মুহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন কাদেরঃ
রামু উপজেলার ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কের হিমছড়ি ঢালায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ডাকাতি হয়েছে।

সোমবার (২৯জুন) আনুমানিক সকাল পৌনে ৭ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ৩ জন যাত্রী ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে ঈদগাঁও থেকে ঈদগড়গামী অটোরিকশাটি হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে ১০/১২ জনের সশস্ত্র ডাকাতদল গতিরোধ করে যাত্রীদের মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় কায়সার (৪৫) নামে এক যাত্রীকে বনের ভেতর নিয়ে মারধর করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অটোরিকশায় থাকা তার স্ত্রী দিলনুর (৪০) ও পুত্রসন্তান আব্দুল্লাহ আল মুনতাসীর (১৫) এর কাছ থেকেও স্বর্ণ সহ মূল্যবান জিনিসপত্র কেড়ে নিয়ে যায় ডাকাতদল।

যাত্রী কায়সার জানান, তাঁর অসুস্থ শাশুড়িকে ডাক্তার দেখানোর জন্য স্ত্রী,পুত্র-সহ তাঁরা কক্সবাজার থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। কক্সবাজার সদর ও রামুর সীমান্ত সড়ক ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ঢালায় পৌছা মাত্র তাদের বহনকরা সিএনজি অটোরিকশাটি থামায় ১০ – ১২ জনের সশস্ত্র ডাকাতদল। তাঁরা যাত্রীদের মারধর করে, মেরে ফেলার হুমকি-ধামকি দিয়ে নগদ ১০ হাজার টাকা ও ৫০হাজার টাকা মূল্যের ৩টি মোবাইল ফোন, ১৫হাজার টাকা দামের স্বর্ণ সহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে নেয়।

কায়সারের অসুস্থ শাশুড়িকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পানের ছড়া ঢালা থেকে কক্সবাজার হতে নিয়ে আসা রিজার্ভ সিএনজি চালিত অটোরিকশাটি আটক করে ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ি’তে নিয়ে আসে, দায়িত্বরত এসআই সেলিম। এ-ব্যাপারে, ঈদগড় আর আর এফ পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিমের নিকট জানতে চাইলে, তিনি জানান, ডাকাতির ঘটনাটি ঈদগাঁও এরিয়ায় ঘটলেও আমাদের কাছে ইনফরমেশন থাকায়, অটোরিকশাটি চালক নেসার(২৭) সহ আটক করি। পরে থাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হলেও তাঁর অটোরিকশাটি আটকে রাখা হয়। এর কারণ জানতে চাইলে, এসআই সেলিম মোবাইল বন্ধ করে দেয় এবং পরে একাধিক বার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অটোরিকশা চালক নেছার(২৭) জানান,
এসআই সেলিম ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী-সহ তাঁকে বেধড়ক মারধর করে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আছে বলে জবানবন্দি দিতে চাপ সৃষ্টি করে। এবং পরে তাঁকে ছেড়ে দিলেও তাঁর গাড়িটি আটকে রেখে মোটা অংকের টাকা দাবি করছে। এখনও পর্যন্ত গাড়িটি ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রাখা হয়েছে।

ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জসিম নিকট জানতে চাইলে; সে এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। সে ছুটিতে আছে। পরে, ওনি কল দিয়ে বলেন, সকাল ৮টার আগে কোনো প্রকার যাতায়াতের বিধিনিষেধ থাকলে তাকে উপেক্ষা করে কিছু অসাধু চালক প্রতিনিয়ত নিয়ম ভঙ্গ করে এহেন অহেতুক ঘটনা ঘটাতে জড়িত সন্দেহে তাকেসহ আটক করা হয়েছে বলে জানান।

ভিকটিম কায়সারের নিকট আত্মীয় সাবেক মেম্বর বেলাল উদ্দিন জানান, কোনো প্রকার কারণ ছাড়া চালকসহ অটোরিকশাটি আটকে রাখার কারণ জানতে চাইলে, এসআই সেলিম ঘাড়ধাক্কা দিয়ে তাঁকে বের করে দেয় এবং নোংরা কথা বার্তা বলে চলে যেতে বলে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •