নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল সাম্পানঘাট এলাকায় জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে কলেজ ছাত্রী ও বৃদ্ধসহ ৪ জনকে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা। শুধু তাই নয় হামলার পর সন্ত্রাসীরা বাড়িঘর ভাংচুরের পাশাপাশি নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আহতদের মধ্যে বৃদ্ধকে আশংকাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সদর মডেল থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ৮টায় খুরুশকুল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সাম্পানঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় হামলার শিকার মৃত সাধন চন্দ্র দে’র পুত্র মনি কাঞ্চন দে বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়-সাধন চন্দ্র দে’র নামীয় বসতভিটা ও নাল জমিসহ জায়গা পাশ্ববর্তী একদল পরধনলোভী লোক দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছিল। এঘটনায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এর আদালত-কক্সবাজারে একটি মামলা দায়ের করে সাধন চন্দ্র দে গং। যাহার পি.আর মামলা নং-১৩৬৭/১৯। পরে আদালত কর্তৃক উক্ত জায়গা নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাম্পানঘাট এলাকার মনিন্দ্র দে’র পুত্র পরিধন দে, পরীক্ষিত দে, বাবুল দে, একই এলাকার কার্তিক দে’র পুত্র অক্ষয় দে ডালিম, কাঞ্চন দে, বাবুল দে’র পুত্র রানা দে, রনি দে, মৃত যোগেন্দ্র দে’র পুত্র মনোরঞ্জন দে, সতীষ চন্দ্র দে, নন্দ্র কুমার দে, কন্যা তরুনী দে ও এলাকার পার্থ দে’র নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একদল সন্ত্রাসী উক্ত জায়গা দখলের জন্য মৃত সাধন চন্দ্র দে’র বসতভিটায় দা, কিরিচ, লোহার রড, কাঠের লাঠিসহ বিভিন্ন দৈশিয় অস্ত্র নিয়ে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেন-মৃত সাধন চন্দ্র দে’র পুত্র গুরাধন দে (৫৫), অরুপ দে (৩২), গুরাধনের কন্যা কক্সবাজার সিটি কলেজের ডিগ্রীতে অধ্যয়নরত ছাত্রী মুন্নী দে (২০) ও পুত্র বাপন দে (২২)। আহতদের সকলকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে দুপুরের দিকে অবস্থার অবনতি হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে গুরাধন দেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। হামলা ও বাড়ি ভাংচুরের পর সন্ত্রাসীরা নগদ ৬০ হাজার টাকা, ২ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। তাছাড়া সন্ত্রাসীরা হামলার শিকার পরিবারের নাল জমির চাষের ২০ হাজার টাকার মত ধান নষ্ট করে ফেলে।

ঘটনার খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আমিনুলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •