ডেস্ক রিপোর্ট:

হোটেল সি প্রিন্সেসে স্থাপিত ২০০ ষয্যা বিশিষ্ট কক্সবাজার আইসোলেশন সেন্টারের কার্যক্রমের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টায় জুম কনফারেন্সের মাধ্যমে এ সভা অনুষ্ঠিাত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ও কক্সবাজার জেলা করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কমিটির সমন্বয়ক হেলাল উদ্দিন আহমেদ।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন অফিসের ব্যবস্থাপনায় এবং কক্সবাজারে কর্মরত বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থার (এনজিও) সহযোগিতায় স্থাপিত কক্সবাজার আইসোলেসন সেন্টারের কার্যক্রমের সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনার জন্য এ অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় উপস্থিত থেকে বিভিন্ন পরামর্শ ও দিকনিদেশনা দেন কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু মুরশেদ চৌধুরী, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু তাহের, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস কানিজ ফাতেমা, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম, মহেশাখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সারোয়ার কমল, সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মাহবুবুর রহমান, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন সহ করোনা নিয়ে একান্তভাবে কাজ করে যাওয়া ব্যবক্তিবর্গগণ।

সভায় বক্তারা বলেন, কক্সবাজারে বর্তমানে যে করোনা রোগী রয়েছে এবং আগামীতে তে যে পরিমাণে করোনা রোগীর সংখ্যা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে তাতে করে কক্সবাজারে এ আইসোলেশন সেন্টার একটি সময়পোযোগী উদ্যোগ। কক্সবাজারে আরো আইসোলেশন সেন্টার দরকার হবে বলে আমরা এাঁ নিয়ে কাজ করছি।

বক্তারা বলেন, পর্যায়ক্রমে কক্সবাজারের সকল বেসরকারী হাসপাতাল ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোকে আইসোলেশন সেন্টারে রুপান্তর করা হবে করোনা চিকিৎসায় কক্সবাজার রোল মডেল হবে।

সভায় কক্সবাজারের করোনা চিকিৎসার সার্বিক দিক আলোকপাত করে কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাইমুম সারোয়ার কমল বলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় করোনা মহামারী মোকাবেলায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু কিছু বিরোধী মনোভাবের মানুষ ঘরে বসে থেকে মাঠ পর্যায়ে কোন কাজ না করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। যা খুবই দুঃজনক। আপনারা আসুন রাজনীতি ভুলে গিয়ে একসাথে জনগণের সেবা করি। দয়া করে ঘরে বসে থেকে জনগণকে মিভ্রান্ত করবেন না।’

এখানে উল্লেখ্য যে, কক্সবাজার আইসোলেশন সেন্টারে কক্সবাজার জেলায় বিশেষত সদরে বসবাসরত কোভিড ১৯ পজিটিভ উপসর্গহীন বা স্বল্প উপসর্গ আছে এমন রোগীদের পরিবার তথা সমাজ থেকে আলাদা রাখার উদ্দেশ্যে এবং যারা পরিবার থেকে আলাদা থাকেন তাদের চিকিৎসাসহ সার্বিক সেবা নিশ্চিত করা হবে। ‘কক্সবাজার আইসোলেশন সেন্টার’ এর নূন্যতম ব্যয় (দৈনিক ৫০০/- হারে) রোগীকে বহন করতে হবে। পরিবহন (অ্যাম্বুলেন্স), খাবার, বেসিক চিকিৎসা সেবা সেন্টার বহন করবে। বিশেষ ঔষধ বা সেবার ব্যয় রোগীকে বহন করতে হবে। তবে অর্থিকভাবে অস্বচ্ছল রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা প্রদান করা হবে। অস্বচ্ছল রোগীর বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার বরাবরে লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

কক্সবাজার আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি হবার জন্য হটলাইনে (০১৭৯৪৩০৫১৪১) যোগাযোগ করে পূর্বে থেকে সিরিয়াল নিতে হবে। ইমারজেন্সি বা মুমূর্ষু রোগী ভর্তির সুযোগ থাকবে না। এছাড়া কোন ভর্তিকৃত রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে তাৎক্ষণিক অক্সিজেন সরবরাহসহ চিকিৎসা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা থাকবে এবং দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হবে। কোন উপসর্গ না থাকলে স্যাম্পল প্রদানের দিন হতে সর্বোচ্চ ১৪ দিন পর্যন্ত এখানে অবস্থান করতে পারবেন। এ আইসোলেশন সেন্টারে কোন ফলোআপ স্যাম্পল সংগ্রহ করার ব্যবস্থা থাকবে না এবং সময়ের সাথে এ সেন্টারকে কোভিড ১৯ এর পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা থাকবে।

হোটেল সি প্রিন্সেস এ স্থাপিত এ আইসোলেশন সেন্টারে যে সকল এনজিও আর্থিক ও বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্যে একটি হেকস্/ইপার। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এ আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তা শরীফুজ্জামান বলেন, কক্সবাজার আইসোলেশন সেন্টারে চিকিসাধীন রোগী ও সেবাদানকারী ডাক্তার, নার্স ও ক্লিনারদের কাপড় ধোয়ার জন্য হেকস্/ইপারের পক্ষ থেকে লন্ড্রি স্থাপন করা হয়েছে যেখানে তিনটি ওয়াশিং মেশিন রয়েছে। বর্জ্যব্যবস্থাপনার জন্য প্রত্যেক রুমে প্যাডেল বিন দিয়েছি এবং এ আইসোলেশন সেন্টারে যেসকল ডাক্তার, নার্স ও ক্লিনার কাজ করবেন তাদের সংক্রমণ, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া হেকস্/ইপার উখিয়া, টেকনাফ, রামু, চকরিয়া ও মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ লন্ড্রি স্থাপন ও বিন সরবরাহ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ও কক্সবাজার জেলা করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কমিটির সমন্বয়ক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ আইসোলেশন সেন্টার যাতে দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনা করা যায় সে বিষয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। আমরা সবাই মিলে যেভাবে টিম ওয়ার্ক করে যাচ্ছি এ টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে কক্সবাজার বাসীর জন্য করোনার আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব এবং সেবা প্রদানের মাধ্যমেই কক্সবাজার বাসীর আস্থা অর্জন করা সম্ভব হবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •