খলিল চৌধুরী, সৌদি আরব##
সৌদি আরবজুড়ে কারফিউ তুলে নেয়া হয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে রবিবার (২১জুন) সকাল ৬ টা থেকে কারফিউ প্রত্যাহার হলো। সেই সাথে সবধরণের বানিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের উপর হতে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে।
ফলে পূর্বের মতোই ২৪ ঘন্টা নিজ শহরে চলাচল কিংবা এক অঞ্চল/ শহর হতে অন্য অঞ্চল/ শহরে যাতায়াতে আর কোন বাধা রইলেনা না।
তবে এসময়ে কার্যক্রম পরিচালনা ও চলাচলে কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে।
* কোন ধরণের জমায়েত ও ভির তৈরি করা যাবেনা।
* ঘর থেকে বের হলে মাস্ক পরিধান করে থাকতে হবে এবং অন্যের সাথে দুই মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
* প্রতিটি সেক্টরে যে সমস্ত নিরাপত্তা প্রটোকল ঘোষণা করা হয়েছে তা মেনে চলতে হবে।

রিয়াদ-বাংলাদেশ দূর্তাবাস:
প্রিয় প্রবাসীদের খোলা চিঠিতে, কারফিউ উঠে গেলেও করোনা উঠে যায়নি। বরং দিন দিন করোনা আরো ভয়ংকর হয়ে উঠছে । আপনি কি জানেন সৌদি আরবে এই পর্যন্ত করোনায় ৩৭৫ জন বাংলাদেশী মারা গেছে? আপনি কি জানেন, অন্যান্য বছরে সারা বছর মিলিয়ে যেখানে ৯০০-১০০০ প্রবাসী বাংলাদেশী মারা যায় রিয়াদ দূতাবাসের অধিক্ষেত্রে (রিয়াদ, আল কাসিম, হায়েল, আল জৌফ, পূর্বাঞ্চল, নর্দান বর্ডার) এবছর সেটা জুন মাস না পেরুতেই ১০০০ ছাড়িয়ে গেছে? এবং এই মৃত্যুহার রিয়াদ, দাম্মামের মতো বড় বড় সিটিগুলোতেই বেশি।
আপনি যদি এখনো সচেতন না হোন আর কবে? প্রিয় প্রবাসী আপনিই আপনার পরিবারের সব। দয়া করে সচেতন হোন, কোনমতে জীবনটাকে টিকিয়ে রাখুন। কারফিউ উঠে গেছে বলে অযথা আড্ডাবাজী, ঘুরাঘুরি বাদ দিন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন, দূরত্ব বজায় রাখুন।

এসময়ে কেউ ঘড়ের বাইরে মাস্ক ছাড়া বের হলে, অপরের সাথে দুই মিটার দূরত্ব বজিয়ে না চললে, তাপ মাত্রা মাপতে বাধা দিলে, কিংবা তাপ মাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি থাকা অবস্থায় নিরাপদে না থেকে আইন ভংগ করলে এক হাজার রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে এবং নিজ দেশে ডিপোর্ট (তারহীল) করে দেয়া হবে।

পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত উমরা, ও রাসুল সাঃ এর রাওজা মোবারক যিয়ারাত বন্ধ থাকবে। সকল সীমান্ত ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকবে।

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সেলুন গুলিও আজ থেকে খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে মিউনিসিপাল মিনিস্ট্রি। শুধু মাত্র চুল-দাড়ি কাঁটার জন্য সেলুন খোলা যাবে। শরীর মাসাজ বা অন্য কোন সার্ভিসের জন্য নয়। তবে এর জন্য কিছু হেলথ প্রটোকল মেনে চলতে হবে।
১। সম্ভব হলে কাস্টমারকে এপয়েন্টমেন্ট দিবে।
২। কাস্টমারকে সেলুনের ভেতরে অপেক্ষমান না রেখে বাইরে অপেক্ষমান রাখবে।
৩। সেলুন কর্মী নিয়মিত সাবান ও গরম পানিতে হাত ধৌত করবে।
৪। এসময়ে সেলুনে কোন মূল্য ছাড় দেয়া যাবেনা।
৫। প্রতি কাস্টমারের জন্য নতুন নতুন যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে।
৬। সেলুন খোলার আগে সুন্দর করে সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থা চেক করে ভাল করে পরিষ্কার করে নিবে। প্রতি দুই ঘন্টা পরপর সেলুনের মেঝে পরিষ্কার করবে।
৭। একজন কাস্টমারের চুল একজন কর্মিই কাটবে, একাধিক জন নয়।
৮। মাস্ক, গ্লাভস, হ্যাড স্কার্ফ, ফেইস শিল্ড, বডি কভার সহ যাবতীয় নিরাপত্তামূলক পরিধেয় পরে কর্মী কাজ করবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •