সংবাদদাতা , ফেনী :
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারিঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত করলেও ছাগলনাইয়া পৌরসভায় বিভিন্ন জায়গায় এনজিও’র ঋণের কিস্তি আদায় করা হচ্ছে।

আজ ৫ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১ঃ৩০ মিনিটে হিছাছরা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ঘাসফুল নামক এনজিও বিভিন্ন দোকানদার থেকে জোর করে কিস্তি পরিশোধ করতে দেখা যায়। এ সময় দোকানদারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো: মিয়া, মো: মোস্তফা সহ আরও অনেকে। ঘাসফুল নামক এনজিও এর সহকারী অফিসার তমা পাল কিস্তির টাকা আদায় করছিলেন। এ প্রতিবেদক করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কিস্তি আদায় না করতে সরকারের নির্দেশনা মানার ব্যাপারে  তার উপরস্থ অফিসারের সাথে কথা বলতে চাইলে  তিনি নাকচ করে দেন। তিনি ঋণ গ্রহীতাদের সাথে বিভিন্ন খারাপ ব্যবহার করেন।

এ ছাড়াও অন্যান্য এনজিওকর্মীরা ঋণগ্রহীতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জোরপূর্বক কিস্তি আদায় করছেন বলে আরো একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে পরবর্তীতে আর ঋণ দেবে না এমন শঙ্কায় অনেকে মুখ খুলছেন না। অনেকে সুদে টাকা এনেও কিস্তির টাকা পরিশোধ করছেন বলে জানা গেছে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনায় দিনমজুর, শ্রমজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দোকানপাট-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ঘরে অবস্থান করেছিলেন। দীর্ঘ চার মাস আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় ঘরে থাকা মানুষের মাঝে বাড়ছে হতাশা। এরপরও আবার কিস্তির জন্য তাড়া করছেন এনজিওকর্মীরা।

একদিকে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক, আর অন্যদিকে দোকান /বাসা ভাড়া, পল্লী বিদ্যুৎ বিল এবং এনজিওর ঋণের কিস্তির টাকার বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ। করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা কেটে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখা হোক এমনটাই দাবি ঋণগ্রহীতাদের।
সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে কাকডাকা ভোরেই এসব এনজিওর কয়েক শ’ কর্মী বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য বেড়িয়ে পড়ছেন।

এ দুঃসময়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দিনমজুরী পরিবারগুলোর উপর এনজিও’র কিস্তির টাকা যেন ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিস্তির টাকা নিয়ে ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে এনজিও কর্মীদের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ঝগড়া-বিবাদের ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হাত-পা ধরেও রেহাই পাচ্ছে ঋণগ্রহীতারা। কিস্তির টাকার জন্য এনজিওর কর্মীরা গরু-ছাগল নিয়ে যাওয়ার এবং ভবিষ্যতে ঋণ দেওয়া হবে না এমন ভয়ভীতি দেখিয়ে কিস্তির টাকা আদায় করছেন বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এ দুঃসময়ে কর্মহীন মানুষ কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেকে স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধ করছেন। আবার অনেকে এনজিও কর্মীদের ভয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •