মো: জসীম উদ্দীন

 

১ জুলাই, নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন। নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম। একসাথে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে। এভাবেই চলে আসছিলো বিগত বছর গুলোতে। কিন্তু আজ প্রেক্ষাপট তো ভিন্ন।

মহামারী কোভিড-১৯ এর কারণে আজ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। শিক্ষক-কর্মচারীর কোন ব্যস্ততা নেই। শিক্ষার্থীদের কলেজে আসার কোন তাড়া নেই। অচেনা এক দৃশ্য। সবাই আজ আমরা ঘরে বন্দি। এসএসসি পাশ করা শিক্ষার্থীদের মনে বড় কষ্ট। তারা এখনো তাদের কাঙ্খিত কলেজে ভর্তি হতে পারে নি।

আমরা সবাই জানি ১৭ মার্চ থেকে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। এই বন্ধকালীন সময়ে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অন লাইনে ক্লাস চলছে। আমাদের কলেজের অনেক শিক্ষার্থী এতে যুক্ত হয়ে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে। বিভিন্ন কারণে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এতে যুক্ত হতে পারে নি।

যেমন শিক্ষার্থীদের স্মার্ট ফোন না থাকা,ডাটা ক্রয় করার সক্ষমতা না থাকা, অভিভাবকদের সহযোগিতা না পাওয়া ইত্যাদি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান প্রক্রিয়ার বিকল্প অন লাইনে পাঠদান হতে পারে না। তারপরও এই ক্রান্তিলগ্নে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখার জন্য এ মূহুর্তে অন লাইনে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া ছাড়া কোন উপায়ও নেই। এ প্রক্রিয়ায় যাতে আরো বেশি সংখ্যাক শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করা যায়, ডাটা ক্রয় যাতে আরো সহজলভ্য হয় সে বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে।

কিন্তু কথা হচ্ছে এ মহামরীতে আগে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। সরকারের নির্দেশনা মতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছুই আমাদের মেনে চলতে হবে। তাহলেই আমরা ভয়াবহ মহামারী থেকে জিতে যাবো। আর এ পরীক্ষায় জিতে আমরা আবারও নিজেদের আঙ্গিনায়, সেই চির চেনা কলেজ ক্যাম্পাসে ফিরে আসবোই। আঁধার কেটে যাবে,সূর্য আবার উঠবেই।

সরকারের সিদ্ধান্ত মতে কোভিড-১৯ এর পরিস্থিতির উন্নতি হলেই ১৫ দিনের সময় দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে বিধায় পরীক্ষার্থীদের সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। কোন অবস্থাতেই অবহেলা করা যাবে না। সবাই সুস্থ থাকবে,নিরাপদে থাকবে ঘরে থাকবে,লেখাপড়া করবে।


লেখক: অধ্যক্ষ , কর্ণফুলী এ জে চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ , চট্টগ্রাম।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •