মুহাম্মদ শামসুল হক শারেক


স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কে চিনে না? নতুন করে তাঁর পরিচয় দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ‘বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধুই’। পাকিস্তানী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সূর্যের মত উদিত হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে যার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে। পাকিস্তানী স্বৈরশাসন থেকে স্বাধীন হয় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।

সেদিন সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত দেশটিকে গুছিয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু ঘাতকরা বেশীদূর এগুতে দেয়নি তাঁকে। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ আগষ্টের ভয়াল রাতে তাঁকে স্বপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে যেন অস্তমিত হয় ‘স্বাধীনতার সেই সূর্য’। বড় অকৃতজ্ঞ জাতি সেই নির্মম হত্যাকান্ডের পরে কোন প্রতিবাদও করেনি।

একটি স্বাধীন দেশের মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে তাদের নিজস্ব সভ্যতা সংস্কৃতি নিয়ে বেঁচে থাকার চিন্তাও বঙ্গবন্ধু ভুলে যাননি। তাই দেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী মুসলমানদের তাহাজিব-তমদ্দুন ও সভ্যতা সংস্কৃতির লালন ও প্রসারের জন্য ২২মার্চ ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সারা দেশে ইসলামী চেতনার প্রচার প্রসারের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু হয়ত বুঝাতে চেয়েছিলেন এদেশ নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষের আবাস হলেও স্বাধীন বাংলাদেশ হবে ইসলামী ওম্মাহর অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ ও এদেশের মানুষ এগিয়ে যাবে ইসলামী চেতনাকে ধারণ করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন এখন সরকারের একটি অনেক বড় প্রতিষ্ঠান। কুরআন, হাদিসের অনুবাদ ও তাফসীরসহ হাজার হাজার ইসলামী সাহিত্য রচনা ও প্রচারের মাধ্যমে ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশব্যাপী ইসলামী জ্ঞান ও চেতনার প্রচার প্রসারে রেখে যাচ্ছে অনন্য অবদান।

আল কুরআনের প্রমাণ্য তাফসীর গুলোর যেমন তাফসীরে ইবনে কাছির, তাফসীরে মায়ারিফুল কুরআন এর লাখ লাখ কপি প্রকাশ ছাড়াও বিশেষজ্ঞ ইসলামী স্কলার দিয়ে ইফা আল কুরআনের নিজস্ব অনুবাদ প্রকাশ করেছে। সিহা ছিত্তার সবগুলো হাদিস গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ প্রকাশ ছোট কথা নয় বরং অনেক বড় কথা।

একদল বিশেষজ্ঞ ইসলামী স্কলারএর মাধ্যমে বোখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে অনেক আগে। এছাড়াও অনুবাদ এবং রচনা মূলক বই প্রকাশিত হয়েছে হাজার হাজার। এগুলো সবই ইসলামী চেতনা ও ভাবধারার বই।

ইফা কক্সবাজার শাখার ডিডি ফাহমিদা বেগম সূত্রে জানা গেছে, আল কুরআনের ৭টি তাফসীর ও সিহা ছিত্তার সবগুলো হাদিস গ্রন্থসহ ইফার প্রকাশিত ইসলামী বই এর সংখ্যা প্রায় ৬ হাজারের মত। কুরআনের তাফসীরের মধ্যে রয়েছে, তাফসীরে ইবনে কাছির, তাফসীরে মায়ারিফুল কুরআন, তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে মাজহারী, তাফসীরে মাজেদী, তাফসীরে জালালাইন, তাফসীরে ওসমানী ও তাফসীরে ইবনে আব্বাস।

এছাড়াও পরিবর্তিত আধুনিকতার ছুঁয়ায় গ্রামে কুরআন শিক্ষার প্রাথমিকস্তর মক্তব গুলো যেখানে প্রায় বন্ধ হয়েগেছে, সেখানে ইফা সারা দেশে ৬০/৭০ হাজার মসজিদ ভিত্তিক গণশিক্ষা কেন্দ্র চালু রেখেছে। শুধু কক্সবাজারে এরকম গণ শিক্ষা কেন্দ্র আছে ৭শ মত।

ইফার সাবেক মহাপরিচালক শামিম মুহাম্মদ আফজাল এক সময় দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক মন্ত্রী প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মরহুম মাওলানা এম এ মান্নানের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। এসুবাদে তিনি কক্সবাজারের একটি আদালতে বিচারক থাকার সময় আমার সাথে তাঁর পরিচয়।

তাঁর সব চিন্তা চেতনার সাথে দেশের আলেম ওলামারা একমত হতে না পারলেও তিনি ইফার দায়িত্ব পালনে শ্রম দিয়ে গেছেন। তিনি গত ২৫ জুন ২০২০ ইং ইন্তেকাল করেছেন। আমি তাঁর মাগফিরাত কামনা করছি। তাঁর সাথে আমার অনেক স্মৃতি আছে। ইফার বর্তমান মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন (উপসচিব) আনিস মাহমুদ।

বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই ধারা বন্ধ করেননি বরং অব্যাহত রেখেছেন। এতে করে বুঝাযায় ‘বঙ্গবন্ধু যেমন বুঝাতে চেয়েছিলেন এদেশ নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষের আবাস হলেও স্বাধীন বাংলাদেশ হবে ইসলামী ওম্মাহর অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ ও এদেশের মানুষ এগিয়ে যাবে ইসলামী চেতনাকে ধারণ করে’।

বর্তমান শেখ হাসিনার সরকারও চায় বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষ এগিয়ে যাবে ইসলামী চেতনাকে ধারণ করে। ইসলামী চেতনা বুকে ধারণ করেও বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াবে।

আমি তখন জামায়াতে শশুম (৬ষ্ট শ্রেণী) শেষ করি উখিয়ার ডিগলিয়া পালং মাদ্রাসায়। স্কুল কলেজে যাবার আগে একই কাউমী সিলসিলার প্রতিষ্ঠান রামু চাকমারকুল ’দারুল উলুম মাদ্রাসায়’ পঞ্জুম বা সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হলাম। অত্র এলাকায় এই মাদ্রাসার খুবই সুনাম। তবে আধুনিক পড়া লেখার কমতি সব কাউমী মাদ্রাসার মত এখানেও। এই মাদ্রাসায় তিন বছর পড়া লেখার সময়ে অনেক স্মৃতি আছে আমার।

ওই সময়ে তিন গ্রামের তিন বাড়িতে লজিং ছিলাম আমি। তবে বেশী সময় ছিলাম মাদ্রাসা হোস্টেলে। দক্ষিণ চাকমার কুলের মাতবর পাড়ায় মরহুম নুর আহমদ সওদাগরের বাড়িতে (বর্তমান কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি এড. নুরুল আমিন এর বাড়ি) ছিলাম জীবনের প্রথম লজিং। আমার পড়ানোর মত তাদের তেমন কোন ছেলে-মেয়ে ছিল না। পরে জানতে পেরেছি শুধু চাকমারকুল মাদ্রাসার দরদে এই মাদ্রাসার একজন ছাত্রকে লজিং রাখা।

মাদ্রাসার আশ পাশের অনেক বাড়িতেই এভাবে মাদ্রাসার ছাত্রদের লজিং রাখা হত। এখনো সেই রেওয়াজ বা দরদ অব্যাহত আছে কিনা সঠিক জানা নেই। এই গ্রামে আরো অনেকেই আমার মত লজিং থাকতেন। সবাই দল বেঁধে মাদ্রাসায় যাতায়াত, জোস্না রাতে বাঁকখালীর চরে বিভিন্ন খেলা ধুলা এখনো মনে পড়ে।

মাতবর পাড়ার মরহুম মাওলানা ফুরুখ আহমদের ছেলে (মাওলানা) কলিমুল্লাহ ছিল সেখানে আমার সার্বক্ষণিক বন্ধু। পরবর্তীতে সে নাইক্ষংছড়িতে বসবাস করত। সেখানে একটি মাদরাসা করে অনেক ভাল কাজ করেছে। গত কয়েকমাস আগে সে ইন্তেকাল করেছে। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন।

ওই সময় একদিন কি কাজে রামু হয়ে সকালে মাদ্রাসায় যাচ্ছিলাম। গাড়ি না পেয়ে হেঁটে রামু থেকে চাকমারকুল মাদ্রাসায় যাচ্ছিলাম। বর্তমানে বাইপাস খালেকুজ্জামান চত্বরে পৌঁছাই। পেছন থেকে মোটর সাইকেলের হর্ণ আর বাঁশির আওয়াজে ভয় পেয়ে পেছনে ফিরি। দেখি মোটর সাইকেল স্কটসহ বিশাল গাড়ি বহর এগিয়ে আসছে কক্সবাজারের দিকে। আমি রাস্তার দক্ষিণ পাশে দাঁড়িয়ে পড়ি। পালাতে গিয়েও ভয়ে পালাতে পারিনি। গাড়ির বহরে দেখি একটি গাড়িতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমাকে ভয়ার্ত দেখে হয়ত তিনি জানালা খুলে হাত নেড়ে আমাকে অভয় দিলেন। গাড়িবহর চলে গেলেও আমার ভয় কাটেনি।

ভাবছিলাম অকল্পনীয়ভাবে পথে এভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখা! বিষয়টি সেদিন বড় কিছু মনে করা না হলেও সেই বিষয়টি কালের পরিক্রমায় ইতিহাস হয়ে থাকল।
এর পর একদিন জানলাম (দিন তারিখ মনে নেই) বঙ্গবন্ধু বিমানযোগে কক্সবাজার আসছেন। বঙ্গবন্ধুকে মনভরে দেখার আকাঙ্খা নিয়ে আগেভাগে কক্সবাজার শহরে এলেও মানুষের ভীড় আর নিরাপত্তা কর্মীদের ছিল প্রচুর কড়াকড়ি। বিমানবন্দরে বা রাস্তার পাশে কোথাও যেতে না পেরে বনবিভাগের বিপরীতে ডা. নুরুল হকের বিল্ডিং এর দু’তলায় অনেক কষ্টে অনেকের সাথে আমিও অবস্থান নিয়েছিলাম।

ইতোমধ্যে গাড়ি বহর নিয়ে বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর হয়ে সার্কিট হাউজে যাওয়ার সময় গাড়ির জানালা দিয়ে হাত নেড়ে উপস্থিত জনতাকে অভিবাদন জানান। তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হাসিমুখে হাত উচিঁয়ে অভিবাদন আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে। কিন্তু কাছ থেকে তাঁকে মনভরে দেখতে নাপারার কষ্টটা থেকেই গেল।

ছোট বেলা থেকেই বাবার তাগিদে হাতের লেখা সুন্দর করার চেষ্টা করতাম। হাতের লেখা সুন্দর করার জন্য বাবার অনেক তদবীর ছিল। শিবা বাঁশের শাখা দিয়ে কলম তৈরী করে দিতেন। এগুলো দিয়ে লিখতে হত। বাজারের কলম দিয়ে লিখতে দিতেন না বাবা। লেখা সুন্দর করার নাকি এটাই পদ্ধতি। বাজার থেকে প্যাকেট কালি এনে দিয়ে দোয়াত ভর্তি করে কালি বানিয়ে রাখতেন। এক লাইন করে খাতায় লিখে দিতেন।

এগুলো দেখে দেখে সকাল বিকাল লিখে বাবাকে দেখাতে হত। খেলা ধুলা বা কোন কারণে একদিন না লিখলে আমাকে শুধু নয় এ জন্য মা‘কেও আমার জন্য বকুনী শুনতে হত। শুনেছি আগে নাকি মানুষ কাগজের অভাবে কলা পাতার উপরও লিখত। বাংলা, ইংরেজী, আরবী বলতে কোন কথা নেই। সেই থেকে কোন সুন্দর লেখা দেখলে এখনো আমি এটা রপ্ত করার চেষ্টা করি। আঙ্গুল দিয়ে টেবিলে অথবা কলম দিয়ে কোন খচড়া কাগজে লিখতে চেষ্টা করি।

তখন থাকতাম চাকমারকুল মাদ্রাসার হোষ্টেলে। ফজর নামাজের পর এক সকালে রাস্তার পাশে নাস্তা করতে যাই। রাস্তায় দেখি বড় বড় বাংলা অক্ষরে ‘হরতাল’ লেখা। আরো দেখি হরতাল পালনের আহবান জানিয়েছেন সিরাজ সিকদার। সিরাজ সিকদারকে তো আমি চিনিই না। হরতালের মাহিত্যও বলতে গেলে তখন বুঝি না। রাস্তায় চুনা দিয়ে বড় বড় সুন্দর অক্ষরে ‘হরতাল’ লেখা দেখে আমি খুবই আকৃষ্ট হই।

মাদ্রাসায় গিয়ে চক পেন্সিল দিয়ে আমার রুমের দরজায় এবং দেয়ালে বড় অক্ষরে ‘হরতাল’ লিখে লেখাটা রপ্ত করছিলাম। ছাত্রদের অনেকেই এ নিয়ে বলাবলি করছিল।

ইতোমধ্যে এ খবর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নিকট চলে যায়। মাদ্রাসার মুহতামিম (পরিচালক) ছিলেন মরহুম মাওলানা সোলাইমান হুজুর। মরহুম মাওলানা আখতার কামাল হুজুর (মুহতামিম সাহেবের বড় ভাই) ছিলেন প্রধান মোহাদ্দিছ। মরহুম মাওলানা হোছাইন আহমদ হুজুর (মিঠাছড়ি ইউপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান), মরহুম মাওলানা জাকের হুজুর, মাওলানা ফুরকান হুজুর (বর্তমানে চট্টগ্রাম দারুল মায়ারিফের সহকারী পরিচালক) ও মাওলানা ছৈয়দ আকবর হুজুর সবাই মিলে জরুরী সভা ডেকে আমাকে ডেকে পাঠানো হয়।

হুজুরেরা চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন আসলে মাদ্রাসায় হরতাল হচ্ছে কিনা। সব হুজুরেরা আমাকে প্রচন্ড স্নেহ করতেন। ফুরকান হুজুর আমার কাছে হরতাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। ধরা পড়ল আমার বোকামি। তাই শুনতে হল বকুনি।

তখন হুজুরের কাছে জানলাম সিরাজ সিকদার সর্বহারা পার্টির নেতা। ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকার প্রধান। সরকারের বিভিন্ন ধরণের অনিয়ম-অসঙ্গতি নিয়ে সিরাজ সিকদারের প্রতিবাদ। পরিবেশ পরিস্থিতি ভাল না। কেউ এ সব ব্যাপারে কথা বলতে পারে না। সিরাজ সিকদারের দেশব্যাপী এই হরতাল দুঃসাহসিক। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এ সব পলিটিক্যাল বিষয়ে জড়াতে চায়না।
১৯৭৫ সালে ১৫ আগষ্টের সকাল বেলা। তখন আজকের মত মিডিয়ার প্রসার ছিলনা। মাদ্রাসা হোষ্টেলে রেডিও-টিভির খবর পাওয়া সহজ ছিল না। তাই রাতে ঢাকায় সংঘটিত বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার খবর আমরা জানতে পারিনি। মাদ্রাসায় নিয়মিত যাতায়াত করত একজন ক্ষৌর কর্মকার। নাম ধাম তার এখন মনে নেই। আমরা ছাত্ররা তার কাছেই চুল দাড়ি ঠিক-ঠাক করতাম।

সেদিন সকাল বেলায় মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এসে চিৎকার দিয়ে বলে ‘অ কা বঙ্গবন্ধু আর নাই’। তার কাছেই আমরা জানলাম রাতে সেনা বিদ্রোহে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে মারা গেছেন। তাঁকে কাছ থেকে দেখার সুযোগটা আমার আর হলনা। এজন্য আমার খুব কষ্ট লেগেছিল।

তখন অত সব রাজনৈতিক মারপ্যাচ আমি বুঝি না। দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বপরিবারে মারা গেলেন। এত বড় হত্যাকান্ডের পর আওয়ামী লীগ অথবা দেশবাসীর পক্ষ থেকে কোন প্রতিবাদ, বিক্ষোভ হলনা কেন? এ নিয়ে তখন আমার ছোট মনে দেখা দিয়েছিল নানা প্রশ্ন।

এই মাদ্রাসায় সহপার্টিদের মধ্যে তখন ছিলেন প্রফেসর কাজী দ্বীন মুহাম্মদ। তিনি এখন চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এর ট্রাষ্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যা এবং আইআইইউসির অধিনে পরিচালিত মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান। কক্সবাজার হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা আজিজুল হক। প্রচন্ড মেধাবী ছাত্র মোস্তাক আহমদ, মাওঃ আহমদ হোছাইন, মাওঃ তৈয়ব ও মাওঃ জাফর উল্লেখযোগ্য। ওনারা সাবাই দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত।

বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে ছোটবেলার সেই স্মৃতি গুলো বার বার মনে পড়ে আমার। একটি স্বাধীন দেশের স্থপতিকেও এদেশের মানুষ হত্যা করার মত অকৃতজ্ঞতা দেখিয়েছে। কত বড় অকৃতজ্ঞ এ জাতি!

 


লেখক: বিশেষ সংবাদদাতা ও কক্সবাজার ব্যুরো প্রধান, দৈনিক ইনকিলাব।

০২ জুলাই ২০২০ ইং

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •