মুহাম্মদ ওমর ফারুকঃ
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ভেওলা পোড়া মাতামুহুরী খালের অবৈধ দখল মুক্ত ও নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদে স্থানীয়দের আন্দোলন অব্যাহত।

জনমত গঠন ও আন্দোলনের পাশাপাশি ইতোমধ্যে গণস্বাক্ষর গ্রহণ কর্মসুচীও পালন করা হয়েছে।
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে স্বপ্নচারী একদল তরুণ- যুবক।
তারা এ বিষয়ে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা ও উর্ধতন প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জানা যায়, প্রবাহমান মাতামুহুরী নদীর শাখা উপ-শাখা খাল ও নদের একটি হল পোঁড়া মাতামুহুরী খাল। যাহা ভেওলা বেতুয়াবাজার পয়েন্ট হয়ে দক্ষিণ- পশ্চিম দিক হয়ে বুড়া মুহুরীর নদীর সাথে মিশে গেছে।

পূর্ব বড় ভেওলা ও ভেওলা মানিক চর এই দুই ইউনিয়ন কে পৃথক করেছে এই পোঁড়া মাতামুহুরী খাল। প্রমত্তা এই নদে এককালে জোয়ার ভাটা ছিল। নৌকা সাম্পান চলাচল করত।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে এক সময় পোড়া মাতামুহুরী খালটি মাতামুহরী নদীর একটি শাখা অংশ ছিল। খরস্রোতা এ শাখা খালটি সে সময়ের রূপ এখন আর নেই। ক্রমান্বয়ে ভরাটে আর দখলে- বেদখলে জীর্ণ শীর্ণ হয়ে পড়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী এই নদের নাম ‘পোড়া মাতামুহুরী খাল’ যা ভেওলা মানিকচর মৌজার ৬ নং সিটের ৬ নং খতিয়ানের বিএস দাগের ৫৭৫৯ এ অন্তর্ভুক্ত। যাহা পানি উন্নয়ন বোর্ড (ওয়াপদা)র অধীনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সম্পদ।

পোড়া মাতামুহুরী খালের এখন আর জৌলুশ নেই। পানি চলাচলের স্রোতধারাও নেই। পোড়া মাতামুহুরীর বুকে এখন বিস্তীর্ণ লোকালয় আর জনবসতি।
এক সময় এই খালের প্রস্থ ছিল ১৫০ থেকে ২০০ ফুট। এখন, কোথাও তা ১০ ফুট আবার কোথাও ৫ ফুটে নেমে এসেছে। যাহা এখন ভাটির দিকে ছড়া খালের মত থাকলেও উজানে শুধু সরু হয়ে পয়ঃনিষ্কাশনের নালা হিসেবে আছে।

পূর্ব বড় ভেওলা ও ভেওলা মানিক চর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের পানি নিঃসরণের একমাত্র এ পথ এই পোড়া মাতামুহুরী খাল।খালটি অনেক আগেই নামে বেনামে দখল হয়ে গেছে। কালের পরিক্রমায় প্রমত্তা পোড়া মাতামুহুরী খাল এখন শুধু রূপকথার গল্প মাত্র।

পোড়া মাতামহুরী খালটি এখন ভরাট ও দখলের ভার সইতে না পেরে হালকা বর্ষণেই আশপাশ এলাকায় জলমগ্ন হয়ে থৈ থৈ পানিতে হয়ে যায় টইটম্বুর। সেই সাথে বেড়ে যায় স্থানীয়দের জনদুর্ভোগ।

কেবল স্থানীয়রা খাল দখল করতেছে তা নয় ; দখলে প্রতিযোগিতায় নেমেছে ভিন্ন ইউনিয়নের কতিপয় খাল খেকো ও ভূমি দস্যুরাও।
তবে বেশীর ভাগ দখলে করে নিয়েছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। তাই এই স্বার্থান্বেষী চক্রটি খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নানা ধরনের চল-চাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছেন বলে অনেকেই অভিযোগ করেন।

ইতোমধ্যে, খালের অবৈধ দখল হওয়া ও নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদের স্বপক্ষে জনমত গঠন ও গণস্বাক্ষর গ্রহণ কর্মসুচী পালন করা হয়।

গত ২২ জুন এই কর্মসুচীতে সংগৃহীত গণস্বাক্ষর সন্নিবেশিত করে এলাকার সচেতন জনসাধারণ ও যুবসমাজের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক কক্সবাজার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চকরিয়া বরাবর স্মারকলিপি প্রদান হয়। পূর্ব বড় ভেওলা ও বি, এম চর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দ্বয়কেও এর অনুলিপি দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরে ই-মেইল যোগে স্মারকলিপি প্রেরণ করা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •