ফরিদুল আলম দেওয়ান, মহেশখালী:

মহেশখালীর পাহাড়ী এলাকার বাগান বাড়ীর গরুর খামারে স্বশস্ত্র গরু লুটকারি ডাকাত চক্রের সদস্যরা হামলা চালিয়ে খামার পাহারাদার শ্রমিকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৩টি গরু লুট করে নিয়ে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ২৫ জুন দিবাগত রাত অনুমান ৩ টায় মহেশখালী উপজেলার
ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের মিতাইয়্যার ছড়া নামক স্থানে হাবীব উল্লাহ’র মালিকানাধীন খামারে। ওই একই খামারে গরু লুটকারিরা ইতিপূবে অারো দুইবার হামলা করে এবারসহ মোট ২৮টি গরু লুট করে নিয়ে গেছে। ফলে গরু পালনকারি খামারিরা রয়েছে চরম উৎকন্ঠা ও অাতংকে। তারা এখন রাত জেগে খামারে পাহারা বসিয়েছে অান্ত উপজেলা গরু ডাকাত সিন্ডিকেটের কবল থেকে নিজেদের খামার রক্ষা করতে।
খামারবাড়ির মালিক মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম সিরাজুল ইসলাম চেয়ারম্যানের পুত্র হাবীব উল্লাহ জানান, তিনি উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের পাহাড়ী এলাকা মিতাইয়্যার ছড়া নামক স্থানে নিজস্ব জায়গার বাগান বাড়ীতে বিভিন্ন প্রকার বনজ ও ফলদ বাগান সৃজন সহ গরুর খামার তৈরী করে শ্রমিকদের গরু পালন করে অাসছিল। গত ২৫ জুন দিবাগত রাত অনুমান ৩ টার দিকে ১৫/২০ জনের একদল স্বশস্ত্র গরু লুটকারি ট্রলার যোগে মহেশখালী চ্যানেল পাড়ি দিয়ে নদীর পূর্ব পাড় থেকে এসে অামার খামার বাড়ীর ৫ জন পাহারাদারকে হাত পা বেঁধে মারধর করে অস্ত্রের মুখে জিম্মী করে ১৩টি গরু লুট করে ট্রলার ভর্তি করে নদীর পূর্ব পাড়ে নিয়ে যায়। যার মূল্য আনুমানিক ১২ লক্ষ টাকা হবে।

মুদিরছড়া খালের মাছ ধরারত জেলেরা জানান, গভীর রাত্রে মুখোশপরা কিছু লোক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ২টি বড় বড় কাঠের বোট নিয়ে এসে হাবীব উল্লাহর খামারবাড়ির থেকে গরু ডাকাতি করে নাপিতখালীর খাল নিয়ে নিয়ে যেতে তারা দেখেছে।

খামার মালিক হাবিব উল্লাহ চরম উৎকন্ঠা নিয়ে জানান, মহেশখালীর পাহাড়ি এলাকায় সামাজিক বনায়নের পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি পালন করে মহেশখালীর মানুষকে স্বাবলম্বী হতে উদ্বুদ্ধ করতে এ খামার করেছিলাম। এ খামারে ইতিপূর্বে প্রথম দফায় ২০১৮ সালে গরু লুটকারিরা হামরা করে ৮টি গরু, ২ টি ছাগল, বেশ কিছু টার্কি মুরগী লুট করে নিয়ে যায়। দ্বিতীয় দফায় ২০১৯ সালে ৭টি গরু, ১টি ছাগল লুট করে। সর্ব শেষ গতকাল ২৬ জুন তৃতীয় দফায় অাবারও হামলা করে ১৩ টি গরু নিয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করে জানান, এটি একটি শক্তিশালী ন্ত উপজেলা গরু লুটপাটকারি সংঘবদ্ধ চক্র। মহেশখালী,চকরিয়া,ককসবাজার সদর ও বদরখালী এলাকার লোকজন নিয়ে গঠিত এ চক্রে প্রভাবশালী নেতাদেরও আশ্রয় পশ্রয় রয়েছে। এ ভাবে সাগরের ওপার থেকে রাতে ট্রলার নিয়ে সংঘবদ্ধ ভাবে খামার হামলা করে গরু লুটে নিয়ে গেলে খামারিরা সর্বশান্ত হয়ে যাবে। তাই তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।