সিবিএনঃ

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মী এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী করোনামুক্ত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাব হতে এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী’র ফলোআপ টেস্ট রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ আসে। বিশ্বস্ত সুত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী’র পরিবারের অন্য ৮ সদস্যও করোনামুক্ত হয়েছেন। গত ২৩ জুন স্যাম্পল টেস্টে দিয়ে ২৫ জুন এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী সহ পরিবারের ৯ সদস্য করোনা পজেটিভ হয়েছিলেন। যারা করোনা পজেটিভ হয়েছিলেন, তারা হলেন- এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী (৫১), তার সহধর্মিণী তসলিমা ওসমানী (৩৮), তাঁর মা উম্মে হাবিবা ওসমানী (৪ জুন ইন্তেকাল করেছেন), তার জ্যেষ্ঠ কন্যা তানজিম ওসমানী সুবাহ, মেঝ কন্যা ও ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নাদিয়া ওসমানী জাইমা, একমাত্র বোন দিলরুবা ওসমানী (৩৭), ভগ্নিপতি, কক্সবাজার জেলা পরিষদের কর্মকর্তা মোঃ আবদুল মান্নান, তার একমাত্র পুত্র সন্তান আশরাফুল মনির তামজিদ ও গৃহকর্মী রিনা আক্তার। এদের মধ্যে, বোন দিলরুবা ওসমানী (৩৭), ভগ্নিপতি, কক্সবাজার জেলা পরিষদের কর্মকর্তা মোঃ আবদুল মান্নান গত ১৮ জুন করোনা ‘পজেটিভ’ হন। এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী’র মাতা উম্মে হাবিবা ওসমানী (৭০) কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে করোনা ‘পজেটিভ’ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ৪ জুন সকাল ৯ টার দিকে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি–রাজেউন)।

এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী’র একমাত্র ভগ্নিপতি মোঃ আবদুল মান্নান প্রথমে রামু ডেডিকেটেড আইসোলেশন হাসপাতালে, পরে উখিয়া SARI Isoletion & treatment centre এ এবং সর্বশেষ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন। বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী সহ বাকী ৭ জন উখিয়া SARI Isoletion & treatment centre এ চিকিৎসা নিয়ে গত ৯ জুলাই সুস্থ হয়ে সেখান থেকে রিলিজ হন। তার আগে গত ১৯ জুন এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী’র শরীরে করোনা উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর থেকে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শাহজাহান নাজিরের অধীনে বাড়িতেই আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে বাড়িতে আইসোলেশনে থাকাবস্থায় মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী’র শরীরের অবস্থার অবনতি হলে সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহজাহান নাজিরের পরামর্শে তিনি উখিয়া SARI Isoletion & treatment centre এ গত ২৮ জুন ভর্তি হন।

এদিকে, গণমাধ্যমকর্মী এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী তাঁর ও তার পরিবারের আরো ৮ সদস্যের সুস্থতার জন্য মহান আল্লাহতায়লার দরবারে শোকরিয়া জ্ঞাপন করেন। তিনি জানান, সরকারি বেসরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনজীবী, চিকিৎসক, পেশাজীবী, বিভিন্ন সংগঠন, বিভিন্ন দপ্তর, গণমাধ্যম সহ সর্বস্থরের লোকজন তাঁদের শত ব্যস্ততার মাঝেও যেভাবে তাঁর ও তাঁর পরিবারের অসুস্থ সদস্যদের খোঁজ খবর নিয়েছেন, পাশে থেকেছেন, তাতে তিনি অভিভুত ও রীতিমতো মুগ্ধ। সংকটে, বিপদে আপদে মানুষের মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটানোর সুযোগ পায়, এটা তাঁর ও পরিবারের অসুস্থতার সময় তিনি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানান। তিনি এজন্য সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, আমাদের সকলকেই সম্মিলিতভাবে এই মানবিক প্রচেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিকে বিশ্বমানের স্বাস্থ্য সুবিধা সম্বলিত একটি দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। গড়ে তুলতে হবে-একটি মানবিক ও সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ। অসুস্থতার সময় চিকিৎসকের পরামর্শের কারণে ও কথা বলতে অক্ষমতার জন্য অনেকের মোবাইল ফোন রিসিভ করতে না পারায় তিনি সংশ্লিষ্ট সবার কাছে এজন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •