রিয়াজ উদ্দিন,পেকুয়া:

পেকুয়ায় মাটি ভরাট কাজ চলছে মগনামা ইউনিয়নের পশ্চিমকুল সড়কে। ঈদগাহ মাঠ থেকে সড়কটি দক্ষিন দিকে বহমান। সেখান থেকে সেকান্দার পাড়া, নুইন্যারপাড়া ও পশ্চিমকুল হয়ে সাতঘর পাড়া স্কুল গোদা পর্যন্ত গিয়ে এর বিস্তৃতি থেমে গেছে। উত্তর মগনামা জেটিঘাট থেকে পশ্চিমকুল হাজি মৌলভী পাড়া পর্যন্ত প্রায় এক কি.মিটার দৈর্ঘ্য গ্রামীন সড়কটি সংস্কার কাজের আওতায় এসেছে। গত এক সপ্তাহ আগে থেকে জনগুরুত্বপুর্ন ওই সড়ক সংস্কার কাজের শুভ সুচনা করা হয়েছে। সুত্র জানায়, সড়কটির নতুন নাম করন করা হয়েছে বৃহত্তর পশ্চিমকুল চেয়ারম্যান সড়ক। সড়কটি মাটি দ্বারা উন্নয়নের জন্য উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম কাজের উদ্যেগ গ্রহন করেন। সড়কটি খানা খন্দকে মানুষের যাতায়ত চরম দুর্ভোগের মধ্যে ছিল। বিশেষ করে সড়কটি প্রায় বিলুপ্তির মধ্যে পতিত হয়। গত কয়েক বছর ধরে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সমুদ্রের পানি অনেকবার লোকালয়ে প্রবেশ করে। সাগরের তীরবর্তী স্থানের গ্রামীন সড়কটি মারাত্বক ঝুকির মধ্যে ছিল। এমনকি পায়ে হেটেও চলাচল করা দুস্কর ছিল। মানুষের দুর্ভোগ ছিল চরমে। ১৯৯৮ সালের দিকে সড়কের পশ্চিমকুল অংশে ব্রিক সলিন দ্বারা সংস্কার কাজও বাস্তবায়ন হয়েছিল। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ওই সময় সড়কটি সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করেছিলেন। তবে ১৯৯৮ সাল থেকে দীর্ঘ সময় সড়কটি সংস্কার বঞ্চিত ছিল। এরই মধ্যে সমুদ্রের পানির তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে বেড়িবাধ বিলীন হয়। বিলীন অংশ দিয়ে সাগরের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। জোয়ারের পানির ধাক্কায় পশ্চিমকুলের ওই সড়কসহ মগনামা ইউনিয়নের আরো একাধিক সড়ক বিলীন হয়। স্থানীয় সুত্র জানায়, স্কুল গোদা থেকে পশ্চিমকুল হয়ে সড়কটি ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত ক্ষতির মধ্যে ছিল। অধিকাংশ স্থানে ইট না থাকায় কাচা সড়কে পরিনত হয়। এমনকি সড়কটির বিপুল অংশ নিচু হয়ে ফসলি জমির সাথে সমান হয়ে যায়। স্থানীয় ইউপির চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম চলতি মাসে সড়কটির সংস্কার কাজ আরম্ভ করেছেন। নিজ অর্থায়ন থেকে মাটি ভরাট কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ট একটি সুত্র জানায়, প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সড়কটির উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। মধ্য মগনামা সাতঘর পাড়ার স্কুল গোদা থেকে সড়কটি মাটি ভরাট হয়ে পৌছবে উত্তর মগনামা জেটিঘাট সংশ্লিষ্ট সেকান্দার পাড়া পর্যন্ত। সাতঘর পাড়া রাহামত উল্লাহ চৌধুরী বাড়ি থেকে ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত কাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয় বাদশাহ, কায়সার, আক্তার আহমদ, রাহামত উল্লাহ, বেলাল উদ্দিন, তসলিমা বেগম, হাজেরা খাতুন, মাবিয়া জানায়, আমরা খুবই খুশি হয়েছি। পশ্চিমকুল হাজি মৌলভী পাড়া,নাপিত পাড়া, নুইন্যার পাড়া, সেকান্দার পাড়া, রাহাত আলী পাড়াসহ আরো কয়েকটি পাড়ার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য এ সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা কষ্টের মধ্যে ছিলাম। চেয়ারম্যানের এ উদ্যেগের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। প্রায় ৩ হাজার মানুষ এর সুফল পাব আমরা। পশ্চিমের বেড়িবাধের বসবাসরত মানুষের যাতায়তের উন্নতিও হবে এ সড়কটির কারনে। সড়কটির সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন হওয়ায় পশ্চিমকুল নুরানী মাদ্রাসা, শেখ আব্দুল আজিজ চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়, মধ্য মগনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরো বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও লাঘব হবে। কলেজ শিক্ষার্থী আনছার, মিজান, হাবিব, শাকের উল্লাহ জানায়, সড়ক সংস্কারের জন্য চেয়ারম্যান উদ্যেগ নেয়ায় আমরা প্রায় ৩ হাজার মানুষ উপকৃত হচ্ছি। দীর্ঘ সময় সংস্কার বঞ্চিত থাকায় আমরা কষ্টের মধ্যে ছিলাম। লবন ব্যবসায়ী আবু তৈয়ব, মোকতার হোসেন, রাহামত উল্লাহ জানায়,আমরা কষ্টে ছিলাম। এখন কাজ আরম্ভ হওয়ায় স্বস্থি পাচ্ছি। চেয়ারম্যানের অর্থায়নে প্রায় এক কি.মিটার রাস্তার মাটি দ্বারা সংস্কার শুরু হয়েছে। সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন হওয়ায় ৬ গ্রামের মানুষের দু:খ লাঘব হবে। আমাদের অভিভাবক চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানায়। ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম জানান, আমি আমার নিজ অর্থায়ন থেকে পশ্চিমকুল সড়কটি সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করছি। প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে কাজ শুরু করেছি। স্কেবেটার দিয়ে প্রতিদিন মাটি দ্বারা সংস্কার কাজ চলছে। এছাড়া প্রতিদিন ৭০জন শ্রমিক এ কাজে সম্পৃক্ত রয়েছে। আগামি এক মাসের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ হবে। প্রস্থ ২৫ফুট সড়কটি দৈর্ঘ্য হবে এক কি.মিটার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •