নিজস্ব প্রতিবেদক:

অতীতের মতো করোনার এই সংকটময় সময়েও মানবতার তরে কাজ করে যাচ্ছে হোপ ফাউন্ডেশন। মানবসেবার নামকরা এই সংস্থাটি নিজ উদ্যোগে ইতিমধ্যে দুটি করোনা আইসোলেশন সেন্টার চালু করেছে। তার আগে করোনার শুরু থেকেই করোনা প্রতিরোধ এবং রোগীদের জন্য বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রীসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে আসছিলো। নিজেদের দুটি করোনা আইসোলেশন সেন্টার চালুর পরও জেলা প্রশাসনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থাকে করোনার চিকিৎসা সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রেখেছে হোপ ফাউন্ডেশন। এর ধারবাহিকতায় রোববার (৫ জুলাই) জেলা প্রশাসন পরিচালিত সমুদ্রপাড়ের হোটেল প্রিসেন্স-এ স্থাপিত করোনা আইসোলেশন সেন্টারে করোনাও চিকিৎসা সামগ্রী ও সুরক্ষা সামগ্রী দিয়েছে হোপ ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ।

দুপুর ১২টায় ওই আইসোলেশন সেন্টার প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিক এই সব সামগ্রী জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের হাতে হস্তান্তর করেন হোপ ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কেএম জাহিদুজ্জামান। সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে, ২টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, ২৫০টি কেএন-৯৫ মাস্ক এবং পাল্স অক্সিমিটার।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহজাহান আলী, সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল্লাহ মারুফ, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আলী এহসান, হোপ হসপিটালের চীফ মেডিকেল অফিসার ডাঃ শহিদুল ইসলাম, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডাঃ নৃন্ময় বিশ্বাস, গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাঃ ফারহানা ফারুক, হোপ ফাউন্ডেশনের ফিস্টুলা ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর আজমুল হুদা, সহকারী কো-অর্ডিনেটর আনিতা তঞ্চঙ্গ্যা, হসপিটাল সুপারভাইজার কল্যাণী চৌধুরী, লজিস্টিক এন্ড প্রকিউরমেন্ট অফিসার শিহাব করিম, লিঁয়াজো অফিসার সরওয়ার আলম।

এসময় জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, অতীতের মতো এই করোনাকালেও সাধারণ মানুষের সহায়তায় হোপ ফাউন্ডেশন জেলা প্রশাসন ও অন্যান সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। একই সাথে তারা নিজেরাও স্বতন্ত্রভাবে করোনা রোগীদের আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের মতো বড় উদ্যোগ নিয়েছেন। মানবতার জন্য তাদের এই সহায়তা নিঃসন্দেহ প্রশংসনীয়। আগামীতেও হোপ ফাউন্ডেশন এভাবে মানবতার পাশে থাকবে বলে প্রত্যাশা করি।

হোপ ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ জানান, করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষ রোগীদের জন্য অক্সিজেন কনসেনট্রেটর প্রদান করা হয়েছে। হোপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট কক্সবাজারের কৃতি সন্তান ডাঃ ইফতিখার উদ্দিন মাহমুদ কক্সবাজারের করোনা রোগীদের জন্য এসব সহায়তাসুদূর আমেরিকা থেকে পাঠিয়েছেন। ইতিমধ্যে কক্সবাজার রামুতে হোপ ফাউন্ডেশন ৫০ শয্যার এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরো একটি ৫০ শয্যার করোনা আইসোলেশন সেন্টার চালু করেছে।

প্রসঙ্গত, আমেরিকা প্রবাসী ডা. ইফতিখার মাহমুদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কক্সবাজার জেলায় মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার কমানো এবং প্রসবজনিত ফিস্টুলামুক্ত জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তারই সার্বিক তত্ত্বাবধানে কক্সবাজার জেলায় হোপ ফাউন্ডেশনে আইসোলেশন সেন্টারসমুহ পরিচালনা করছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •