সুখের সন্ধানে – আমরা সকলেই এই কথাটি শুনি আসছি। তবে একজন মুসলিমের জন্য এই কথাটির অর্থ কি?

সুখ কীভাবে পাওয়া যায়?

সুখের অন্বেষণ ইঙ্গিত দেয় যে, সুখ একটি গন্তব্য-এমন একটি লক্ষ্য যা এখনও পুরোপুরি অর্জন করা যায় নি, এবং প্রায়শই এটিকে প্রকৃতির অন্যতম মূল্যবান বিষয় হিসেবে মনে করা হয়।

মুসলিম হিসেবে আমাদেরকে বলা হয়েছে যে, এই পৃথিবীটি বাধা ও চ্যালেঞ্জের জায়গা হলেও আমরা সীমালঙ্ঘন না করে খাওয়া, পান করা এবং উপভোগ করতে পারি।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য যে কারও থেকে মানবজাতির সমস্যাগুলোকে খুব ভালোভাবে বুঝতেন। এবং এ কারণেই, সমস্ত মানুষের জন্য জান্নাতের চিরন্তন সুখের প্রতি তার দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল।

তাহলে আজ একজন মুসলিম কিভাবে সুখের চেতনাটি ধারণ করবে? এবং তৃপ্তি ও প্রশান্তির এই ধ্রুবক অবস্থাটি কীভাবে অর্জন করবে?

এখানে কয়েকটি মতামত উল্লেখ করা হল।

আকর্ষণের আইন অনুশীলন করুন

এর অর্থ কী?

কোনো ব্যক্তি যদি চারপাশে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলি সম্পর্কে ক্রমাগত ইতিবাচক চিন্তায় নিমগ্ন থাকেন তবে তিনি বিশ্বজগতের চক্রীয় প্রকৃতির মাধ্যমে তার জীবনে ইতিবাচকতার প্রতি আকৃষ্ট হবেন; ইতিবাচক চিন্তা ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসে।

স্পষ্টতই, মুসলমানদের জন্য এই দুনিয়া সযত্নে রাখার মত স্থান নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে আকর্ষণ আইন এখানে প্রয়োগ করা যাবে না। বরং আল্লাহ একটি হাদীস কুদসীতে বলেছেন, যাতে তাঁর প্রতি ভাল আশা রাখা হয়।

আল্লাহর প্রতি ইতিবাচক আশা তাঁর সাথে আমাদের সম্পর্কের প্রতিচ্ছবি। যদি আমরা আল্লাহর প্রতি নিস্তেজ আশা রাখি তবে এটি একটি সুস্পষ্ট লক্ষণ যে, আমরা ভুলে গিয়েছি তিনি নিজেকে আর-রহমান এবং আর-রহিম(পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু) নামে অভিহিত করেছেন।

এর চেয়েও বড় কথা, আল্লাহ নিজেই আমাদেরকে তাঁর কাছে চাইতে বলেছেন-দু’আর মাধ্যমে, যিকিরের মাধ্যমে, ইবাদতের মাধ্যমে। সুতরাং আল্লাহর প্রতি ইতিবাচক মানসিকতা এবং দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের জীবনে আনন্দ নিয়ে আসবে।

দু’আর পাশাপাশি চেষ্টাও করতে হবে

সফলতার জন্য শুধুমাত্র দু’আ করাই যথেষ্ট নয়। দু’আ আর ইচ্ছা এক বিষয় নয়। দু’আ হল আল্লাহর কাছে সাহায্যের জন্য আন্তরিক আহবান। যেহেতু আল্লাহ আমাদেরকে বলেছেন, তিনি আমাদের সাধ্যের বাইরে কোনো বিষয় চাপিয়ে দেন না। সুতরাং, এটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়, আল্লাহ আমাদেরকে যেকোনো কাজে সফলতার জন্য বিভিন্ন উপকরণও দিয়েছেন। দু’আর মাধ্যমে এই উপকরণসমূহের প্রাপ্তি এবং ব্যবহার আমাদের নিকট সহজ হয়ে যায়।

আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন

আল্লাহ কুরআনে আমাদেরকে বলেছেন যে, যারা কৃতজ্ঞ হয় আল্লাহ তাদের নিয়ামতকে আরও বাড়িয়ে দেন। যারা কৃতজ্ঞ হয় তারা কোনো দুর্বল মুহূর্তের শুকরিয়া আদায় করতেও ভোলে না, তা আপাতদৃষ্টিতে যতই ছোট হোক না কেন। এমনকি বিপদের আকারে আসা পরীক্ষার মধ্যেও তারা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে। আর এ কৃতজ্ঞতার সবচেয়ে বড় কারণ হল তাদের দিলে এই কথা আছে যে, আল্লাহ সকল অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং তিনি আমাদের জন্য ভাল ফয়সালাই করেন।

দুনিয়ার সমস্ত কিছু অস্থায়ী তা অনুধাবন করুন

যারা দুনিয়ার অস্থায়ী হওয়াকে স্মরণ রাখে কেবলমাত্র তাদের জন্য আকর্ষণ আইন এর অনুশীলন করা সহজ। যখন তাত্ক্ষণিকভাবে দু’আ কবুল করা হয় না বা কখনও অন্যরকমভাবে কবুল করা হয়, তখন হতাশ হয়ে পড়া বা দু’আ পরিত্যাগ করার মত মানসিকতা তৈরি হয়। তবে হতাশ না হয়ে আমাদের এটা মনে রাখা উচিত যে, যেসকল দু’আ দুনিয়াতে প্রতিফলন ঘটে না সেগুলির কারণে হাশরের ময়দানে অনেক পুরস্কার পাওয়া যাবে এবং যারা দুনিয়াতে বিভিন্ন কষ্ট পেরেশানিতে সবর করেছে তাদেরকে আল্লাহ তা’আলা আখিরাতে জান্নাত দিয়ে খুশি করে দেবেন।

প্রাধান্যদানের আইন অনুশীলন করুন

প্রকৃতপক্ষে সুখী মানুষ তারা যারা মানুষকে দিতে ভালোবাসে। যারা কৃপণ তাদের দিকে তাকালেই আপনি দেখতে পাবেন যে, তাদের জীবনে আসলেই কোন সুখ নেই। সর্বদা তারা দুঃখ, দুশ্চিন্তা ও উদ্বিগ্নতার মধ্যে কাটায়। তথাপি তারা অন্যের দিকেও নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে।

প্রাধান্যদানের আইন আমাদেরকে শিখায় যে, অন্যকে নিজের উপর প্রাধান্য দেওয়ার মধ্যেই প্রকৃত সুখ নিহিত। এটি আমাদের দ্বীনেরও একটু গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। প্রকৃতপক্ষে অন্যকে আমরা যত দেব ততই আমরা পাব, যতক্ষণ এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হবে। এটি কৃতজ্ঞ হওয়ারও একটি লক্ষণ কারণ আমরা মানুষকে যখন কিছু দিই এর মানে হল আল্লাহর প্রতি আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আছে যে, তিনি আমাদেরকে অগণিত দান করবেন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •