পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউপিতে আবু ছালেক (২০) নামে এক চৌকিদারকে ছুরিকাঘাত করে আহত করেছে আসামী পক্ষের লোকজন।

সোমবার সকাল ১১টার দিকে মগনামা ইউপির ঘাট মাঝির পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত চৌকিদার একই ইউপির মরিচ্যাদিয়া এলাকার কাইছার উদ্দিনের ছেলে ও ৯নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চৌকিদার।

একই ইউপির চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরীর নির্দেশে দফাদার আলমগীরের নেতৃত্বে একদল চৌকিদার আহত আবু ছালেককে উদ্ধার করে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিচ্ছে।

আহত চৌকিদার আবু ছালেক বলেন, মগনামা লঞ্চঘাট এলাকার ফিশারি ব্যবসায়ী ছরওয়ার বাদি হয়ে একটি অভিযোগের কারণে ঘাট মাঝির পাড়া এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে আবুল শামা ও তার ছেলে রবিউল আলমকে ডাকতে পাঠান চেয়ারম্যান মহোদয়। তাদের বাড়িতে যাওয়ার সাথে সাথে আবু্ল শামাসহ তার পরিবারের লোকজন আমাকে জিম্মি করে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে আবুল শামার হাতে থাকা ছুরি নিয়ে আমাকে আঘাত করার চেষ্টা করে। ওই সময় আমার হাতে ছুরিকাঘাত করে আহত করা হয়।

মগনামা ইউপির দফাদার আলমগীর বলেন, চৌকিদার আবু ছালেককে ছুরিকাঘাত করার খবর পেয়ে চেয়ারম্যান মহোদয় আমাদের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। আমরা আহত চৌকিদারকে উদ্ধার করতে গেলে আমাদের উপরও হামলার চেষ্টা করে আবুল শামা গং।

লঞ্চঘাট এলাকার ফিশারি ব্যবসায়ী গ্রাম আদালতে দেয়া অভিযোগের বাদি সরওয়ার বলেন, আবুল শামার ছেলে রবিউল আলম আমার দোকানের কর্মচারী ছিল। বিগত ১০দিন আগে সে আমার দোকান থেকে ১লাখ ৬৫ হাজার টাকা তালা ভেঙে নিয়ে যায়। তাৎক্ষনিকভাবে তাকে ধরে আমি চেয়ারম্যান বরাবর নিয়ে যায়। ওই সময় আমাদের ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিল। তাদের উপস্থিতিতে রবিউল আলম টাকা নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। ওই সময় রবিউল ও তার পিতা আবুল শামা ১লাখ ৬৫ হাজার দুইদিনের ভিতর দিয়ে দিবে বলে মৌখিক অঙ্গিকার করেন। দুইদিন পর তিনি টাকা না দিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। আজ (সোমবার) আসামী রবিউল আলম বাড়িতে আসছে খবর পেয়ে আমি চেয়ারম্যান মহোদয়কে অবগত করিলে ওনি চৌকিদার আবু ছালেককে পাঠিয়ে রবিউল আলম ও তার পিতা আবু্ল শামাকে ইউপি কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য বলেন। ওই সময় আবুল শামাসহ তার পরিবারে লোকজন চৌকিদারকে ছুরিকাঘাত করে আহত করে।

ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম বলেন, ১লাখ ৬৫ হাজার টাকা চুরির অভিযোগে সরওয়ার আলম বাদি হয়ে একটি অভিযোগে রবিউল আলম ও তার পিতা আবুল শামা দুইদিনের সময় নিয়ে পালিয়ে যান। ১০দিন পর বাদি সরওয়ার ফোন করে বলেন, আসামী রবিউল আলম বাড়িতে এসেছে। এরপর আমার ইউপির গ্রাম পুলিশ আবু ছালেককে পাঠিয়ে তাদেরকে কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য। চৌকিদার যাওয়ার সাথে সাথে আবুল শামাসহ আরো বেশ কয়েকজন মিলে চৌকিদারকে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে তিনি ছুরিকাঘাত হয়ে গুরুতর আহত হন। ইউপির দফাদার আলমগীরের নেতৃত্বে একদল গ্রাম পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এবিষয়ে মগনামা ইউপি কার্যালয়ের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •