• ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দীন

চিকিৎসা কার্যক্রম জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেয় কিন্তু এর ফলে নানা বর্জ্য তৈরি হয় এগুলোকে মেডিকেল বর্জ্য বা ক্লিনিক্যাল বর্জ্য বলা হয়।

এসব বর্জ্য পরিবহন এবং ব্যবস্থপনার কাজটি এমনভাবে করতে হবে যেন সংক্রমন না ঘটে এবং পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে।

এটি অব্যবস্থপনার ফলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে।

মেডিকেল বর্জ্যকে প্রাথমিক ভাবে দুভাগে ভাগ করা হয়ঃ

১. সাধারণ বর্জ্য ২.সংক্রামক বর্জ্য

মেডিকেল উৎপাদিত মোট বর্জের সাধারণ বর্জ্য প্রায় ৭৫-৮০℅ থাকে আর সংক্রামক বর্জ্য প্রায় ২৫-২০℅.

যদি এসব সংক্রামক বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থপনা না করা হয় অর্থাৎ সাধারণ আর সংক্রামক বর্জের

আলাদা ভাবে ব্যবস্থা না করা গেলে আমরা চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ব।

তাই আমাদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে মেডিকেল বর্জ্য।

ঢাকা সিটি করপোরেশনের গবেষণা বলছে প্রতিদিন ৩৭০০মেট্রিক টন বর্জ্যের মধ্যে ২০০টন হাসপাতালের বর্জ্য

যার ৪০টন সংক্রমক বর্জ্য। সুত্র(দৈনিক অবজারভার, ২০০০)।

বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাত সহায়তা কর্মসুচি(HSP) কতৃক প্রকাশিত মার্চ/২০১৭ প্রতিবেদনে ২০০৯-২০১৫ সালের

যে সকল স্থাপনা HSP আওতায় পড়েনা তাদের গড়ে প্রায় নয় হাজার টন বিপজ্জনক মেডিকেল বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে।

এটি থেকে সহজেই অনুমেয় মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়িয়েছে।

করোনা সংকটে অনেক জায়গায় অস্থায়ী আইসোলেশন সেন্টার চালু হয়েছে ফলে আমাদের মেডিকেল বর্জ্যের পরিমান

বেড়ে চলছে ফলে এটি ব্যবস্থপনার বিশেষ প্রয়াস চলাতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মেডিক্যাল বর্জ্য গুলোকে নিম্নোক্ত ধরনে ভাগ করেছেনঃ

@সংক্রামকঃ যথেষ্ট পরিমান প্যাথোজেন যুক্ত যা সংক্রমন ঘটাতে সক্ষম যেমনঃ রক্ত,পুজ ইত্যাদি।

@ধারালো বস্তুঃ ডিসপোজেবল সুই,সিরিঞ্জ, করাত,সার্জিক্যাল ব্লেড,ভাঙ্গা কাচ , পেরেক ইত্যাদি।

@ঔষধঃ মেয়াদউর্ত্তীন ঔষধ, অন্যন্য ক্যামিকেল।

@ ডিসপোজাল বর্জ্যঃক্যাথেটার,অক্সিজেন মাস্ক, পিপিই,এনজি টিউব মাস্ক,গাউন গগলস, স্যু কভার, ফেস শিল্ডইত্যাদি।

@অন্যন্যঃ(সাধারণ বর্জ্য) খাবারের উচিষ্ট, প্যাকেট,ইত্যাদি।

মেডিকেল বর্জ্য ( ব্যবস্থপনা ও শোধন) নীতি ২০০৮ অনুযায়ী মেডিকেল বর্জ্যগুলোকে আলাদাভাবে ব্যবস্থপনার

প্রতি গুরত্ব আরোপ করা হয়েছে ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য পরিবার কল্যান মন্ত্রানালায় কতৃক

বর্জ্য ব্যবস্থপনার জন্য ৬টি রংয়ের আলাদা পাত্র রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

এসব মেডিকেল বর্জ্য পৃথকীকরণক খুব বেশি গুরুত্বপুর্ন এক্ষেত্রে হাসপাতালে কর্মরত সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থপনার জন্য নিম্নোক্ত কাজ গুলো করা যেতে পারেঃ

পৃথকীকরনঃকালার কোড অনুযায়ী ময়লা উৎপাদনস্থলে আলাদা করতে হবে।

পরিবহন ঃ বর্জ্য খোলা অবস্থায় পরিবহন করা যাবে না এবং হাসপাতালের নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনে জমা করতে হবে।

ব্যবস্থপনাঃ বর্জ্যের শ্রেণীভেদ অনুযায়ী এগুলো ব্যবস্থপনা করতে হবে।

অনেক সময় দেখা যায় কিছু মুনাফালোভী অসাধু চক্রডিসপোজাল আইটেম যেমনঃ সিরিঞ্জ, স্যালাইন সেট,গাউনএগুলো

ডাম্পিং স্টেশন থেকে চুরি করে আবার বাজারে ছেড়ে দেয় এটি মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়।

সাধারণ বর্জ্যগুলো শুধুমাত্র সঠিকভাবে প্যাকেজিং করে আলাদাভাবে ডাম্পিং করতে হবে।

হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে না করা গেলে সংক্রমন দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে এবং আমরা চরম

স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ব।

এজন্য স্ব স্ব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আইসোলেশন সেন্টার গুলোর বর্জ্য ব্যবস্থপনা চালু করা দরকার।

স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে চলা অপরিহার্য।

আসুন মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করি।

সংক্রমন কমায়।


লেখকঃ ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দীন ,নার্সিং কর্মকর্তা ,২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল কক্সবাজার

সাবেক শিক্ষক, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল নার্সিং কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউট ইমেইল: [email protected]

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •