-সিরাজুল কাদের

জন্ম-মৃত্যুর এই কাল পরিক্রমায় কত আয়োজন, কত স্বপ্ন এবং কত দিক পরিবর্তনের ছড়াছড়ি আর আশা-ভরসার ছন্দপতন মানুষকে আরো বেশী উদগ্রীব করে তুলে নতুনত্বের সিঁড়িতে আরোহন করার জন্য। সমান তালে বসুন্ধরার নিয়মে আমরা এগিয়ে যায় কেউ দ্রুতগতিতে আবার কেউ বা শ্লথ গতিতে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সাধ্যের মধ্যে একটি ট্র্যাক সৃষ্টি হয় যা মানব জীবনের এক চলমান প্রক্রিয়া। আর এই ট্র্যাক সৃষ্টি বলি বা স্বপ্ন রচনা বা আশার নব দিগন্ত যাই বলিনা কেন?

সবকিছুর নেপথ্যে একজন কারিগরের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং দিক নিদের্শনা থাকে তিনি অনেক সময় সমাজের এক আনসাং হিরু হয়ে পর্দার অন্তরালে প্রোলোগ দিয়ে দিয়ে শিশুকাল থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত একজন শিশুকে মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার জন্য অতি মানবীয় ভূমিকা পালন করে থাকেন। এই অতি মানব কে হতে পারেন?? আরে…! আমার হৃদয়ের অন্তকোণে তো এক অদৃশ্য ঝড় বয়ে যাচ্ছে, দুমডে মুছডে বুকের মাঝখানে এক প্রবল চাপ অনুভূত হচ্ছে; ভিতরে ঝড় এবং বুকের ভিতর চাপের ক্রিয়া আন্ত:ক্রিয়াতে অশ্রু সজল নয়ন কেবল চারদিকে আবছা অন্ধকারে হেরে যায় যখন সকল স্বার্থের উর্ধ্বে থাকা এই নেপথ্য কারিগরের নাম বা উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি তিনি আর কেউ নন তিনি আমার এবং আপনার প্রাণ প্রতীম “বাবা”!

কথিত আছে যে আমেরিকার ডড সাহেব ১৯১০ সালে মা দিবসের পাশাপাশি বাবা দিবসের স্বীকৃতি অর্জনের জন্য আমেরিকার ওয়াশিংটনে ডডের নিজ শহর স্পোকানে কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন একযোগে বাবা দিবস পালন করে এর পরিক্রমায় পরবর্তীতে ১৯১৬ সালে আমেরিকার প্রেসিডন্ট উড্রো উইলসন এতে স্বীকৃতি প্রদান করে এর পর থেকে প্রতি বছর জুনের তৃতীয় রোববার কে বাবা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আর আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার রংগিন জগত এবং মার্কেটিং কোম্পানীগুলো এই দিবস প্রমোশনের ক্ষেত্রে হুমডি খেয়ে পড়ে! এইসব কর্মকান্ড দৃশ্যমান হলে আমার মনে কেমন জানি প্রথম বাক্য এভাবে চলে আসে, “ আরে ধুর!” মা বাবার জন্য আবার আলাদা কিসের দিবস….?!

যিনি বা যারা জগত সংসার দেখানো এক ক্ষিপ্র ঘোড়ার উপড় সওয়ার হয়ে দিন রাতকে উপেক্ষা করে দুর্গম কন্টাকীর্ণ পথ অতিক্রম করে রুজি-রোজগারের বাজার তন্ন তন্ন করে সন্তান-সন্ততির সকল চাওয়া পাওয়াতে নিজের শান্তি খুঁজে পাওয়ার প্রচেষ্টাতে ছিলেন নিরবধি তার জন্য আবার শুধুমাত্র একটা দিন; উদযাপনের জন্য….! আবেগ-উচ্ছ্বাসহীন শহুরে জীবনের ছাদে বেষ্টিত, যান্ত্রিকতার করাল থাবায় দংশিত এবং স্বার্থপরতাতে আবর্তিত এই দিবসের শামিয়ানাগুলো কল্পনাতে কেমন মলিন এবং ধুসর বর্ণ ধারন করে অনুমান করলে বুঝা যায়…!!কেননা আমরা পল্লী মায়ের কাঁদামাটিতে প্রতিনিয়ত পিতা-মাতার আদর ভালবাসাতে সিক্ত হয়ে তাদের কোমল পরশে, আবেগ এবং সামাজিক সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বেডে উঠেছি এই কারনে ঘটা করে বছরে একদিন বাবা দিবস পালন করা আমাদের জন্য ব্যাঙয়ের সর্দি মনে হয়।

তাই দিনপন্জীর প্রতিটি রংগিন প্রভাতের আলোকচ্ছটায় আলোকময় হয়ে উঠুক আমার সহ সকলের বাবার জীবনের প্রতিটি ক্ষণ এবং মূহুর্ত মহান রাব্বুল ইজ্জতের দরবারে এই দোয়া “রাব্বীর হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানী সাগীরা”
বাংলা অর্থ : হে পালনকর্তা, তাদের(মা-বাবা) উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমনিভাবে তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।
(সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত-২৪)

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •