মোঃ আকিব বিন জাকের, মহেশখালী :

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী উপকূলের প্রায় অর্ধ কিলোমিটার অরক্ষিত বেড়িবাঁধ নির্মণের দাবীতে মানববন্ধন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

আজ ৮ ই জুলাই (বুধবার) উপজেলার মাতারবাড়ীর সাইরার ডেইল জালিয়া পাড়া গ্রামে সাগর তীরে দাড়িয়ে -‘ত্রাণ নয়, চাই টেকসই বেড়িবাধ’ ব‍্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।ঘন্টাব‍্যাপী চলমান উক্ত কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রায় চার থেকে পাচ’শ মানুষ।

মানববন্ধনে মাতারবাড়ী সাইরার ডেইল মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক জয়নাল আবেদীনের সঞ্চালনায় জেলা যুবলীগ নেতা মোঃ রশিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন – ভুক্তভোগী ইসমাইল, আব্দু গফুর, মোঃ ইয়াসিন মাঝি, ইলিয়াস বহাদ্দার,নুর মোহাম্মদ, সোহেল, রশিদ, মৌলনা আরেফ আলী, মোক্তার আহমদ,আশেক উল্লাহ,বশর,আব্দুল্লাহ মাঝি এবং হাছিম মাঝি প্রমূখ।

এসময় বক্তারা বলেন, “আমরা ত্রাণ চাই না, চাই টেকসই বেড়িঁবাধ। সাইরার ডেইলের দক্ষিণ পশ্চিমে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাথরের বেড়িঁবাধের পানির ধাক্কা ঘুরে ফিরে এসে সাইরার ডেইল জালিয়া পাড়া এসে আঘাত করায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। এছাড়া সাইরার ডেইল জালিয়া পাড়া এলাকায় বেড়িঁবাধ নির্মাণ না করায় প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি উঠানামা করছে। ফলে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে প্রতিনিয়ত তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি এবং রাস্তাঘাট। এজন্য আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। হতে হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির শিকার।”

সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সাইরার ডেইল ৩ কিলোমিটার চরাঞ্চলের আড়াই কিলোমিটারে জিওব্যাগ দিয়ে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ দেওয়া হলেও সাইরার ডেইলের জালিয়া পাড়ার অর্ধ কিলোমিটারে কোনো ধরনের বাঁধ দেওয়া হয়নি।

কিছুদিন আগে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাতারবাড়ি ইউনিয়ন। বিশেষ করে উপজেলার মাতারবাড়ী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে ভাঙন এলাকার হাজার হাজার মানুষের সহায় সম্পদ পানির মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে এখনো। সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ তাদের দিন অতিবাহিত করছে। এর উপর আবার বর্ষা মৌসুমের সুবাদে বেড়িবাধ না থাকায় প্রতিনিয়ত সাগরের পানির তান্ডব!

অরক্ষিত এলাকায় দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে উপকূলবাসীকে রক্ষা করতে মাননীয় সাংসদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবী জানিয়েছেন বক্তারা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •