খলিল চৌধুরী, সৌদি আরব ##

সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী ছুটিতে নিজ দেশে অবস্থান কালীন সময়ে ইকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তার ইকামা রিনিউ হবে না। -সৌদি জাওয়াজাত।

দেশ থেকে সৌদিতে ফিরতে পারবেনা এ প্রসঙ্গে আমাদের বিশ্বাস ও আশাবাদী- যার দেশে আছেন হতাশা বা চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয় পরিবর্তন ও একটা সিদান্ত আসবে। এমনটি প্রত্যাশা সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের।

তারা আশা করছেন, বাংলাদেশ সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দূতাবাস নিজ দায়িত্বে প্রবাসীদের পাশে দাঁড়াবেন।
কারণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে এর কোন বিকল্প নেই।

রিয়াদ-বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে জানা যায়, ছুটিতে বাংলাদেশে যাওয়ার পর যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা শেষ হয়ে যাবে তাদের কে প্যানিকড হওয়ার কোন কারন নেই। ইকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও আপাতত এই নিয়ে দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। এনিয়ে দুশ্চিন্তা করে কিছুই করতে পারবেন না। তাই এই সময়ে দুশ্চিন্তা না করে ধীরস্থীর থেকে নিজেকে সুস্থ রাখারা চেষ্টা করুন।

সৌদি কর্তৃপক্ষ ইতোপূর্বে সব দূতাবাসেই নোটিফিকেশন দিয়ে জানিয়েছে, করোনা পরিস্থিতির শেষের দিকে বহিঃবিশ্বের কর্মীদের কিভাবে সৌদিতে আবার প্রবেশ করতে দিবে তার জন্য তারা প্রসিডিউর ঘোষণা করবে। এখনো কর্মীদের ফিরে আসার বিষয়ে কোন কিছু ঘোষণা করেনি সৌদি সরকার। ততক্ষণ পর্যন্ত সকলকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার অনুরোধ করা যাচ্ছে।

করোনা শেষ হয়েছে মর্মে সৌদি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের আগতব্য কর্মীর জন্য একটি প্রসিডিউর ঘোষণা করবে। তখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্তমানে প্রতিটা রাষ্ট্রই তার প্রায় সর্বশক্তি নিয়োজিত করেছে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি আরবী দৈনিক আল রিয়াদে একটি সংবাদ প্রকাশের পর সৌদি গেজেটে এই সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ করে। যেখানে জাওয়াযাতের টুইটার একাউন্টের মাধ্যমে কাস্টমারের বিভিন্ন প্রশ্নোত্তরের জবাবের রেফারেন্স দিয়ে বলা হয়েছে যে করোনা ভাইরাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রবাসী কর্মীরা ফিরে আসতে পারবেনা। এই খবরকে অনেকে অনেক রং চং লাগিয়ে প্রচার করে বিভ্রান্তি ও আতংক তৈরি করছেন।

একটু লক্ষ করলে দেখবেন আমি যে বক্তব্যটি আরো আগে থেকেই প্রচার করছি সেটা এবং এটা একই কথা। বর্তমান করোনা ভাইরাস এর মহা সংকটকালে অন্য কোন দেশ থেকে নিজ দেশে কাউকে প্রবেশে করাকড়ি আরোপ করা বা সাময়িক স্থগিত রাখাটা বিশ্বের সকল দেশই তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য করছে। এই ভাইরাসের একটা কুল কিনারা করাই এখন সকলের প্রধান লক্ষ। তাই সৌদি আরবের করোনা পরিস্থিতির দিকে সকলকে নজর রাখতে হবে, এবং সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

জাওয়াযাতের এমন আরেকটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আর কিছু আতংক ছরানো হচ্ছে। সেটা হলো সৌদির বাইরে থাকা অবস্থায় ইকামার মেয়াদ শেষ হলে তার ইকামার মেয়াদ বৃদ্ধি হবেনা । যাওয়াযাত টুইটারে সাধারনত এই ধরণের কমেন্ট করে থাকে গ্রাহকের নিম্নোক্ত প্রশ্নের প্রেক্ষিতেঃ
আমি তো বাইরে আছি আমার ইকামার মেয়াদ শেষ এখন কিভাবে বৃদ্ধি করতে হবে?

নিয়ম অনুযায়ী জাওয়াযাত উত্তর দেয় বাইরে থাকা অবস্থায় ইকামার মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাবেনা।

এই জাতীয় কমেন্টকে কেন্দ্র করে অনেকেই প্রচার করছেন দেশে যাওয়ার যাদের ইকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তাদের আর ইকামার মেয়াদ বাড়বেনা। ফলে বিষয়টি করোনার সাথে অনেকেই গুলিয়ে ফেলছেন।

মূলত সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো এমন কোন ঘোষণা দেয়নি যে প্রবাসী কর্মীরা আর ফিরে আসতে পারবেনা। ভিসার মেয়াদ শেষ হোক কিংবা ইকামার মেয়াদ শেষ হোক, এসকল কর্মীরা কিভাবে পূনরায় কাজে যোগ দিতে পারবে তা পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জানাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

এসময়ে আপনার কফিল বা কোম্পানি আপনার ভিসার মেয়াদ বা ইকামার মেয়াদ কোনটাই বৃদ্ধি করতে পারবেন না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •