ফাইল ছবি

অজিত কুমার দাশ হিমু :

স্বাস্থ্য বিধি অনুসারণ করে সারা দেশে গণপরিবহন চললেও কক্সবাজার জেলার চলছে না। ফলে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে কক্সবাজার আন্তঃ জেলার পরিবহন সেক্টর। এতে করে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা চরম দুঃখ কষ্টে কর্মহীন অর্ধাহারে অনাহারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। তাই তারা স্বাস্থ্য বিধি মেনে আন্তঃ জেলায় বাস চলাচলের আকুল অনুমতি চেয়েছেন জেলা প্রশাসকের।

সূত্রে জানা যায়, বৈশ্বিক মহামারী নোভেল করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ তিনমাস ধরে স্বাস্থ্য বিধির কারণে আন্তঃ জেলা সড়কে যাত্রী পরিবহন বন্ধ রয়েছে। অথচ চট্টগ্রাম ও ঢাকা হতে বিভিন্ন সার্ভিসের বেশকিছু গাড়ী কক্সবাজার বিআরটি এর অনুমতি ছাড়া দিনে ও রাতে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত চলাচল করলেও উখিয়া টেকনাফে সড়কে চলাচলকারী স্থানীয় মিনিবাস গুলো  বাঁধার কারণে চলাচল করতে পারছে না।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার বাস-মিনিবাস মালিকগ্রুপের সহ-সভাপতি আবদুল মাবুদ কোম্পানী জানান, আমাদের মালিক গ্র“প কক্সবাজার আন্তঃ জেলায় দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে যাত্রী পরিবহন করে আসছে। এছাড়া অত্র এলাকার স্কুল/কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র/ছাত্রী পরিবহন সহ সরকারের যে কোন প্রয়োজনে গাড়ী সহযোগীতা দিয়ে আসছে। কিন্তু এই বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের দুর্যোগের সময় আমাদের বাস গুলো চলাচল করতে না পারায়, আমরা পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা খুবই দুঃখ কষ্টে কর্মহীন মানবেতর জীবন যাপন করছি। তাই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই, আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার আছে। আমাদের দিকে একটু সুনজর দিন। কক্সবাার-টেকনাফ ও কক্সবাজার-চকরিয়া সড়কে স্বাস্থ্য বিধি মেনে আমাদের বাস গুলো চলাচলের অনুমতি দিন।

কক্সবাজার আন্তঃ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আবু বলেন, দীর্ঘ তিনমাস যাবৎ আমাদের শ্রমিকরা গাড়ী চালাতে না পারায়, সীমাহীন কষ্টের মধ্যে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন যাপন করছে। আমার শ্রমিকদের বাঁচাতে আন্তঃ জেলায় গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন। তাই তিনি শ্রমিকদের পরিবারকে বাঁচাতে স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে আন্তঃ জেলায় বাস চলাচলের অনুমতি দানের আকুল আবেদন জানান।

কক্সবাজার টেকনাফ সড়ক চলাচলকারী মিনিবাসের ড্রাইভার নুরুল আবছার জানান, ঢাকা চট্টগ্রামের বাস গুলো উখিয়া টেকনাফ সড়কে চলাচল করলেও কোন প্রকার বাঁধা দেওয়া হয় না। কিন্তু আমরা স্থানীয় গাড়ী গুলো এ সড়কে চলাচল করলে বাঁধা দেয়। যার কারণে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছি। তাই জেলা প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, যেন কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে চলাচলকারী বাসগুলো চলাচলের অনুমতি দেন।

এদিকে বিশিষ্টজনরা মনে করছে, আন্তঃ জেলা সড়কে দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকলে তা স্থানীয় অর্থনীতিতে চরম প্রভাব পড়বে। ফলে শ্রমিকরা জীবিকার তাগিদে অন্য সেক্টরে চলে যাবে। এতে করে হুমকির মুখে পড়বে পরিবহন সেক্টর। তাই এই সেক্টরকে বাঁচাতে অন্যান্য জেলার মত এ জেলাতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে গণপরিবহণ চলাচলের অনুমতি দেওয়া দরকার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •