সিবিএন, উখিয়া :

দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা পর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন এর আহবানে সাড়া দিয়ে RELIEF INTERNATIONAL হেলথ এন্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রাম ম্যানেজার পেট্রেসিয়া এফে আজকিয়ে উখিয়া SARI Isolation and treatment centre এর ডি-২ নম্বর বেডে নিজে স্বশরীরে গিয়ে পানি পান করিয়ে এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী’র অনশন ভঙ্গ করান। সোমবার ৬ জুন বেলা ১ টার পর এ অনশন ভাঙ্গা হয়।

এছাড়া, এসময় কক্সবাজারের এডিএম মোহাঃ শাজাহান আলি, সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুর রহমান, উখিয়ার ইউএনও মোঃ নিকারুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আ.জ.ম মঈন উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জিয়া উদ্দিন আহমদ, জেলা বিএমএ এর সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহবুবুর রহমান সহ বিভিন্ন জনের অনুরোধে এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী অনশন ভাঙ্গতে রাজি হন। RELIEF INTERNATIONAL এর ল্যাব সমন্বয়কারী মাসুদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এসময় RELIEF INTERNATIONAL
অন্যান্য দায়িত্বশীল উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসকবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

নিজ বেডে অনশনরত অবস্থায় মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা নাখেয়ে, ওষুধ পত্র সেবন করেননি। ফলে তিনি একজন কোভিড-১৯ রোগী হয়েও প্রায় সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়ে যান।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মী এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী করোনা ভাইরাস ‘পজেটিভ’ হয়ে গত ২৮ জুন থেকে সেখানে ভর্তি আছেন। রোগীদের সাথে ঔদ্ধত্য আচরণ করা ‘সাজু’ কে চাকুরী থেকে অপসারণ, ভুল চিকিৎসা দিয়ে ফাইল গায়েব করার গুরতর অভিযোগ গুলোর বিষয়ে ডিপার্টমেন্টাল তদন্ত রোববার সকাল থেকে শুরু হয়েছে। এমনটি জানিয়েছেন RELIEF INTERNATIONAL এর ডেপুটি টিম লীডার ডা. তানভীর।

প্রসঙ্গত, কোটি টাকা ব্যয় করে উখিয়া উপজেলার টিএন্ডটি মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে জাতিসংঘের অংগ প্রতিষ্ঠান ইউএনএইচসিআর-উখিয়া SARI আইসোলেশন এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টার টি কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অনুরোধে দ্রুততম সময়ে নির্মাণ করে দেন। গত ২১ মে হাসপাতালটি জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন উদ্বোধন করেন। ২৭ মে থেকে সেখানে কোভিড-১৯ রোগীদের ভর্তি দেওয়া শুরু হয়।RELIEF INTERNATIONAL উখিয়া SARI আইসোলেশন এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টার টি পরিচালনা করার দায়িত্বে আছেন।

জানা গেছে, বিশিষ্ট গণমাধ্যমকর্মী মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী’কে নিয়মিত প্রদত্ত সেফিরক্সিম ১ গ্রাম নামক একটি ইনজেকশন গত ৪ জুন সকাল সাড়ে আটটার দিকে পুশ করার কথা ছিলো। কিন্তু চিকিৎসক, নার্সেরা অবহেলা করে তাঁকে এই অতি প্রয়োজনীয় ইনজেকশনটা দেননি। ফলে তাঁর রোগ ক্রমাগত বেড়ে যেতে থাকে। কিন্ত শনিবার সকালের ইনজেকশনটি দিতে কেন একইদিন বিকেল পর্যন্ত সময় লাগলো-তা জানতে চাইলে ‘সাজু’ নামক জনৈক সহকারীর নেতৃত্বে হাসপাতালের ভেতরে ৫/৬ মাস্তান রোববার ৫ জুন সন্ধ্যায় তাঁর উপর মারমুখী হয়ে উঠে। তার প্রতিবাদে গণমাধ্যমকর্মী এড. মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী তাৎক্ষণিকভাবে নিজ D#2 নম্বর বেডে অবস্থান ধর্মঘট শুর করে দিয়েছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •