মোবাইল কোর্ট ও আইন-শৃংখলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ব্যর্থ হলে হাটের ইজারা/অনুমোদন বাতিলসহ ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৫) কাঁচা-বাজার, সুপার মার্কেট, শপিং মল ইত্যাদি সকাল ১০ টা হতে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। সর্বক্ষত্রে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে এবং স্যানিটাইজার, হাত ধোয়ায় ব্যবস্থা ইত্যাদি রাখতে হবে;

৬) সকল প্রকার গণপরিবহণে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। ইজিবাইক বা অটোরিক্সায় সর্বোচ্চ তিনজন যাত্রী পরিবহণ করা যাবে এবং

৭) পবিত্র ঈদ-উল-আযহার পর জেলার করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পর্যটন স্পটসমুহ খুলে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

কক্সবাজার জেলার সম্মানিত নাগরিকদের উল্লিখিত সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার জন্য সভার পক্ষ হতে
অনুরোধ জানানো হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •