বিশেষ প্রতিবেদক:
বিদেশে বিত্ত বৈভবের মাঝে থাকলেও মন পুড়ে দেশের জন্য। নিজের জন্মভূমিতে কষ্টে থাকা মানুষগুলোর জন্য বুকের একদম গভীরে নাড়া দেয়। এই মন পোড়া কিংবা বুকের ভেতরে নাড়া দেয়া কষ্ট লাঘবে আমেরিকার ফ্লোরিডা থেকে ‘ভালোবাসার সহায়তা’ পাঠিয়েছেন একদল মানুষ। দেশ থেকে সুদূরে থাকলেও তাদের হৃদয় জুড়ে রয়েছে দেশের মানুষের জন্য অকৃত্রিম ভালোবাসা। বিশেষ করে নিজেদের শহর চট্টগ্রামের মানুষের জন্য। তাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সহায়তা পাঠিয়েছেন প্রবাসী এই মানুষগুলো।

চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী বলা হলেও করোনাকালে এখানকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নাজুক অবস্থা বেশ চোখে পড়ে। বিশেষ করে অক্সিজেন সাপোর্ট, ভেন্টিলেটর ও আইসিইউ সঙ্কটে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে এখানকার মানুষজনকে। এরই প্রেক্ষিতে ফ্লোরিডার দক্ষিণাংশে বসবাসরত বাংলাদেশী কয়েকজন মানুষ চট্টগ্রামের অক্সিজেন সরবরাহসহ চিকিৎসা ক্ষেত্রে নিজেদের ভূমিকা রাখার উদ্যোগ নেন। প্রখ্যাত শিশু বিশেষজ্ঞ ও অলাভজনক সংস্থা হোপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার ইফতিখার মাহমুদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দ হাশেম এবং প্রকৌশলী মির্জা মোশতাক টিটো এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তারা নিজেরা এবং ভাই বন্ধুসহ আশপাশের বাংলাদেশীদের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে গঠন করেন ২৫ হাজার ডলার বা প্রায় ২২ লাখ টাকার একটি ফান্ড।

এই টাকা থেকে নর্থ আমেরিকার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ অ্যালামনাই এসোসিয়েশনকে দেয়া হয়েছে ১০ হাজার ডলার। যারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাই ফ্লো অঙিজেনসহ কোভিড চিকিৎসার বিভিন্ন কাজে ওই টাকা প্রদান করে। এলামনাই এসোসিয়েশনের সচিব প্রফেসর রুমি আহমেদ পুরো ব্যাপারটি মনিটরিং করেছেন।

দক্ষিণ ফ্লোরিডার ব্যবসায়ীরা নিজেদের ওই তহবিল থেকে ১০ হাজার ৩০০ ডলার দিয়ে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার জন্য ২টি হাই ফ্লো অঙিজেন ন্যাসাল ক্যানুলা এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি প্রদান করেন। প্রফেসর মাহমুদ চৌধুরী আরজু এবং প্রফেসর অলক নন্দি এসব সামগ্রী গ্রহণ করেন। বাকি প্রায় পাঁচ হাজার ডলার প্রদান করা হয়েছে চট্টগ্রাম কিডনি ফাউন্ডেশনকে। ওই টাকা দিয়ে নিষ্ঠা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় চট্টগ্রামে অ্যাম্বুলেন্স ও অঙিজেন সরবরাহ দেয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সামগ্রী কেনায় খরচ করা হবে। ডাক্তার মইনুল ইসলাম মাহমুদ এবং প্রফেসর ইমরান বিন ইউনুস পুরো বিষয়টি সমন্বয় করেছেন।

দক্ষিণ ফ্লোরিডার উদ্যোক্তাদের পক্ষে ডাক্তার ইফতিখার মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ অনেক কষ্টে আছেন। বিষয়টি আমাদেরকেও কষ্ট দিচ্ছে। চিকিৎসা সংকট এত প্রকট হয়ে উঠতে পারে তা কারো ধারণাতেই ছিল না। আমরাও কোনো দিন মনে করিনি প্রিয় স্বদেশ এমন কষ্টে পড়বে। দেশের এই দুঃসময়ে মানুষের পাশে থাকার জন্য আমরা সামান্য চেষ্টা করেছি। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমরা চট্টগ্রামের গরীব লোকজনের জন্য চিকিৎসা কেন্দ্র ও আইসোলেশন সেন্টার করারও পরিকল্পনা করছি। দেশের জন্য কিছু করার তাড়না থেকেই আমাদের এই উদ্যোগ, বলেন ডা. ইফতিখার মাহমুদ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •