নাছির উদ্দিন পিন্টু, ঈদগাঁও:
কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে বেড়িবাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এব্যাপারে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কক্সবাজার সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দায়েরকৃত অপর- ২৪৮ মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশি তফসিলভুক্ত জমিতে অনুপ্রবেশ না করা, জমির রূপ পরিবর্তন না করা ও জোরপূর্বক দখল না করার জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দ্বারা বারিত করা হয়েছিল।। মামলাটি দায়ের করেন ইউনিয়নের বানিয়াপড়া নিবাসী মৃত আব্দুর রহিমের পুত্র সৈয়দ ওমর, মোহাম্মদ হোসন, আমির হোসন ও মৃত মঞ্জুর হোসেনের পুত্র মুকাদ্দেস।

বিবাদীরা হলেন ভারুয়াখালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদার কক্সবাজার পৌরসভা নিবাসী মনজুর আলম, উপ ঠিকাদার জাফর আলম, উপ ঠিকাদার শরীফ, কবির আহমদ, সৈয়দ আহমদ, সুরত আলম, সৈয়দ আলম, ফরিদ আহমদ, বশির আহমদ, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, কক্সবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড, কক্সবাজারের ভারুয়াখালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের সেকশন অফিসার।

জমির তফসিল হচ্ছে মৌজা- ভারুয়াখালী, জে এল নম্বর ১২, বিএস সিট নম্বর ০৪, উপজেলা কক্সবাজার সদর, জেলা কক্সবাজার। নালিশি বিএস দাগ ৩৮৮৩, ৩৮৮৪, ৩৮৮০।
বাদী পক্ষের অভিযোগ, স্থানীয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড, কক্সবাজারের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের যোগসাজসে বিবাদীরা বাদীর প্রকৃত খতিয়ানী জমিতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও রাস্তার উন্নয়ন কার্যক্রম চালাচ্ছে।

৩৮৮৪ দাগের জমিটি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। এতে বিবাদীদের কোন দখল স্বত্ব নেই। তারা প্রভাব খাটিয়ে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। জায়গাটিতে একটি বসতবাড়িও রয়েছে। গোপাটের উপর দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করে তারা বাদীর ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত খতিয়ানী জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ অব্যাহত রাখায় তাদের সমূহ ক্ষতি হচ্ছে। এ ব্যাপারে তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের কর্তাবক্তিদের সরেজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে তাদের অনুকূলে প্রকৃত ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা সহ উপযুক্ত প্রতিকার দাবি করেছেন।

বিগত ৩ বছর পূর্বে আদালত বাদীদের পক্ষে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেয়ায় বিবাদীরা বেড়িবাঁধ ও রাস্তা নির্মাণ থেকে বিরত থাকার পর নতুন ভাবে আবার বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

বিএস ২৯৩ ও ২৯৪ নম্বর খতিয়ানের দাগাদির জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন আবদুল আজিজ। তার নামে আর, এস এবং এম, আর, আর খতিয়ান চূড়ান্ত প্রচারিত আছে। তার মৃত্যুতে তৎপুত্র আব্দুর রহিম ওয়ারিশ সূত্রে উক্ত জমি প্রাপ্ত হন। তার নামে ও বি, এস খতিয়ান চূড়ান্ত প্রচারিত হয়েছে। তিনি জমিতে সত্যবান দখলদার থাকাবস্থায় মারা গেলে তার পুত্র সৈয়দ ওমর, মোহাম্মদ হোসন, আমির হোসন এবং অপর এক পুত্র মনজুর হোসেন মরনে মুকাদ্দেস উক্ত জমির মালিক হন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •