আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সংবাদ মূল্য বিবেচনায় এখন থেকে যে কোনো পোস্টে ‌‘সম্ভাব্য ক্ষতিকারক’ লেবেল সেঁটে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্টসহ প্ল্যাটফর্মটিতে কীভাবে বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ করা হয় তা উন্নত করার জন্য চাপের মুখে পড়েই ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলো।

বিবিসি এ খবর দিয়ে বলছে, সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টটির বিরুদ্ধে বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নানান অভিযোগ ওঠার পর মোট ৯০টিরও বেশি বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানি তাদের বিজ্ঞাপন প্রদানের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফেসবুক বয়কট করে। এরপর ফেসবুক কর্তৃপক্ষ চাপে পড়েই এমন সিদ্ধান্ত নিল।

শুক্রবার ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জাকারবার্গ এক ফেসবুক লাইভে বলেন, রাজনীতিবিদদের যেসব পোস্ট সংবাদযোগ্য তাতে এখন থেকে ‘সম্ভাব্য ক্ষতিকারক’ লেবেল সেঁটে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের নাম না নিলেও সম্প্রতি ট্রাম্পের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ককে বড় কারণ হিসেবে ভাবা হচ্ছে।

টুইটার কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের উসকানিমূলক টুইটে নিয়মিতই নানা লেবেল সেঁটে দেওয়া শুরু করেছে। বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ও বিদ্বেষ ছড়ানো ছাড়াও নানা কারণে টুইটার তাদের নীতি মেনে এমন কাজ করে থাকে। কিন্তু ফেসবুকের ক্ষেত্রে এমনটা না দেখা যাওয়ায় শুরু হয় বিতর্ক ও সমালোচনা।

ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর বিতর্ক আরও জোরালো হয়। দেশটির নাগরিক সংগঠনগুলো ‘ঘৃণা ছড়ানোর বিনিময়ে মুনাফা বন্ধ করো’ এমন নানা স্লোগানে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। এরপর থেকে বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানিগুলো একে একে বিজ্ঞাপন প্রদান বন্ধ করে দিলে চাপে পড়ে যায় ফেসবুক।

বিজ্ঞাপন প্রদান বয়কট করার এই তালিকায় শুক্রবার যুক্ত হয় বহুজাতিক ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি এবং বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার। যুক্তরাষ্ট্রে ‘মেরুকরণের এই নির্বাচনকালীন সময়কালের’ কথা বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে কোম্পানিটি।

ইউনিলিভার জানায়, ফেসবুক, টুইটার ও ইন্সটাগ্রামে বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, অন্তত ২০২০ সাল পর্যন্ত। ইউনিলিভার এ ঘোষণা দিয়ে বলছে, ‘এই মুহূর্তে এসব প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন প্রদান মানুষ ও সমাজের জন্য মূল্য সংযোজন করে না। তবে প্রয়োজনে আমরা এই বর্তমান অবস্থান পুনর্বিবেচনা করব।’

এদিকে মার্ক জাকারবার্গ শুক্রবার তার ওই বক্তব্যে ফেসবুক থেকে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তার কোম্পানির রেকর্ড তুলে ধরে জানান, চলতি মাসে ইইউ’র তৈরি রিপোর্ট অনুযায়ী গত বছর ৮৬ শতাংশ বিদ্বেষমূলক বক্তব্য মুছে ফেলা হয়, পূর্বের বছর তা ছিল ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •