সিবিএন ডেস্ক :

করোনাভাইরাস এবং ঘূর্ণিঝড় আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত ২৪০০০ কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ বিতরণ করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)।

এই উদ্যোগ দুটি বড় দুর্যোগে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এই দুর্যোগকালীন এই সময়ে তাদের জীবিকা রক্ষা করতে সহযোগিতা করবে।

এফএও এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন বলেন, ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই ২৪০০০ এরও বেশী কৃষকদের মাঝে এই বীজ বিতরণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। খাদ্য উৎপাদনকারীরা করোনা মহামারী ও ঘূর্ণিঝড় এর কারণে অনেক খারাপ সময় পার করছেন।‘

”এফএও জানে যে এই জাতীয় ধাক্কা খাদ্য সুরক্ষা, বিশেষত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে মারাত্মক খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। আমন মৌসুমে সময়মত কৃষকদের মাঝে উচ্চমানের ধানের বীজ সরবরাহ করার মাধ্যমে আমরা তাদের এই কঠিন সময় কাটাতে সহায়তা করছি এবং একই সাথে এটি সবার খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবে।”

ডিএই এবং এফএও কক্সবাজারে উখিয়া এবং টেকনাফ দুটি উপজেলা থেকে এই কৃষকদের বাছাই করেছে। স্থানীয় প্রশাসন, এবং ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিনিধিদের সহায়তায়, ডিএই এবং এফএও এর কর্মীরা প্রতিটি কৃষককে ১০ কেজি করে বীজ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে কৃষকদের সুরক্ষার জন্য ভীড় এড়াতে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও, এর পূর্বে কৃষক-মাঠ স্কুল সহ এফএও এর অন্যান্য কার্যক্রমের আওতাভুক্ত প্রায় ৭০০০ এর মত স্থানীয় কৃষকদের সহায়তা করা হয়েছে। কানাডা এবং সুইডেন সরকার এই জরুরী উদ্যোগের জন্য অর্থায়ন করেছে।

”কৃষি যন্ত্রপাতি, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ সহ নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রধান অংশীদার হিসেবে কক্সবাজারে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কাজ করে আসছে”, বলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কক্সবাজারের উপ-পরিচালক আবুল কাশেম।

উখিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ”খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সব পতিত জমি চাষাবাদে আওতায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার সাথে মিল রেখে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক লক্ষ অর্জনের জন্য এই উদ্যোগ একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ”।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) থেকে ক্রয়কৃত উন্নতমানের ভিত্তি বীজ সংগ্রহ করার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে এফএও এর বিশ্বমানের মান পূরণ করেছে কিনা তা নিশ্চিত কর হয়। এফএও এবং ডিএই কৃষকদের বীজ বপন থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত কৃষকদের দক্ষতা বিকাশ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে।

এফএওর হিসেব অনুসারে বিতরণকৃত বীজ প্রায় ৮,০০০ হেক্টর জমিতে চাষ করা যাবে যা প্রায় ৩৭০০০ টনের মত ধান উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট হবে যা এ অঞ্চলের গড় উৎপাদিত আমন ধানের ছয় ভাগের এক ভাগ।

কক্সবাজারে আনুমানিক ২৩৬০০০ কৃষক পরিবার রয়েছে যারা ৩৯৩৯৮ হেক্টর জমিতে আবাদ করে। অঞ্চলটি চাহিদার চেয়ে বেশী খাদ্য উতপাদন করে, মূলত ধান উতপাদন কারণে। প্রায় ৭০% এর মত ধান-চাষি বর্ষা মৌসুমে আমন ধানের চাষ করেন।

এফএও এর সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা যায় কৃষকরা করোনা মহামারী এবং ঘূর্ণিঝড় আমফানের কারণে উচ্চমানের বীজ কিনতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এরই কারণে এফএও এবং ডিএই এই ধানের বীজ বিতরণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত করেছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে কক্সবাজারে কৃষি সরবরাহের ব্যবস্থা স্থিতিশীল ছিল, যদিও কৃষকরা বাজারে কৃষি পণ্য পরিবহন, শ্রম ঘাটতি এবং কৃষি পণ্যের সরবরাহের অপ্রতুলতা সহ বেশ কয়েকটি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

 


FAO provides rice seed to thousands of farmers affected by COVID-19 and Cyclone Amphan

CBN DESK :

28 June 2020, Cox’s Bazar, Bangladesh – FAO, in partnership with the Department of Agricultural Extension, is distributing rice seed to 24,000 farmers in Cox’s Bazar in response to the coronavirus pandemic and last month’s super cyclone.

The emergency response will provide support for farmers who have been hit hard by the two simultaneous crises, helping to safeguard their livelihoods during a time of need.

“This distribution of rice seed to 24,000 farmers comes at a crucial time. Food producers have been under huge strain, having to deal with the coronavirus pandemic and a cyclone,” said Robert D. Simpson, FAO Representative in Bangladesh.

“FAO knows that shocks such as these can have a drastic effect on food security, especially for vulnerable communities. By providing farmers with high quality rice seed now, in time for the aman season crop, we will be helping them get through this difficult period, as well as provide for the overall population food security needs.”

The DAE and FAO selected farmers from two sub-districts, Ukhiya and Teknaf. Staff from the two organizations, with support from government (Union Parishad) representatives, will provide a 10kg packet of seed to each farmer, plus a hygiene kit,. They will be delivered door to door to ensure maximum safety from COVID-19 transmission. More than 7 000 of the selected beneficiaries have also benefited from other FAO programmes, including farmer field schools.

The Government of Canada, and the Swedish International Development Cooperation Agency (SIDA), funded the emergency initiative.

“FAO has been the key partner of DAE in efforts to enhance food security in Cox’s Bazar through distribution of seeds, agro-machinery, and training thousands of farmers”, said Abul Kashem, Deputy Director, DAE, Cox’s Bazar.

Md. Nikaruzzaman Chowdhury, Ukhiya Upazila Nirbahi Officer (UNO), said: “This is a timely intervention to achieve a Government priority in line with the Prime Minister’s directive to utilize land to increase food production in the district.”

The seed, sourced from the Bangladesh Agriculture Development Cooperation, was inspected in order to ensure that it met FAO’s global standard. FAO and DAE will provide technical support and skills development for the farmers to promote best practices from cultivation until harvest.

FAO estimates that the entire distribution will be enough to plant 8,000 hectares and produce a total yield of 37 000 tonnes – about a sixth of the area’s typical aman rice yield.

Cox’s Bazar has an estimated 236 000 farmer households who cultivate 89 398 hectares. The region produces a surplus of food, mainly because of its rice production. Nearly 70% of rice farmers cultivate aman rice in the monsoon season.

FAO and DAE implemented the rice distribution initiative following a recent FAO study in which farmers said they faced difficulties buying high quality seeds because of COVID-19 and Cyclone Amphan.

The report showed that agricultural supply chains in Cox’s Bazar were stable, although farmers faced a number of challenges including transportation of produce to market, labour shortages, and inadadequate supply of some inputs.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •