১০ জুলাই ২০২০ তারিখ দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় “কক্সবাজার সরকারি কলেজে কাজ না করেই টাকা লোপাট” শীর্ষক প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কলেজ প্রশাসন। উক্ত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। সংবাদটি ইতঃপূর্বে কক্সবাজারের একটি অখ্যাত অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হলে কলেজের পক্ষ থেকে বিগত ০৪ জুলাই ২০২০ তারিখ প্রতিবাদ জানানো হয়, যা কক্সবাজারের স্থানীয় পত্রিকা ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। উল্লেখিত অভিযোগসমূহের প্রতিবাদ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশের দীর্ঘ ৬ দিন পর কলেজ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে কোনরূপ সত্যতা যাচাই না করে পুনরায় একই সংবাদ প্রকাশে ইহাই প্রতীয়মান হয় যে, এটি একটি নির্দিষ্ট কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় করা হয়েছে এবং কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

উক্ত সংবাদে যে সকল অভিযোগ এবং তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মনগড়া ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কলেজের মানক্ষুন্ন করার অপপ্রয়াসে একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রীমহল সংবাদকর্মীদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে এহেন সংবাদ প্রচার করিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। উক্ত মিথ্যা সংবাদে কক্সবাজার সরকারি কলেজের মত একটি শ্রেষ্ঠবিদ্যাপীঠের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। উল্লেখিত সংবাদে যেসব মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তার ব্যাখ্যা নিম্নে তুলে ধরা হলো।

ভৌত বিজ্ঞান ভবনে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ওয়াশরুম নির্মাণের জন্য ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ রয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। নির্ধারিত মেয়াদ শেষের পরে তড়িঘড়ি করে ওয়াশরুম নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। উক্ত কাজের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেয়া হয় ২১/০৬/২০২০ তারিখ, যা কার্যাদেশ প্রদান পরবর্তী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ কাজের জন্য ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অদিধপ্তর হতে প্রাপ্ত কার্যাদেশের কপি অত্র কার্যালয়ে সংরক্ষিত আছে। সুতরাং অভিযোগটি সম্পূর্ণ মনগড়া।

কলেজের চাষযোগ্য জমিসমূহ সরকারি বিধি মোতাবেক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। এতে আর্থিক অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া কলেজের পুকুর দু’টি ঘাট বাঁধাই ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে হস্তান্তর করা হয়েছে। উক্ত উন্নয়ন কাজ স্বল্প সময়ের মধ্যে আরম্ভ হবে। এ দু’টি পুকুর কাউকে ইজারা দেয়া হয়নি। এ তথ্যটিও সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

করোনাকালীন এপ্রিল, মে ও জুন মাসে একটি ব্যাংকের কলেজের হিসাব থেকে অস্বাভাবাকি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ থাকার কথা উল্লেখ থাকলেও কলেজের হিসাব থেকে অস্বাভাবিক বা অন্যকোনভাবে কোন প্রকার টাকা উত্তোলন হয়নি। অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া ও বানোয়াট।

কলেজের উন্নয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দের লাখা লাখা টাকা ভুয়া বিল-ভাউচার জমা দিয়ে আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কলেজের যাবতীয় উন্নয়ন কার্যক্রম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে যথাযথভাবে সম্পাদিত হয়েছে এবং উক্ত উন্নয়ন কার্যক্রমের টাকা কোনভাবেই কলেজ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লোপাট করার সুযোগ নেই। অভিযোগটি অবান্তর।

স্বাধীনতা ভবনের সংস্কারের জন্য যে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল তা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে কার্যাদেশের সিডিউল মোতাবেক শতভাগ যথাযথভাবে বিগত ৩১/১০/২০১৮ তারিখ সম্পন্ন হয়েছে। এখানে অর্থ লোপাটের প্রশ্নই আসে না।

সরকারি কলেজের যাবতীয় উন্নয়ন ও স্থাপনা নির্মাণ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং কলেজের উন্নয়ন-নির্মাণ তদারকি কমিটির তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়ে থাকে। এ কাজসমূহের যাবতীয় টেন্ডার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক আহ্বান হয়। কাজ শেষে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে থাকে এবং কাজের টাকা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সরকারি ট্রেজারির মাধ্যমে ঠিকাদারকে পরিশোধ করে থাকে। এতে কলেজ কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই। অভিযোগটিও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

প্রকাশিত উক্ত সংবাদ প্রত্যাহার পূর্বক ভবিষ্যতে এমন সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সংবাদকর্মীদের সঠিক তথ্য জেনে সংবাদ পরিবেশনের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এ ভিত্তিহীন মিথ্যা বানোয়াটা সংবাদে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুধিমহলকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলো। কলেজের যে কোন প্রকার নির্মাণ ও উন্নয়নমূলক কাজ সংক্রান্ত তথ্য পেতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী জনাব আলোজ্যোতি চাকমার সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •