সিবিএন, কুতুপালং ক্যাম্প এরিয়া থেকে :

আরিফ বিন ফরহাদ। একজন মেধাবী ও অদম্য কর্মপাগল মানুষ। গত ২৭ জুন তার শরীরে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের উপর্সগ দেখা দেয়। ২৮ জুন স্যাম্পল টেস্টে দেন ল্যাবে। ২৯ জুন রিপোর্ট পান ‘নেগেটিভ’। রিপোর্ট নেগেটিভ আসলেও কপালের বলিরেখা আরো স্পষ্ট হতে থাকে উপসর্গের মাত্রা বাড়তে থাকায়। ৩০ জুন অপ্রতিরোধ্য সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আরিফ বিন ফরহাদ-কে প্রায় কাবু করে ফেলে ডাইনী করোনা। মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তি করানো হয়, ঢাকা ইম্পালস হাসপাতালে তাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গণ বোর্ডের পর বোর্ড বৈঠক করে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আরিফ বিন ফরহাদ-এর চিকিৎসা সেবা দিতে থাকে, তাকে সারিয়ে তুলতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চলতে থাকে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে।

শুক্রবার ৩ জুন সকালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মেধাবী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আরিফ বিন ফরহাদ না ফেরার দেশে চলে যান (ইন্নালিল্লাহি–রাজেউন)।

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আরিফ বিন ফরহাদ এর মৃত্যুর সংবাদে কক্সবাজারের জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আইএনজিও এবং এনজিও পাড়ায় নেমে আসে শোকের ছায়া। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আরিফ বিন ফরহাদ এর মৃত্যু দ্রুব সত্য হলেও সহজে কেউই মেনে নিতে পারছিলেন না। সবার মুখে একটাই কথা, আরিফ বিন ফরহাদ স্বজ্জন, অমায়িক, অত্যন্ত হাসি খুশী, পরোপকারী, মানবিক গুনাবলী সম্পন্ন মানুষ ছিলেন একজন।

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আরিফ বিন ফরহাদ এর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। ২ মাসুম বাচ্চার জনক ছিলেন তিনি। তার সহধর্মিণী বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (WHO) কক্সবাজার স্টেশনে কর্মরত একজন কর্মকর্তা।
“Rest in peace Arif Bin forhad.”
(তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন-মি. ইফতেখার উদ্দিন বায়জীদ।)

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহজাহান নাজির থেকে মরহুম আরিফ বিন ফরহাদ এর ‘নেগেটিভ’ টেস্ট রিপোর্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন-“উপসর্গ দেখা দেওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে স্যাম্পল কালেকশন করে ল্যাবে টেস্ট করলে রিপোর্ট ভুল আসার সম্ভাবনা থাকে ৯০%। আর উপসর্গ দেখা দেওয়ার ৩-৫ দিনের মধ্যে স্যাম্পল কালেকশান করে টেস্ট করালে ৯৫% সঠিক রিপোর্ট আসার সম্ভাবনা থাকে। ইঞ্জিনিয়ার আরিফ বিন ফরহাদ এর ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই স্যাম্পল কালেকশন করে টেস্ট করায় হয়ত তার টেস্ট রিপোর্ট ‘ভুল’ এসেছে। সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহজাহান নাজির বলেন, বাস্তবতার নিরিখেই বার বার এমন ঘটনা ঘটছে। তাই, করোনা ভাইরাস উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীদের তড়িঘড়ি করে স্যাম্পল টেস্টে দেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •