শামসুল হক শারেক:
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্বাধীনতার ঘোষক রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা সর্বজন বিধিত। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দক্ষিণ চট্টগ্রামের আল জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া মাদ্রাসার অবদানের কথাও স্বীকার করতে হয়।

জানা গেছে, যুদ্ধের সময় তৎকালীন ১নং সেক্টর (চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং ফেনী নদী পর্যন্ত) কমান্ডার মেজর (পরে রাষ্ট্রপতি) জিয়াউর রহমান তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের ট্রান্সমিটারসহ আত্ম রক্ষার জন্য এই মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধারা এই মাদ্রাসায় আশ্রয় নেয়ার খবর পেয়ে পাকিস্তান বাহিনী মাদ্রাসায় বোমা বর্ষণ করেছিল। এতে মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও মোহাদ্দিস মাওলানা দানেশ শহীদ হয়েছিলেন। মাদ্রাসা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তখন। মুক্তি যুদ্ধের সময় এই মাদ্রাসার অবদানের কথা হয়ত মেজর জিয়ার মনেছিল। তাই রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তিনি এই মাদ্রাসার সার্বিক অবস্থা পরিদর্শনে এসেছিলেন।

১৯৭৬-৭৭ সালের ঘটনা। আমি তখন ওই মাদ্রাসার ছাত্র। মাদ্রাসা
পরিচালক ছিলেন মরহুম মাওলানা মুহাম্মদ ইউনুস (প্রকাশ) হাজী সাহেব হুজুর। দিন তারিখ মনে নেই। রেওয়াজ অনুযায়ী একদিন মাদ্রাসা মসজিদে ঘোষণা দেয়া হল রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান মাদ্রাসা পরিদর্শনে আসবেন। মাদ্রাসায় রাষ্ট্রপতি আসবেন অনেক বড় আয়োজন। চলছিল নানা ধরনের প্রস্তুতি।

অন্যান্য আয়োজনের সাথে ব্যানার, ফেস্টুন, গেইট তৈরী ও দেয়ালে নানা শ্লোগান লিখতে হবে। এজন্য যাদের হাতের লেখা সুন্দর তাদের ডাক পড়ল। এদের মধ্যে আমিও বাদ পড়লাম না। ছোট বেলায় বাবার তাগিদে হাতের লেখা সুন্দর করার যেন পুরস্কার পেলাম! ’শুভেচ্ছা স্বাগতম, ‘মেজর জেনারেল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান’ বলে প্রধান গেইটের লেখাটি ছিল আমার। আমাদের টিমে মেধাবী ছাত্র রামুর হাফেজ নুরুল হকও ছিলেন। তিনি ছিলেন আমাদের টিম লিডার, এখন প্রবাসে।

অনুষ্ঠানের দিন রাষ্ট্রপতি জিয়া যথাসময়ে মাদ্রাসায় আসলেন। মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্রদের প্রতি সমীহ দেখালেন। মুক্তিযুদ্ধে এই মাদ্রাসার অবদানের কথা স্মরণ করলেন। বিশেষ করে হাজী সাহেব হুজুরের প্রতি যে ভক্তি শ্রদ্ধা তিনি দেখালেন তা ছিল লক্ষণীয়। হাজী সাহেব হুজুরের পেছনে পেছনে হেঁটে রাষ্ট্রপতি জিয়া ২, ৩ তলা ডিঙ্গিয়ে দারুল হাদিস, দারুত্ তাফসীর ও লাইব্রেরীসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন।

মাঝে মধ্যে হাজী সাহেব হুজুর রাষ্ট্রপতি জিয়াকে তাঁর হাত ধরে এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে নিয়ে গেলেন। সে দিন দুপুরে রাষ্ট্রপতি পটিয়া ডাকবাংলোতে বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে পটিয়া কলেজ মাঠে এক জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপতি জিয়ার সাথে আমার আরো একটি স্মৃতিময় দিনের কথা। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সফর করলেন টেকনাফে। আমি ইতোপূর্বে হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা থেকে দাউরায়ে হাদিস শেষ করি। কাউমী মাদ্রাসায় বাংলা-ইংরেজী আধুনিক পড়া-লেখার ঘাটতি থাকায় তা পূরণের জন্য বাবা জনাব আলহাজ্ব আসায়াদ আলীর ইচ্ছায় টেকনাফ উচ্চবিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণীতে ভর্তি হই।

দাওরায়ে হাদিস পাশ করে ৮ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে আবার এম এ পাশ করা বলতে গেলে এটি ছিল একটি অভাবনীয় ব্যাপার। কিন্তু বাবার ইচ্ছা ও সমর্থন থাকায় আল্লাহর মেহেরবনীতে আমি এতে সফল হয়েছি বলতে পারি। দীর্ঘ সময় দিয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী নেয়ার পাশপাশি সরকারী মাদ্রাসা থেকেও এম এম (মমতাজুল মুহাদ্দিসিন) ডিগ্রী নেয়ার সুযোগ হয়। এতে করে বাংলাদেশে প্রচলিত তিন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার উপর আমার সর্বোচ্চ ডিগ্রী নেয়া হয়।

সেদিন রাষ্ট্রপতি জিয়ার আগমনে টেকনাফে অনেক আয়োজন করা হয়। আয়োজন ছিল হাই স্কুল মাঠে জনসভার, হাইস্কুল মিলনায়তনে যুবদলের সম্মেলন, রাষ্ট্রপতির টেকনাফ উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শন, সউজের রেষ্টহাউজে দলীয় নেতা ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক ও সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তাই রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে সাজাঁনো হয় টেকনাফ উচ্চবিদ্যালয়।

মনে আছে স্কুলের প্রবেশ দ্বারে বড় একটি গেইট করা হয়েছিল। ভেতরে রঙবেরঙ এর অনেক ব্যানার ফেস্টুন করা হয়েছিল। কিন্তু দুপুরের দিকে আমরা জানতে পারলাম স্কুল মিলনায়তনে যুবদলের সম্মেলন ও রাষ্ট্রপতির স্কুল পরিদর্শন বাতিল করা হয়েছে। তার মানে রাষ্ট্রপতি স্কুলে আসবেন না। এতে করে ছাত্র শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষকদের সমর্থন পেয়ে ছাত্ররা ব্যানার ফেস্টুন ছিড়ে ফেলতে লাগল। এক পর্যায়ে গেইটে আগুন ধরিয়ে ছিল কিছু ছাত্র।

ইতোমধ্যেই পাশের মাঠে জনসভা শুরু হয়ে যায়। দুপুর গড়াবার আগেই সেখানে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়। সম্ভবত ২টার দিকে মাঠের উত্তর পাশে নির্মিত মঞ্চে আসেন রাষ্ট্রপতি। এসময় ততকালীন প্রধান শিক্ষক (মরহুম) মমতাজ স্যারের নেতৃত্বে আমরা স্কুলের বিক্ষুব্ধ ছাত্র শিক্ষকদের একটি মিছিল রাষ্টপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য মাঠ ঘুরে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যাই। কিন্তু ভিভিআইপিদের এত প্রটৌকল বা পূর্ব পারমিশন ছাড়া রাষ্ট্রপতির মঞ্চের কাছে ঘেষা যাবে না তা হয়ত কারো জানাছিল না। সিকিউরিটি র্ফোস লাঠি পেটা করে আমাদেরকে ফিরিয়ে দেয়। এতে আমরা আরো ক্ষুব্ধ হলাম।

ওই জনসভায় রাষ্ট্রপতি জিয়ার বক্তব্যের একটি কথা আমার এখনো মনে পড়ে। তিনি টেকনাফ উন্নয়নের অনেক কথার সাথে বলেছিলেন, জনসভার স্থলের কাছের ‘অলীয়াবাদ মসজিদ সংস্কার করে গম্বুজটি এত উচুঁ করা হবে যাতে মিয়ানমারের মংডু থেকে দেখা যায়’।

ইতোমধ্যে জনসভা শেষ করে রাষ্টপতি নাইট্যং এর ঠুঁড়ায় সউজের রেষ্টহাউজে বিশ্রামে চলে যান। আমরা পুলিশের লাঠি পেটা খেয়েও দমে যাইনি। সিদ্ধান্ত হল হেড স্যারের নেতৃত্বে আমরা মিছিল নিয়ে রেষ্ট হাউজে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাত করে নালিশ করব। আমরা শ’খানেক ছাত্র মিছিল করে এগিয়ে গেলাম রেষ্টহাউজের দিকে।

সিকিউরিটি র্ফোস এবং বিএনপি নেতারা বনবিভাগের রেষ্টহাউজের আগেই আমাদের আটকিয়ে দিলেন। (বর্তমান কক্সবাজার জেলা বিএনপি সভাপতি) এমপি শাহজাহান চৌধুরী এবং (মরহুম) জালাল আহমদ চৌধুরী আমাদের জড়িয়ে ধরে আকুতি জানালেন রাষ্ট্রপতির কাছে নালিশ নিয়ে না যেতে। জালাল মিয়া আমাদের কথা দিলেন রাতে নিরিবিলি হোটেলে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে রাষ্ট্রপতির মিটিং আছে। সেখানে তিনি আমাদেরকে রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাত করে দেবেন।

রাতে রাষ্ট্রপতির সাথে কথা বলার জন্য ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঠিক করা হল। আর অমাকে করা হল ওই প্রতিনিধি দলের প্রধান। ৫জনের মধ্যে অলীয়াবাদের দেলোয়ার ও কুলাল পাড়ার ওমর ফারুকের কথা মনে আছে। অন্যদের নাম এখন মনে নেই। নিরিবিলি হোটেলের মালিক সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদির পিতা মরহুম এজাহার মিয়া কোম্পানী ছিলেন তখন বিএনপির একজন বড় নেতা। তাই সেখানে ছিল দলীয় নেতা-কর্মীদের সম্মেলন ও রাষ্ট্রপতির নৈশ ভোজের আয়োজন।

কথা মত রাত সাড়ে আটটায় আমরা হোটেল নিরিবিলির সামনে পৌঁছলাম। কিন্তু নিরিবিলির চার পাশে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ছিল শুয়ে, দাঁড়িয়ে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় নিয়োজিত। এভাবে কয়েকদফা সেনা বেষ্টনী দেখে আমাদের খুবই ভয় লাগছিল। তার পরেও আমরা এগিয়ে গেলাম। ভরসা ছিল জালাল মিয়া ও শাহজাহান চৌধুরীর প্রতিশ্রুতি। এর পরেও ছিল স্কুলছাত্র বলে একটা কথা! এক সেনা অফিসার আমাদেরকে ভয়ার্ত দেখে পরিচয় জেনে, যাওয়ার ইশারা করলে আমরা এগিয়ে যাই।

তখন নিরিবিলি হোটেল ছিল টিন শেড সেমিপাকা ঘর। আমরা সেনা বেষ্টনী পার হয়ে গিয়ে খোঁজা খোঁজি করছিলাম জালাল মিয়া ও শাহজাহান চৌধুরীকে। ওনারা হয়ত তখনো ব্যস্ত ছিলেন। এসময় দেখি রাষ্ট্রপতি জিয়া একেবারে একা দ্রুত পদক্ষেপে এগিয়ে আসছেন। আমরা ওই সুযোগটাকে কাজে লাগালাম। সালাম দিয়ে আমি তাঁর প্রতি দু’হাত বাড়িয়ে দিলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই দু’হাতে আমার দু’হাত ধরলেন। আমার অন্য চার সাথীরাও রাষ্ট্রপতির এক হাতে দু’জন করে মুসাপাহার উদ্দেশ্যে ধরে ফেলে।
আমারা এভাবে তাঁর হাত ধরতে দেখে তিনি প্রথমে বিব্রত বোধ করে চেহারা কাল করে ফেলেন। কিন্তু তাঁর হাতে মুসাপাহা করতে করতে আমি বলতে শুরু করি ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমরা স্কুল ছাত্র। রাষ্ট্রপতির সাথে আমাদের কিছু কথা আছে। জানতাম না যে, একজন রাষ্ট্রপতির সাথে এভাবে কথা বলা যায়না’। আর দেরী নাই তখন শুরু হল এসএসএফ এর মার।
কিন্তু না, রাষ্ট্রপতি তো রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের অভিভাবক। ইতোমধ্যেই তিনি আমাদের বোকামীর কথা বুঝতে পেরেছেন। তাই তিনি নিজেই এসএসএফকে থামিয়ে দিয়ে আমাকে বললেন ‘বাবারা বল তোমাদের কি কথা’। আমি আগের দিনের ঘটনা সংক্ষেপে ৩দফায় রাষ্ট্রপতিকে বললাম। তাঁর জনসভায় পুলিশ আমাদেরকে লাঠিপেটা করেছে। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারের আমরা শাস্তি চাই। আমাদের স্কুলে অর্থাৎ টেকনাফ হাইস্কুলে রাষ্ট্রপতির পদধুলা চাই (অর্থাৎ মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে টেকনাফ হাইস্কুলে যেতে হবে)। আর টেকনাফ হাইস্কুলকে সরকারী করণ করতে হবে।

তিনি শান্তভাবে আমার কথাগুলো শুনছিলেন। এসময় অন্যান সেনা কর্মকর্তা, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতারা সেখানে জড়ো হয়ে যেতে দেখা গেল। এতক্ষণে আমরা বুঝতে পারলাম এভাবে এতক্ষণ রাষ্ট্রপতির হাত ধরে রাখা ঠিক হয়নি। ভয় আর লজ্জা পেয়ে রাষ্ট্রপতির হাত ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক হতে চেষ্টা করলাম আমরা। তখন রাষ্ট্রপতি মুচকি হেসে আমাদেরকে বললেন ‘বাবারা যাও তোমাদের দাবী পুরণ হবে’।
পরের দিন সকালে রাষ্ট্রপতি হেলিকপ্টারে ঢাকা চলে গেলেন। আমাদের মন তখনো খারাপ। কারণ একজন রাষ্ট্রপতির কাছে সরাসরি দাবী জানিয়েও কি হল, না হল নাজানায় মন খারাপ হওয়ারই কথা। এ কারণে আমি সকালে আর স্কুলেই গেলাম না। সকাল সাড়ে এগারটার দিকে স্যাররা আমাকে স্কুলে ডেকে পাঠালেন। গিয়ে দেখি স্কুল ক্যাম্পাসে সমাবেশ শুরু হয়েছে। জালাল মিয়া, এমপি রশিদ মিয়া, (ওনারা দুইজনই এখন নেই, অল্লাহ তাঁদের রহম করুন) এমপি শাহজাহান চৌধুরীসহ অনেক নেতা ও সরকারী কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত।

ওই সমাবেশে আমাকে কক্তৃতা দিতে হল। সম্ভবত রাষ্ট্রপতির নির্দেশে সমাবেশে নেতারা ঘোষণা দিলেন ছাত্রদেরেকে লাঠিপেটা করার সাথে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। স্কুলের উন্নয়নের জন্য ১০ লাখ টাকার অনুদান দেয়া হয়েছে। আর স্কুল সরকারী করণের বিষয়টি রাষ্ট্রপতি বিশেষভাবে বিবেচনা করবেন।

সে দিন যেভাবে টেকনাফ হাইস্কুল সরকারী করণের জন্য রাষ্ট্রপতি জিয়উর রহমানের কাছে আমি দাবী জানিয়েছিলাম সেরকম ঘটনা আমার আর জানানেই। এটি ছিল দেশের একজন রাষ্ট্রপতির কাছে একটি স্কুল সরকারী করণের সরাসরি দাবী। মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়া টেকনাফ হাইস্কুলকে সরকারী করে যেতে পারেননি।

১৯৮১ সালের ৩০ মে, যেদিন চট্টগ্রামে সেনা বিদ্রোহে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইন্তেকাল করেন সেদিন আমি বাল্য বন্ধু বর্তমান সৌদি প্রবাসী মাওলনা আবুল হোসাইনের সাথে মিয়ানমারের মংডু ভ্রমণে গিয়েছিলাম। সেখানেই আমরা রাষ্ট্রপতি জিয়ার মৃত্যুর খবরটি পেলাম। তখন আমার মনে পড়ে জিয়ার সেই কথা- ‘অলীয়াবাদ মসজিদ সংস্কার করে গম্বুজটি এত উচুঁ করা হবে যাতে মিয়ানমারের মংডু থেকে দেখা যায়’।

বর্তমানে রাষ্ট্রপতি জিয়াও নেই, ওই ঘটনার সাক্ষি মরহুম জালাল মিয়া-রশিদ মিয়াও নেই। তখনকার প্রধান শিক্ষক মমতাজ স্যার পরের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক স্যার, মুজহের স্যার, তৈয়ব স্যার, খলিল স্যার ও মাওলানা নুরুল হক স্যার এখন কেউই নেই। মহান আল্লাহ সবাইকে রহম করুন, জান্নাতবাসী করুন।

এখনো সরকারী হয়নি টেকনাফ হাইস্কুল, আর উচু্ঁ হয়নি অলীয়াবাদ জামে মসজিদের মিনার। হ্যাঁ, হয়ত সেদিন আমিও থাকব না, যেদিন টেকনাফ হাইস্কুল সরকারী হবে। অথবা কেউ অলিয়াবাদ মসজিদের মিনারটাও উচুঁ করে দেবেন। তবে আমার এই কথা গুলো ইতিহাস হয়ে থাকবে আশাকরি। ২৯ জুন ২০২০ ইং।

বিশেষ সংবাদদাতা ও কক্সবাজার ব্যুরো প্রধান, দৈনিক ইনকিলাব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •